শিশু পাচার কান্ডে দুর্গাপুরের নিষিদ্ধপল্লি থেকে এবার আটক এক দালাল

0
880

নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর ও বাঁকুড়া: কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষের পর বাঁকুড়া শিশু পাচার চক্রে এবার শিল্প নগরীর নিষিদ্ধ পল্লী এলাকা থেকে আটক হল এক দালাল। মঙ্গলবার পুলিশি তদন্তে একের পর এক পতিতাপল্লীর দালাল, দোকানদার গ্রেফতার হওয়ার পর বাঁকুড়ার বিদ্যালয়টির অধ্যক্ষ ও তার গতিবিধি নিয়ে নিন্দার ঝড় বইতে শুরু করেছে। বিভিন্ন মহল থেকে ওই অধ্যক্ষকে সত্বর বরখাস্তের দাবির পাশাপাশি, তাকে বাঁকুড়া থেকে পুরোপুরি উৎখাত করার দাবিও জোরালো হচ্ছে ক্রমশঃ।

বিজেপি যদিও বিষয়টিতে রক্ষণাত্মক ভূমিকা নিয়েছে। দলের নেতা ও বাঁকুড়ার বিধায়ক নীলাদ্রি শেখর দানা বলেন, “আগে তদন্ত সম্পন্ন হোক। আমরা গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি।” শিশু পাচার, পতিতাপল্লীর সাথে মাখামাখির প্রত্যক্ষ প্রমাণের পরও জেলা বিজেপির রক্ষণাত্মক থাকার নেপথ্যে আসলে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ কমলকুমার রাজোরিয়া সাথে সদ্য নিযুক্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের একটি ছবি। ওই ছবিটি ফলাও করে নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে আপলোড করেন রাজ্যের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা। তারপর থেকেই কার্যত মুখ লুকানোর পথ খুঁজছে মরীয়া বিজেপি।

এদিকে মঙ্গলবার ঘটনার সরোজমিন তদন্তে বাঁকুড়ায় আসেন রাজ্য শিশু কল্যাণ কমিটির চেয়ারপারসন অনন্যা চক্রবর্তী। বাঁকুড়া সার্কিট হাউসে তিনি তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকদের সাথে বৈঠকে বসেন। চিত্রাভিনেত্রী সায়ন্তিকা ব্যানার্জিও ওই বৈঠকে ছিলেন। অনন্যা বলেন, “জেলা পুলিশ তদন্ত করছে। আমি তদন্তের অগ্রগতি নিয়মিত আমাদের কাছে পাঠাতে বলেছি।” সায়ন্তিকা বলেন, “ভাবাই যায়না, এত নীচ আর নোংরা কাজে স্কুলের প্রিন্সিপাল জড়িত? আবার তার হয়ে লোককে ভুল বোঝাতে মাঠে নেমে পড়েছে কয়েকজন?”

রবিবার সন্ধ্যায় ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে কালপাথর এলাকায় জহর নবোদয় বিদ্যালয় থেকে শিশু পাচারের সময় ধরা পড়ে যান অধ্যক্ষ কমলকুমার সহ এক পতিতা ও তাদের ৬ সাগরেদ। উদ্ধার হয় পাঁচ শিশু। মঙ্গলবার আটক হয় সুভাষ গুন্ডা নামে এক দালাল। নিষিদ্ধপল্লি থেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here