পেট্রোল, ডিজেল বিক্রি করে কর বাবদ কত টাকা আদায় ?? ‘ কোনও হিসাব নেই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ‘ CAG দিয়ে অডিটের আবেদন- আর.টি.আই অ্যাক্টিভিস্টের

0
630

এই বাংলায় ওয়েব ডেস্কঃ- গোটা দেশজুড়ে যখন পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ তখন নিশ্চুপ আছে কেন্দ্র সরকার | কিন্তু কেন ? পশ্চিমবঙ্গে আর কয়েকদিন পরেই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বিধানসভা নির্বাচন | তার আগেই সবকটি বিরোধী রাজনৈতিক দলই এখন পেট্রোপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই জোর প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে | সাধারণ মানুষেরও নাভিশ্বাস উঠছে মূল্যবৃদ্ধির কারণে | সারাদেশে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার কর বাবদ আদায় হয় এই পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাস থেকে| জানলে অবাক হবেন যে এই হাজার হাজার কোটি টাকা কর বাবদ আদায় হচ্ছে এই পেট্রোল ও ডিজেলের তার কোনো হিসাব নেই পেট্রোলিয়াম মন্ত্র ও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর কাছে ।

২০০০ সালে তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী মাননীয় অটল বিহারী বাজপায়ী আইন করে পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর দুই টাকা করে অতিরিক্ত কর বসিয়ে দেন | তার এই কর বসানোর পেছনে উদ্দেশ্য ছিল মহৎ | গোটা দেশে প্রয়োজন ছিল একটি আন্তর্জাতিক মানের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার | গোটা দেশ জুড়ে শহরের সাথে শহরকে জুড়ে ফেলার | আর সেই নির্মাণকাজের জন্য যে টাকা প্রয়োজন পড়বে তা পেট্রোল ও ডিজেল থেকে ২ টাকা করে কর বসিয়ে আদায় করে নেবে সরকার | প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপায়ী রুগ্ন হয়ে থাকা ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া কে পুনর্জীবন দেওয়ার লক্ষ্যে ও তাদেরকে অর্থ যোগানের লক্ষ্যে দু টাকা করে পেট্রোল ও ডিজেলের উপর কর ধার্য করেন যাতে তাদের ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট এর জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকার যোগান হয়। প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপায়ী এই দূরদর্শিতার জন্যই আজ আমরা সোনালী চতুর্ভুজ , ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটির ঝাঁ-চকচকে রাস্তা দেখতে পেয়ে ছিলম |

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী ২০১৭ সালে একটি (দি সেন্ট্রাল রোড ফান্ড অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০১৭, বিল নাম্বার ১১৪ অফ ২০১৭) বিল এনে ওই কর কাঠামোটিকে বৃদ্ধি করে প্রায় ৬ টাকা করে পেট্রোল ও ডিজেলের উপর অতিরিক্ত কর ধার্য করেন ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি উন্নয়নের খাতে। বিলটিতে পরিষ্কার উল্লেখ ছিল যে প্রতি লিটার পিছু পেট্রোল ও ডিজেল থেকে কর বাবদ যে ৬ টাকা করে আদায় হবে তা শুধুমাত্র ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার জন্যই খরচ করা হবে দেশের রাস্তা নির্মাণের কাজে অন্য কোন সংস্থাতে তা ব্যবহার করা যাবে না । কিন্তু সারা দেশে এই টাকা খরচা সেভাবে হয়নি বলে অভিযোগ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীদের | সারা দেশে তৈরি হয়নি নতুন করে কোনো বড় রাস্তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী সমায় কালে | পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রতিদিন যত পেট্রোলপাম্প থেকে ডিজেল ও পেট্রোল বিক্রি হয় তার প্রতি লিটার থেকে ৬ টাকা করে চলে যায় রাস্তা নির্মাণ কর হিসেবে | কিন্তু তাসত্বেও পশ্চিমবঙ্গে সেভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের রাস্তার তেমন উন্নয়ন দেখা যায়নি | বেহাল হয়ে পড়ে রয়েছে জাতীয় সড়কগুলি | অন্যান্য রাজ্যের জাতীয় সড়কের ওপর দিয়ে গেলে সহজেই অনুমান করা যাবে যে সেগুলিকে ঠিকঠাকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ পর্যন্ত করা হচ্ছে না এই সময়ে | কিন্তু প্রতি লিটার থেকে ৬ টাকা করে পেট্রোল ও ডিজেল থেকে কেটে নেওয়ার বিরাম নেই ও তা চলে যায় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের থেকে ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি কাছে রাস্তার উন্নয়নের খাতে | যদিও পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদিত কোন ভাল রাস্তা এখনো পর্যন্ত নতুন করে গড়ে ওঠেনি সে দিক থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সড়কের উন্নয়ন হয়েছে কয়েক হাজার গুণ ও রাজ্য সড়কের গুণমান আন্তর্জাতিক মানের।

পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরের সুব্রত মল্লিক যিনি এক সমাজ সচেতন সমাজকর্মী ও আর টি আই অ্যাক্টিভিস্ট কেন্দ্রীয় সরকারের পেট্রোলিয়াম দপ্তর ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষে দুটি দপ্তরের কাছে জানতে চান রাইট টু ইনফরমেশন অ্যাক্ট অনুসারে ২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯,ও ২০১৯-২০, পশ্চিমবঙ্গ থেকে পেট্রোল ও ডিজেল বাবদ কেন্দ্রীয় সরকার কত টাকা কর বাবদ আদায় করেছে। এবং দ্বিতীয়ত তিনি জানতে চান যে, সেই টাকার কতটা খরচা করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাস্তা ও সড়ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ? জানলে অবাক হবেন পরপর দুটি আরটিআই এর দুটি কেন্দ্রীয় সরকারি দপ্তরকে করা হলেও সুব্রত বাবুর কাছে তার উত্তর আসে তা অত্যন্ত অবাক করার মতন। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম দপ্তর ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় যে সুব্রত মল্লিকের প্রশ্নের কোন উত্তর ই তাদের কাছে নেই। সরকারিভাবে তাদের কাছে কত টাকা কর বাবদ আদায় হয়েছে, দুটি দপ্তর জানিয়েছে তাদের কাছে তার কোন ডেটা নেই । এর থেকে সহজেই অনুমান করা যায় যে কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রতি লিটার পেট্রোল ও ডিজেল থেকে যে টাকা কেটে রাখছেন তার কোন হিসেবে তাদের কাছে নেই। সুব্রত মল্লিককে লিখিতভাবে জানিয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আদায় করা প্রতি লিটার ডিজেল ও পেট্রোলের কর বাবদ কত টাকা তাদের কাছে এসেছে তার কোন ডেটা বা তথ্য তাদের কাছে নেই।

এই বিষয়ে সমাজ সচেতন ও আরটিআই অ্যাক্টিভিস্ট সুব্রত মল্লিক অভিযোগের সুরে জানান যে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য থেকে ডিজেল ও পেট্রোল বাবদ যে হাজার হাজার লক্ষ কোটি টাকা কর বাবদ আদায় করা হচ্ছে, সেই টাকা পশ্চিমবঙ্গের রাস্তার উন্নয়নের না খাটিয়ে তা অন্য জায়গায় ব্যবহার করা হয়েছে, সেই টাকার কোন হিসাবে কেন্দ্রীয় সরকারের পেট্রোলিয়াম দপ্তর ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের তাদের কাছে নেই। তিনি বলেন তাহলে স্বভাবতই একটা প্রশ্ন থেকেই যায় কেন্দ্রীয় অর্থ দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত থাকা বেআইনি এই লেনদেনের তথ্য কিভাবে সরকার চেপে যেতে পারে। কেন কেগ কে (CAG) দিয়ে অডিট করানো হবে না এই টাকার হিসাব পাওয়ার জন্য । তিনি আরো বলেন কেন কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ এই সংস্থাগুলি তথ্য গোপন করে রাখছে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে। এর থেকে সহজেই অনুমান করা যায় যে গোটা দেশজুড়ে চলছে পেট্রোল ও ডিজেল নিয়ে লুটের রাজ | কেন্দ্রীয় সরকারের পেট্রোলিয়াম দপ্তর ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ কাছে কেগকে (CAG)দিয়ে অডিট করাবার আবেদন রাখবেন। তাতে যদি কর্তৃপক্ষ ঢিলেমি দেখায়, তাহলে তিনি মাননীয় কলকাতা উচ্চ ন্যায়ালয় এই নিয়ে বিচার চাইবেন ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here