মহাকালভৈরব রূপে ত্রিবেণীতে গঙ্গাস্নান কী মহাযুদ্ধের শঙ্খনাদ ?

0
974

নিউজ ডেস্কঃ জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কনভয়ে জঙ্গি হামলার পর কেটে গেছে ১২ দিন। জঙ্গি হামলায় ৪২ জন জওয়ান শহীদ হওয়ার খবর সামনে আসার পর থেকেই রাগে ফুঁসছে গোটা দেশ। বরাবরের মতো সেই পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী জঈশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি সংগঠন এই নারকীয় হামলার দায় স্বীকারের পর থেকেই ভারতবাসীর ক্ষোভ বেড়েছে দ্বিগুণ। ২০১৫ সালে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে ভারতীয় সেনার সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর এবারও দেশের জনগণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে ফের পাল্টা হামলার দাবি জানিয়েছিল পাকিস্তানে। ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও জানিয়েছিলেন জঙ্গি হামলার বদলা নিতে ভারতীয় সেনাকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। আর ভারতের এই পাল্টা হুমকির পর থেকেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল পাকিস্তান। এরই মধ্যে গত ২৪শে ফেব্রুয়ারি (পঞ্চমীর একোদ্বিষ্ট এবং ষষ্ঠীর একোদ্বিষ্ট) পূণ্যলগ্নে দেশ তথা বিশ্বের জনপ্রিয় কুম্ভমেলা এলাহাবাদে এলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে গেরুয়া বসন পরিহিত অবস্থায় মা ভবানী রূপে অধিষ্ঠিত মা দূর্গার আহ্বান করেন গঙ্গাবক্ষে। হিন্দুশাস্ত্র মতে, গেরুয়া বসনের অধিকারী তাঁরাই হন যারা সংসারের লোভ, মোহ, মায়ার উর্ধে যেতে পারেন। সেই পোশাকেই প্রধানমন্ত্রীকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে তিনি কী ভীষণ আহ্বান করতে চলেছেন মা ভবানীর। হিন্দুশাস্ত্রে বর্ণিত আছে, মা ভবানী হলেন দেবী দূর্গার যুদ্ধং দেহী রূপ এবং এই রূপের পূজো তখনই করা হয় যখন যুদ্ধে যাওয়া ও জয়লাভের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। শাস্ত্রে আছে, ভগবান শ্রী রামচন্দ্র রাবণকে বধ করার জন্য আদি শক্তি মা ভবানীর শরনাপন্ন হয়েছিলেন এবং যুদ্ধে জয়লাভ করার আশীর্বাদ পেয়েছিলেন। অতীতেও ভারত মায়ের অনেক বীর সন্তানই যুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য মা ভবানীর আহ্বান করেছিলেন। যেমন শিবাজী মহারাজ, রানী লক্ষ্মীবাঈ, রানাপ্রতাপ সিং ও অনেক গণ্যমান্য রাজা-মহারাজাগণ। শাস্ত্রে বলা আছে, অধর্মের ওপরে ধর্মের জয়ের জন্যই যুদ্ধে যাওয়ার আগে মা ভবানীর আহ্বান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সবার অজান্তেই মা দূর্গার এই মহান যুদ্ধং দেহী মা ভবানী রূপের পূজো করেন ও গঙ্গা অভিষেক ও আরতি করেন। ভারতবর্ষের জনগণ সেইদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আরেকটি স্নান করার চিত্র দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। সবার মনে একটাই প্রশ্ন ত্রিবেণী সঙ্গমে গঙ্গা স্নানের সময় কেন প্রধানমন্ত্রী কালো বস্ত্র সহ রুদ্রাক্ষ পরিধান করলেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে চ্যানেল এই বাংলায় কথা বলে বিখ্যাত হিন্দু শাস্ত্রবিদ ও বিখ্যাত হিন্দু জ্যোতিষবিদদের সাথে। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া মতামত যেনে রীতিমতো অবাক হয়েছিলাম আমরা। তাই আপনাদের সাথে তা ভাগ করে নিচ্ছি। হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে ভগবানের আরাধনা করার তিনরকমের পোশাক আছে। প্রথমটি হল শ্বেতবস্ত্র অর্থাত সাদা পোশাক, যারা শ্বেতবস্ত্র পড়েন তারা সাংসারিক জীবনে থেকেও সমানভাবে আধ্যাত্মিক চেতনার উন্মোচন করতে পারেন। দ্বিতীয়টি হল গেরুয়া বা (লাল), এই বসন পরিহিত মানুষেরা সাংসারিক জীবন থেকে দূরে থেকে লোভ, মায়া, মমতা ত্যাগ করে শুধুমাত্র ভগবানের শরনাপন্ন হন ও উপাসনা করেন। তৃতীয়টি হল কালো বস্ত্র, এই বস্ত্রের অধিকারী হতে গেলে মানুষকে তাঁর সমস্তরকম সাংসারিক বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে নিজেকে মৃতসমান মনে করে মহাদেবের শ্রী