খোঁজ মেলেনি অপহৄত রাজেশেরঃ সীমান্তে নজর পুলিশের, চাওয়া হল ফোনের কল রেকর্ড

0
2325

মনোজ সিংহ, দূর্গাপুরঃ- তিনি হারিয়ে যাওয়ার ২৪ ঘন্টা পর দুটো জিনিস স্পষ্ট হল। এক- সরকারি ভাবে পুলিশ জানালো রাজেশ জৈনের স্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি আভিযোগ পাওয়া গেছে তার স্বামী কে অপহরণ করা হয়েছে বলে। দুই- রাজেশের অপহরণের কয়েক ঘণ্টার ভেতর দুর্গাপুর আসানসোল পুলিশের কাছে তার পরিবার খোলসা করল- রাজেশ একজন শিল্পপতি নন, তিনি বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের একটি ফেরো অ্যালয় কারখানার মুখ্য-কার্য্য- নির্বাহী আধিকারিক।

বিষ্ণুপুরের দ্বারিকা শিল্পতালুকের রোহিত ফেরোটেক কারখানাটির সহযোগী সংস্থা ইন্দোনেশিয়ার একটি কোকিং কোল খাদানের ৬০% এর মালিকানা খরিদ করে দু’বছর আগে। গায়ে গতরে বেশ বড়সড় কারখানাটির “বেতনভুক” একজন আধিকারিককে কেন অপহরণ করা হল- সে প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে শিল্পাঞ্চল জুড়ে। কারণ, ইতিপূর্বে সেই ২০০১ সাল থেকে একের পর এক শিল্পপতি অপহরণ করে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে যাকে বলে এাস চালিয়ে ছিল বিহার-ঝড়খান্ড-উত্তর প্রদেশের গ্যাংস্টারেরা। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই, অপহৄত শিল্পপতি, ব্যবসায়ীরা মোটা টাকার মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন। সেই ক্ষেত্রে কারখানার “বেতনভুক” কর্মচারী অপহরণের ঘটনা সম্ভবত এই প্রথম। তা হলে কি এই অপহরণের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্যের বা তার থেকে পাওয়া মুনাফার কোনো সম্পর্ক নেই? তাহলে কি এই অপহরণের পেছনে ‘ব্যক্তিগত’ কোনো গোলমাল জড়িয়ে আছে ? না। এ নিয়ে এখনো অব্দি পুলিশ বা রাজেশের পরিবার নিশ্চিত করে কিছুই বলতে পারেননি। আর বলতে পারেনি বলেই শহরজুড়ে উড়ছে জল্পনার ফানুস। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের ডেপুটি কমিশনার অভিষেক গুপ্তা সোমবার সন্ধ্যায় জানান “রাজেশের স্ত্রীর দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে অপহরণের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তবে, এখনো অব্দি তার কোনো খোঁজ মেলেনি।”

রবিবার দুপুর নাগাদ দুর্গাপুরের ফরিদপুর লাগোওয়া “ন্যাচারাল হাইটস” নামের বহুতল আবাসন থেকে চুল কাটতে সিটি সেন্টারের ‘জংশন মল’ এ আসেন রাজেশ। তারপর থেকেই তিনি হঠাৎ “হারিয়ে” যান। তার মোবাইল ফোনটিও ‘সুইচড অফ’ হয়ে যায়। সন্ধ্যে ৬ টা নাগাদ হঠাৎই রাজেশের নম্বর থেকে তার স্ত্রীর সেলফোনে একটি কল আসে। পুলিশের কাছে দেওয়া তার স্ত্রীর বয়ান অনুযায়ী- ওই ফোনেই প্রথম বোঝা যায় রাজেশ কে অপহরণ করা হয়েছে। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের ডেপুটি কমিশনার অভিষেক গুপ্তা জানান “ফোন কলটি পরিষ্কার ছিল না। সব কথা বোঝা যায়নি। নতুন করে আর কোন ফোন ও আসেনি।” ডেপুটি কমিশনার গুপ্তা আরো জানান “সম্ভাব্য সমস্ত সূত্রই আমরা খতিয়ে দেখছি।”

এদিকে পুলিশ শপিং মল থেকে যে সিসিটিভি’র ফুটেজ জোগাড় করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে রাজেশ একটি অটোরিকশায় চাপছেন। তার ফোনের সর্বশেষ টাওয়ার লোকেশন ও নাকি দুর্গাপুরেই ছিল। অন্য একটি অসমর্থিত সূত্র থেকে অবশ্য দাবি করা হয়, ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ এর কাছাকাছি টাওয়ারে তার ফোন নাকি ধরা পড়েছিল একবার। পুলিশের অন্য একটি সূত্র থেকে জানা গেছে বাংলা ঝারখান্ড সীমান্ত এখন পুলিশের নজরদারীতে। যোগাযোগ করা হয়েছে ঝারখান্ড পুলিশের সাথেও।

সোমবারই ঘটনার আপাত বিবরণ সংগ্রহে অপহৄত রাজেশের বাড়িতে যান সি আই ডি র দুই গোয়েন্দা। দীর্ঘক্ষন তারা রাজেশ এর স্ত্রী ও পরিবারের সাথে কথাও বলেন। চেষ্টা করা হয় অপহরনের নেপথ্যে সম্ভাব্য সূত্রের খোঁজার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here