মাকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ছেলে

0
556

সংবাদদাতা, বর্ধমানঃ- মাকে খুনের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ভাতার থানার পুলিশ। ধৃতের নাম মঙ্গল। ভাতার থানার দাওডাঙ্গায় তার বাড়ি। রবিবার রাতে ভাতার থানার জামবনি এয়ারপোর্ট থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। সোমবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয় । মঙ্গল মাকে খুন করার কথা কবুল করেছে বলে পুলিশের দাবি। খুনের জন্য ব্যবহৃত লোহার রড উদ্ধারের জন্য এবং ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য তদন্তকারী অফিসার স্নেহাশীষ চৌধুরী ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানান। সেই আবেদন মঞ্জুর করেন সি জে এম রতন কুমার গুপ্ত।

পুলিশ সূত্র থেকে জানা গেছে গত ২৩ শে মে সকালে দাওডাঙ্গায় বাড়ির উঠোনে লক্ষী মুর্মু {৫১}পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের লোকজন। তার বাগানের পাশে আঘাতের চিহ্ন ছিল। সেখান থেকে রক্তপাত হয়। তাকে ভাতার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার কথা লিখিতভাবে থানায় জানান ভাতার হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার কৌশিক বিশ্বাস। তার ভিত্তিতে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা হয় । ময়নাতদন্তের রিপোর্টে কিছু আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক স্টেট মেডিসিনের চিকিৎসক। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেয়ে ভাতার থানার ওসি প্রণব কুমার বন্দোপাধ্যায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু করে পুলিশ । ঘটনার সময় জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তার মাকে খুন করা হয়েছে বলে জানায় মঙ্গল। তবে তার কথাবার্তায় পুলিশের সন্দেহ হয় । তাই তার ওপরে নজরদারি চালাতে থাকে পুলিশ। মোবাইলে সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে এক মহিলার সঙ্গে সে দীর্ঘ দিন ফোনে কথা বলে। মহিলার সঙ্গে মঙ্গলের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসে । এরপর এই মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ । মাকে খুনের কথা মঙ্গল তাকে জানিয়েছে বলে পুলিশকে জানান ওই মহিলা। এর ভিত্তিতেই পুলিশ মঙ্গল এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। তাকে ধরার জন্য ফাঁদ পাতা হয়। সেই মতো মঙ্গলের তিন বন্ধুকে কাজে লাগায় পুলিশ। রবিবার কার্তিক পুজোর দিন তিন বন্ধুর সঙ্গে মদ খেতে পরিতক্ত ইয়ারপোর্ট মাঠে যায় মঙ্গল। সেখানে মদ খাওয়ার পর মাকে খুনের কথা স্বীকার করে সে। বন্ধুরা বিষয়টি স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য কে জানান। পঞ্চায়েত সদস্য থানায় ফোন করে মঙ্গলের স্বীকারোক্তির কথা জানান এর পরে পুলিশ গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তে নেমে পুলিশ জেনেছে লক্ষ্মী দেবীর স্বামীর কয়েক বছর আগেই মারা যান। বড় ছেলে মঙ্গল পণ্যবাহী গাড়ি চালক। মেজো ছেলে অন্যত্র থাকেন। ছোট ছেলে কেরলে শ্রমিকের কাজ করেন। একাই বাড়িতে পরিবার নিয়ে পৃথক থাকে মঙ্গল । গোষ্ঠীর থেকে ঋণ নিয়ে সে বাড়িও তৈরি করেছিল। এছাড়াও গ্রামের মুদিখানা দোকান খোলার পরিকল্পনা ছিল তার । কিছুদিন ধরেই সে মায়ের কাছে বাড়ি তৈরি ও দোকান খোলার জন্য টাকা চাইছিল। ঘটনার দিন কয়েক আগে কয়েকটি গাছ বিক্রি করে কুড়ি হাজার টাকা পান লক্ষীদেবী । সেই টাকা দেওয়ার জন্য মাকে চাপ দিচ্ছিল মঙ্গল । তাতে রাজি না হওয়ায় মাকে সে খুন করে । পুলিশকে বিভ্রান্ত করার জন্য সে জমি জমা নিয়ে কয়েকজন প্রতিবেশীর সঙ্গে বিবাদের কথা জানায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here