মহাকাল রূপের উপাসনা করেন এবং ঘোর শ্মশানবাসী হন। সাধারণত এই ধরণের পোশাক পরিহিত সাধু-সন্ন্যাসীকে খুব একটা জনসমক্ষে দেখা যায় না। তাই সেইদিন নরেন্দ্র মোদীর কালো পোশাক ও রুদ্রাক্ষের জপমালা ধারন করে ত্রিবেণী সঙ্গমে গঙ্গাস্নান করাকে বিশেষভাবে দেখা হচ্ছে। কারণ, নবগ্রহের গ্রহরাজ শ্রী শ্রী শনি মহারাজের স্মরণাপন্ন হয়ে সমস্ত গ্রহকে ভারতবর্ষের ১৩০ কোটি মানুষের রক্ষা করার জন্য ও মহাকালভৈরব রূপে মন্ত্রোচ্চারণ করে মহাযুদ্ধের শঙ্খনাদ করেছিলেন তিনি। দেবাদীদেব মহাদেবের সবথেকে প্রিয় রুদ্ররূপ মহাকালভৈরব রূপে শত্রুপক্ষের ওপর আছড়ে পড়তে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেইদিন ত্রিবেণী সঙ্গমে গঙ্গাস্নান সেরেছিলেন। যদি ২৪শে ফেব্রুয়ারি দিনে মা ভবানীর আহ্বানের দিন শুরু হয় তাহলে তার ঠিক ১০ দিনের মাথায় মহাদশমী হওয়া উচিত বলে মনে করেন হিন্দুশাস্ত্রবিদরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬ই মার্চের মধ্যে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারতবর্ষ যুদ্ধ ঘোষণা করবে তার শত্রুদের ওপর এবং সর্বশক্তি দিয়ে তার বিনাশ ঘটাবে। কারণ আমরা জানি, বাঙালীর শারদীয়াতে মহালয়ার পরের দিন থেকে দশমীর দিন পর্যন্ত চলে নবদূর্গারূপের পূজা। যদিও এটাকে শ্রী রামচন্দ্রের অকাল বোধন বলে আমরা শারদীয়া বলে জানি। আর আবার ভারতবর্ষের আরেক মহাপুরুষ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মা ভবানীর অকাল বোধন করলেন ২৪শে ফেব্রুয়ারি। তাই শুধু সময়ের অপেক্ষা। যে যুদ্ধের শঙ্খনাদ পবিত্র মহাকুম্ভের সঙ্গমতট থেকে উঠেছে তা খুব শীঘ্রই শত্রুপক্ষের ওপর আঘাত আনবে এই বিশ্বাস ভারতবর্ষের ১৩০ কোটি জনগণের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে কালভৈরবের উপাসক তা তাঁর ডানহাতের কব্জিতে থাকা কালো হস্তবন্ধনী দেখেই বোঝা যায়। ভারতবর্ষের ১৩০ কোটি জনগণের আশীর্বাদ মাথায় করে হিন্দুশাস্ত্রের যুদ্ধের রীতিনীতি মেনে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মহাযুদ্ধের জয়োল্লাস দেখতে পাবে সারা বিশ্ব। এই প্রতিবেদন লেখা শেষ হওয়ার আগেই তার ফল আমরা দেখতে পাচ্ছি হাতেনাতে। অবশেষে পুলওয়ামা হামলার ১২ দিনের মাথায় এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। মঙ্গলবার ২৬শে ফেব্রুয়ারি ভোর রাতে (প্রায় সাড়ে তিনটে নাগাদ) ভারতীয় বায়ুসেনার ১২টি মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমান একসঙ্গে হামলা চালাল পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে। প্রায় ৮০ কিলোমিটার ভেতরে গিয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার এই যুদ্ধবিমান একের পর এক পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিঘাঁটি তছনছ করে দিয়েছে। সূত্র মারফৎ জানা গেছে, এই হামলায় জঈশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি সংগঠনের কন্ট্রোল রুমও গুঁড়িয়ে দেওয়া গেছে। ১০০০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক ব্যবহার করে ২০০ থেকে ৩০০ জন জঙ্গি নিকেশ করা গেছে বলে ভারতীয় বায়ু সেনা সূত্রে খবর। যদিও ভারতীয় বায়ুসেনার তরফে এই হামলার সময় পাকিস্তানের তরফেও পাল্টা এফ-১৬ ফাইটার জেট হামলা প্রতিরোধের জন্য পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধকৌশলের (ফরমেশণ) দেখে পিছু হঠে তারা। পরে ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় ড্রোণ মারফৎ নজরদারী চালাতে গেলে সেই ড্রোণগুলিকেও গুলি করে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয় ভারতীয় সেনা। যদিও এখানেই শেষ নয়, আবারও পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে যেকোনো সময় জঙ্গি ডেরায় হামলা চালাতে পারে ভারতীয় যৌথবাহিনী। ১৩০ কোটি জনগণের পক্ষ থেকে ভারতীয় সেনাকে চ্যানেল এই বাংলার তরফে অভিনন্দন জানাই এবং সেইসব মায়েদের বীর সন্তান যারা দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন তাঁদের জন্যও ভারতবাসী হিসেবে আজ আমরা গর্বিত। জয় হিন্দ। সত্যমেব জয়তে।