আবার শুরু হল পর্যটকদের আগমন মাইথনে

0
164

সন্তোষ মন্ডল, আসানসোলঃ- লকডাউনের কয়েক মাস মাইথনে বন্ধ ছিল পর্যটকদের আগমন, কিন্তু তারফলে অর্থনৈতিক সংকট এসেছিল ওই এলাকায় বেশ ভালোভাবেই। বিভিন্ন হোটেল ও লজ গুলি বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়ে বহু ব্যবসায়ী, পর্যটকদের ঘিরেও জড়িয়েছিল অনেক কিছু। যেমন- মাইথন নৌকা ঘাট, কল্যানেশ্বরী মন্দিরের দোকানদার, অটোচালক, রিক্সা চালক সকলেই কর্মহীন হয়ে পড়েছিলো,যারফলে অর্থনৈতিক সংকটের এক চরম পর্যায়ের মধ্য দিয়ে চলতে হয়েছিল এই এলাকাকে। তবে, বর্তমানে লকডাউন কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার পরেও, কোনো জমজমাট দেখতে পাওয়া যায়নি, কল্যানেশ্বরী ও মাইথনে। ভাইরাসের ভয়, প্রশাসনের কড়াকড়ি ইত্যাদি কারণে মানুষ এখন বেশ সাবধানী, যার ফলে তারা আজও প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে যাচ্ছে না।

তাই আনলক অবস্থাতেও মাইথন ও কল্যানেশ্বরী এলাকায় অর্থনৈতিক উন্নতি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না বর্তমানে। তবে এত নিরাশার মধ্যেও এই দুই এলাকার হোটেল এবং লজের ব্যবসায়ীরা বলছেন মাইথন ও কল্যানেশ্বরীতে পর্যটকদের আসা যেমন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ঠিক তেমনি গত দুই-তিন যাবৎ আবার পর্যটকরা আসতে শুরু করেছে, যা আশার আলো দেখাচ্ছে কল্যানেশ্বরী ও মাইথনের ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে। তাই এর থেকে আশা করা যেতেই পারে ধীরে ধীরে আগামীদিন গুলিতে পুনরায় পর্যটকদের ভিড় দেখতে পাওয়া যাবে মাইথন ও কল্যানেশ্বরী অঞ্চলে।

এই বিষয়ে নিয়ে নৌকাচালক মুনির আনসারি বলেন, সরকারি নির্দেশ পাওয়ার পরে মাইথন নৌকা বিহার চালু করা হয়েছে, চালু করার পরেও পর্যটকদের দেখা পাওয়া যাচ্ছিল না, কিন্তু বর্তমানে কিছু দিন থেকে পর্যটকরা ঘুরতে আসছেন, এদের ভরসাতেই এখন আমাদের সংসার চলে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নৌকা চালকদের সিদ্ধান্ত, এই ভাইরাস থেকে সতর্কতা স্বরূপ আমরা নিয়ম লাগু করেছি, যে যেসব পর্যটক নৌকাতে চাপবে তাদের মুখে মাক্স ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, তাছাড়া নৌকাতে পর্যটকদের চাপানোর আগে তাদের হাতে স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে, এবং নৌকাতে ভ্রমণ করে আসার পর পুরো নৌকাটি স্যানিটাইজ করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে হোটেল ম্যানেজার অমিত ঘোষ বলেন লকডাউনের জেরে অনেক দিন ব্যবসা বন্ধ থাকায় ক্ষতি হয়েছে, তাই সরকারি আদেশ অনুসারে খোলা হয়েছে হোটেলগুলি, স্যানিটাইজার, সামাজিক দূরত্ব মেনে এবং সঠিক প্রমানপত্র নিয়ে লজে রুম দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু যেসব অঞ্চলে করোনার প্রকোপ বেশি সেই সব জায়গার মানুষদের মেডিকেল টেস্ট করে প্রশাসনকে জানিয়ে রুম দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম অনুযায়ী এখন বিয়ের জন্য ৫০জনের বেশি মানুষকে লজের হল রুম দেওয়া হবে না। এখনো ওখানের মানুষের বিশ্বাস, খুব তাড়াতাড়ির মধ্যে সমস্ত সমস্যার সমাধান হয়ে কল্যানেশ্বরী ও মাইথন অঞ্চলটির সেই চেনা ছবিতে দেখতে পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here