মহালয়ার আগে রাতভর মুর্শিদাবাদের উত্তর থেকে দক্ষিন রেডিও সারাইয়ের দোকানে উপচে পড়া ভিড়ে বেসামাল অবস্থা

0
637
Murshidabad-mahalaya-radio-shop-crowd

সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ: সারা বছর যারা ভুলেও পা মারান না।তারও এদিন শুক্রবার দিনভর জেলার উত্তর থেকে দক্ষিণ মহালয়ার আগে উপচে পড়া ভিড়ের লাইনে এসে দাঁড়ালেন পাড়ার মোড়ের রেডিওর দোকানে।এমনকি কেউ কেউ আবার সটান রেডিও মেকানিক কে বেশি টাকার টোপ দিয়ে বাড়ীতে ডাকতেও ছাড়লেন না পুরাতন অচল রেডিও সারাই করার জন্য।তবে তাতে শেষ পর্যন্ত লাভ হয়নি কিছুই।সদর বহরমপুর শহরের জনবহুল এলাকা কাদাই মোড় থেকে শুরু করে,খাগড়া,গোড়াবাজার,নিমতলা,স্বর্ণময়ী সর্বত্র ছবিটা একই।এমনকি প্রত্যন্ত এলাকা কান্দি থেকে থেকে শুরু করে ফারাক্কা,সামসেরগঞ্জ,লালগোলা মিলে মিশে একাকার।আর এই সুযোগে দম ফেলার ফুরসৎ নেই রেডিও দোকানের মালিকের।ইন্টারনেট,ফেসবুক,ওয়াটসআপ,টিভি মোবাইলের রমরমায় রেডিও তার গুরুত্ব হারিয়েছে বহুদিন। প্রায় প্রত্যেক বাড়িতেই রেডিও সেটটিকে অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় সারাবছর। সেই রেডিওর চাহিদা বাড়ে বছরের এই একটি দিনেই। আর সেই দিনটি হল মহালয়া।মহালয়া নিয়ে বাঙালির আবেগ সম্পূর্ণ আলাদা। তাই টিভিতে বা মোবাইলে মহিষাসুরমর্দিনী দেখে বা শুনে মন ভরে না আপামর বাঙালির। পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনার ভোরে ঠিক ৪ টায় রেডিওতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের দরাজ গলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের সংস্কৃত স্তোত্রপাঠ ও তাঁর কণ্ঠে শোনা দেবীর আগমনী বার্তা না শুনলে যেন মনেই হয় না দুর্গাপুজো আসছে। তাঁর গলার মহালয়া সমগ্র বাংলার মানুষকে এক সুতোয় বেঁধে দেয়। তাই মহালয়ার আগের দিন বাড়ির এক কোণে পড়ে থাকা রেডিও সেটটিকে চাঙ্গা করে নেওয়ার তোড়জোড় লক্ষ্য করা যায় এদিন তুঙ্গে।

তাই সকলেই লাইনে দাঁড়িয়ে মহালয়ার আগে নিজের বাড়ীর অচল রেডিওটি সারিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রত্যেকেই তাড়া দিতে দেখা যায় রেডিও মেকানিকদের ধরে ধরেই। নতুন যুগের রেডিও যেমন আসছে সারাইয়ের জন্য, তেমনই বহু পুরনো দিনের রেডিওর মডেল সারাই করতে নিয়ে আসেন বহু মানুষ। তার মধ্যে কিছু রেডিওর বয়স প্রায় ৬০-৭০বছরেরও উপরে।এই যেমন বহরমপুরের খাগড়া এলাকার প্রৌঢ় চন্দন রায় বলেন,‘‘রেডিও চালানোর সঙ্গে সঙ্গে কিছু শোনা যেত না। তাই ঘড়িতে চারটে বাজার আগে থেকেই রেডিও চালিয়ে দেওয়া হত। খানিকক্ষণ কোঁ শব্দের পরেই ঘোষণা হত ‘এখন আপনারা শুনছেন আকাশবাণী কলকাতা’। শঙ্খধ্বনির সঙ্গে শুরু হয়ে যেত আমাদের দুর্গা পূজা। তিনি জানান, ‘‘পাড়ার আর চার পাঁচটা বাড়ি থেকেও ভেসে আসত বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মন্ত্রমুগ্ধ করা চণ্ডীপাঠ। কিন্তু এখন সে সব দিন আর কোথায়, আগের মতো সময় বেঁধে শহরাঞ্চলের এখন খুব কম বাড়িতেই শোনা যায় মহিষাসুরমর্দিনী ।মহালয়া শোনার জন্য রেডিওর বদলে ব্যবহার করা হয় মোবাইল ফোন অথবা এমপিথ্রি প্লেয়ার”।কিন্তু প্রৌঢ়রা এখনও সেই প্রথা ভাঙেননি। সাড়া বছর রেডিওর খোঁজ না পড়লেও মহালয়ার দিন কয়েক আগে থেকেই তা ঝাড়া মোছা শুরু হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here