দুর্গাপুর মহকুমা শাসকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ বিধায়কের, বিধানসভায় ও মুখ্যমন্ত্রীকে জানাবেন

0
1883

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- সারা রাজ্যে চলছে লকডাউন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের ভয়ে মানুষজন গৃহবন্দি হয়ে রয়েছেন সারাদেশ জুড়ে। বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, সমাজসেবী সংগঠন, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের ছোট-বড় বেশ কিছু সংস্থা ইতিমধ্যেই দুঃস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার নিয়ে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ইতিমধ্যেই তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে দান করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলে।

এমনই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রাখলেন দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় মহাশয়। ইতিমধ্যেই তিনি তাঁর বিধায়ক তহবিল থেকে, তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রে কোভিড ১৯ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ (হাসপাতালের উন্নতি, এলাকা স্যানিটাইজিং প্রভৃতি) ও বিপন্ন দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের খাদ্যদ্রব্যের ব্যবস্থা করার জন্য মোট ৬০ লক্ষ টাকা দিতে পশ্চিম বর্ধমান জেলার জেলা শাসক, দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক, দুর্গাপুর নগর নিগমের মেয়র, কাঁকসার বিডিও প্রমুখকে নিয়ম মেনে চিঠি দেন ও পরে সে ব্যাপারে সরকারি ভাবে লিখিত তদারকিও করেন।

দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় পরে তিনি দুর্গাপুরের কোভিড ১৯ নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতি ও আসানসোলের সন্দেহজনক কোভিড আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তির দেহ তাঁর এলাকায় পৌঁছে দিতে গিয়ে রহস্যময় ভাবে মৃত দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর ড্রাইভার কাশীনাথ মাহাতোর ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে ও দুর্গাপুরের বহু বিপন্ন মানুষের হাতে সরকারের দাবি করা খাদ্যদ্রব্য পৌঁছোচ্ছে না বলে যে অভিযোগ পেয়েছেন, সে ব্যাপারে কথা বলতে দুর্গাপুরের মহকুমা শাসকের সাথে দেখা করতে চান। কিন্তু অবাক করার বিষয় দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক অনির্বাণ কোলে বিধায়কের সাথে দেখা করতে অস্বীকার করেন।

অথচ তার পরে সেই দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক অনির্বাণ কোলে, ১৩ এপ্রিল (সোমবার) দুর্গাপুর পুরসভার তৃণমূলী কাউন্সিলরদের সাথে মৃত ড্রাইভার কাশীনাথ মাহাতোর ইস্যুতে বৈঠক করেন বলে অভিযোগ করেন বিধায়ক। সেই খবর অনেক মিডিয়ায় ছবিসহ প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিধায়ক। গোটা ঘটনায় বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও অপমানিত বোধ করেছেন। দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় ‘এই বাংলায়’ কে জানিয়েছেন বিধানসভায় ও মুখ্যমন্ত্রীকে এ বিষয়ে যথাসময়ে জানাবেন এবং মহকুমা শাসক অনির্বাণ কোলের এই আচরণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, নাকি রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুসারে তিনি এই কাজ করার ধৃষ্টতা দেখাতে পারেন, এটা জানতে চাইবেন।

দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় পরে দুর্গাপুর থানার মারফত দুর্গাপুর আসানসোল পুলিশ কমিশনার কে অনুরোধ করেন মৃত দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর ড্রাইভার কাশীনাথ মাহাতোর এই মৃত্যুর ঘটনাটিকে যথাযথ ভাবে তদন্ত করে জনসমক্ষে আনার জন্য। কি কারণে হঠাৎ তার মৃত্যু তা পরিষ্কার নয় জনসাধারণের কাছে।

দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় যে শুধু যে তাঁর বিধায়ক তহবিল থেকে ৬০,০০,০০০ (ষাট লক্ষ) টাকা কোভিড ১৯ নিয়ন্ত্রণে বরাদ্দ করেছেন, তাইই নয়, একজন অবসরপ্রাপ্ত ইস্পাত শ্রমিক হিসেবে, তাঁর নিজের অবসরের সময় পাওয়া অর্থ থেকে তাঁর সাধ্যমতো ৬০,০০০ (ষাট হাজার) টাকার চাল কিনে তিনি তাঁর নির্বাচিত বিধানসভা কেন্দ্র দুর্গাপুর পূর্ব ও তাঁর বাসস্থান এলাকা দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের বিপন্ন মানুষের হাতেও তিনি তুলে দিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here