কলকাতার পর এবার বর্ধমানে নার্সিং কলেজের ছাত্রীর আত্মহত্যার ব্যাপক চাঞ্চল্য

0
665

সংবাদদাতা, বর্ধমানঃ- কলকাতার পর এবার বর্ধমানের এক নার্সিং কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ালো শহর জুড়ে। মৃত ছাত্রীর নাম রিয়া দে। বাড়ি বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর থানা এলাকায়। সম্প্রতি সংশোধিত সহায়ক নার্সিং কোর্সে ভর্তি হয়েছিল । গত অক্টোবর মাস থেকেই তার ক্লাস শুরু হয়েছিল। সোমবার সকালে বর্ধমান শহরের ছোটনীলপুর নার্সিং ট্রেনিং স্কুলে তার ঘর থেকে ওরনার ফাশে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় । কলেজের সিনিয়র সিস্টার টিচার রিতা চ্যাটার্জী জানিয়েছেন কোনদিন আচার-আচরণে কোন অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়নি । সোমবার সকালে যথারীতি অন্যান্য ছাত্রীরা ক্লাসে এলে রিয়া না আসায় তার সহপাঠীরা তাকে ডাকতে তার ঘরে গিয়ে দেখে দরজা বন্ধ। এরপর সহপাঠীরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে এলাকার স্থানীয় মানুষজন এসে দরজা ভেঙ্গে দেখে রিয়ার দেহ। বর্ধমান থানা কে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে মৃতের ঘর থেকে রিয়ার একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। তার বাবা মাকে উদ্দেশ্য করে লিখেছে। রিয়ার বোন যেন ভালো থাকে , জীবনে বড় হয় মা বাবার মুখ উজ্জ্বল করে। একইভাবে সে লিখেছে তার ভাই ও যেন জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে এরপর এই রিয়া তার সুইসাইড নোট লিখেছে সরকার যেভাবে তপশিলি জাতি , উপজাতি সম্প্রদায়ের জন্য সুযোগ দিচ্ছে সেই সব সুযোগ পায় না সাধারন ক্যাটাগরির ছেলেমেয়েরা। আর তাই বাধ্য হয়ে এইভাবে হার মানতে হচ্ছে তাদের। রিয়া লিখেছে সে প্রথমে ভূগোল অনার্স নিয়ে পড়াশোনা করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেই পড়াশোনা শেষ না করেই সে নার্সিং ধাত্রীবিদ্যা কোর্সে বর্ধমানে ভর্তি হয়। এখানকার পরিকাঠামো নেই বলে তার নোটে রিয়া উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে । এদিকে কলকাতার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের নার্সিং এর ছাত্রীর সমাপ্তি রুইদাস এর অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর কার্যত সরকারি পরিকাঠামো ও সরকারি সিস্টেম এর প্রতিবাদ করে রিয়াদের এই আত্মহত্যার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ।

ঘটনার খবর পেয়ে নার্সিং কলেজে ছুটে যান বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেপুটি সুপার ডক্টর অমিতাভ সাহা । তিনি জানিয়েছেন কিভাবে এই ঘটনা ঘটল এবং কেন ঘটল তা তিনি ক্ষতি দেখবেন। অন্যদিকে স্থানীয় প্রতিবেশী যুবক আরিফ ইসলাম জানিয়েছেন তারা ও নার্সিং কলেজের পাশের মাঠে খেলা করছিলেন । প্রায় আধঘন্টা ধরে তারা চিৎকার চেঁচামেচির আওয়াজ পাচ্ছিলেন এরপর তারা ছুটে যান তাদের সামনেই কলেজের কেয়ারটেকার দরজার ছিটকিনি ভেঙে ঘরে ঢোকেন এরপর তিনি ঝুলন্ত দেহ নামান। আরিফ আরো অভিযোগ করেন এত বড় একটা ঘটনার পরেও কলেজের টিচার ইনচার্জ রিতা চ্যাটার্জী নিশ্চিন্ত মনে নিজের চেম্বারে বসেছিলেন। একবারও জন্য দেখতে যাননি, এই ঘটনায় তারা বিস্মিত হয়েছেন। শুধু তাই নয় এই ঘটনার পর সমস্ত ছাত্রীদের একটি ক্লাসের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। যাতে তারা কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলতেন না পারেন এবং সেই জন্য তাদের সাবধান করে দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন আরিফ ইসলাম। অপরদিকে রিয়ার সঙ্গী ছাত্রীরা জানিয়েছেন এই দিন সকালে যথারীতি রিয়া তারপর ক্লাসে আসার কথা বললে সে জানায় পরে যাবে । কিন্তু তারপর ক্লাস শেষে আসেনি ইতিমধ্যে শিক্ষিকা কলেজের একটি ফ্রি এর জন্য টাকা আনার কথা বললে তারা রুমে গিয়ে দেখেন ভেতর থেকে দরজা বন্ধ আছে। এর পরেই তারা চিৎকার-চেঁচামেচি করে আশেপাশের লোকজন জড়ো করেন । অন্যদিকে এই ঘটনার খবর পেয়ে অপর ছাত্র-ছাত্রীর অভিভাবকরা আতঙ্কে ছুটে আসেন কলেজে। তারাও জানিয়েছেন রিয়ার কথাবাত্রা, আচার-আচরণে কোন অস্বাভাবিকতা তারা লক্ষ্য করেননি। এমনকি যেহেতু এবারের মাসখানেক আগে প্রথম করছে চালু হয়েছে তাই পড়াশোনার ক্ষেত্রে তেমন কোনো চাপ ছিল না। সবে মাত্র ক্লাস শুরু হয়েছিল। রিয়ার এক মামা ও এক খুড়তুতো দাদা জানিয়েছেন তারা রিয়ার অসুস্থতার খবর পেয়ে এসে এই ঘটনা দেখেন । কিন্তু কিভাবে ঘটল বুঝতে পারছেন না তারাও । তবে রিয়া বেশ কিছুদিন ধরে কলেজের পরিকাঠামো নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছিল। অপরদিকে এই ঘটনায় ডঃ অমিতাভ জানিয়েছেন কলকাতার পর বর্তমানে এই ঘটনা ঘটায় তারা ছাত্র-ছাত্রীদের কাউন্সিলিংয়ের করার উদ্যোগ নিচ্ছেন। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডক্টর প্রণব রায় ও একই কথা জানিয়েছেন তিনি আরও জানিয়েছেন তাদের নার্সিং কলেজের ছাত্রীদের নিয়ে কাউন্সিলিং করার সিদ্ধান্ত একপ্রকার নির্দিষ্ট করে ফেলেছেন । সেই সঙ্গে কিভাবে এই ঘটনা ঘটলো সে সম্পর্কে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here