আসানসোলের কুলটিতে মা কালী পূজিত হন তাঁর সাদা রূপে

0
385

সংবাদদাতা,কুলটিঃ- শক্তি উপাসকদের দেবী মা কালী। কালো বর্ণের জন্য মায়ের আরেক নাম শ্যামা। যদিও সাধাক কমলাকান্ত তাঁর গানে বলেছেন শ্যামা মা শুধু কালোই নয় (শ্যামা মা কি আমার কালো রে)। তিনি মাকে কখনো শ্বেত, কখনো পিত, কখনো নীল ও লোহিত বলে বর্ণনা করেছেন। আবার জনৈক ভক্তের প্রশ্ন মা কালো কেন’র উত্তরে ঠাকুর রামকৃষ্ণ বলেছিলেন- “দূরে তাই কালো, জানতে পারলে কালো নয়।”

শক্তিরূপিনী মা কালীর কালো মূর্তিই সাধারণত পূজিত হয় বা দেখতে পাওয়া যায়। তবে মায়ের একটি সাদা রূপও আছে। ফলহারিণী কালী। যে রূপে মা সারদাকে পুজো করেছিলেন স্বয়ং শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব। পশ্চিম বর্ধমানের কুলটিতে মা এই সাদা রূপেই পূজিত হয়ে আসছেন। কুলটি বিধানসভার অন্তর্গত-১৭ নম্বর ওয়ার্ডের লালবাজারে এক ভক্তের বাড়িতে মা এইরূপেই অধিষ্ঠিত। এখানে মায়ের এই রূপে প্রতিষ্ঠা হওয়ার পিছনে রয়েছে স্বপ্নাদেশের ঘটনা।

এলাকার বাসিন্দা মধুময় ঘোষ কালী সাধক হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন মায়ের সাধনা ও আধারনা করার পর তিনি ফলহারিণী কালীর স্বপ্নাদেশ পান তাকে প্রতিষ্ঠা করে পুজো করার জন্য। এরপরই বাঁকুড়ার শুশুনিয়া পাহাড় থেকে শিলা এনে সেই শিলা দিয়ে মূর্তি বানিয়ে মাকে প্রতিষ্ঠা করেন মধু ঘোষ। যদিও মধুবাবুর দাবি মা প্রতিষ্ঠা হয়েই ছিলেন, তিনি শুধু তাকে নির্দেশিত কাজটুকুই করেছেন। নিত্যপূজার পাশাপাশি জৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা বা ফলহারিণী অমাবস্যার দিন মায়ের বিশেষ বার্ষিকী পুজো হয় ধুমধাম করে। তবে কালীপুজোর দিন অর্থাৎ কার্তিক অমাবস্যাতেও আশেপাশের বহু মানুষ ভিড় জমান পুজো দেওয়ার জন্য।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন মায়ের এই রূপ সচারচর দেখতে পাওয়া যায় না। পুরো পশ্চিম বর্ধমান জেলাতে মায়ের এই রূপ আর কোথাও নেই বলেই তাদের অনুমান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here