বান্দিদের খাবারের বরাদ্দ মাত্র ১৬ টাকা, তাও খাবার সরবরাহ বন্ধ, ক্ষুধার জ্বালায় বন্দিদের বিক্ষোভ

0
478

সংবাদদাতা, বর্ধমান:- দূর্মূল্যের এই বাজারে একজন মানুষের খেতে কত টাকা লাগতে পারে সারাদিনে ? অনেকেই হয়তো এই প্রশ্নের উত্তরে বলবেন , যে যেমন খায় তার তেমনই খরচা হয়। তা বলে কি একজন মানুষকে সারাদিনের জন্য মাত্র ১৬ টাকার খাবার দিয়ে রাখা যেতে পারে তাও আবার সরকারি বন্দিশালায়। এমনই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই আলোড়ন পড়ে যায় গোটা সমাজে। জানা গেছে বর্ধমান সদর আদালতের লকআপে সারাদিন বন্দীদের খাবারের জন্য বরাদ্দ মাত্র ১৬ টাকা । সংশোধনাগার থেকে আদালতে বিচার চলাকালীন যে লকআপে রাখা হয় বন্দীদের, সেখানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্দীদের খাবারের জন্য বরাদ্দ মাত্র ১৬ টাকা সরকারি ভাবে। অগ্নিমূল্যের এই বাজারে সেই টাকাতে যে তেমন কিছু খাবার হয়না তা বলাই বাহুল্য। ক্ষুধার জ্বালায় বন্দিরা লকআপে বিক্ষোভ দেখায় মাঝে মাঝে। কিন্তু কে কার কথা শোনে । শুধু কি তাই মাঝখানে মাস খানেক হল বন্দীদের খাবার সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে ঠিকাদার। দারুন সমস্যায় পড়েছে বন্দিরা । সারাদিন প্রায় না খেয়েই কাটাতে হয় তাদেরকে আদালতের লকআপে । ঘটনার কথা জানতে পেরে সি জে এম চিঠি দিয়ে জেলা জজকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন । বর্ধমানের জেলা জজ এই বিষয়ে দ্রুততার সাথে সি জে এম কে নির্দেশ দেন ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। সেইমতো ডেকে পাঠানো হয় খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারকে। কিন্তু, ঠিকাদার দর না বাড়ানো পর্যন্ত খাবার দিতে অস্বীকার করেন বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে। এর আগে দীর্ঘদিন টাকা না পেয়ে খাবার সরবরাহ বন্ধ করে দেন ঠিকাদার। কয়েকমাস পর কিছু টাকা দেওয়ার পর খাবার সরবরাহ শুরু করেন ঠিকাদার। ফের দর না বাড়ানোর কারণে খাবার সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছেন ঠিকাদার।

অন্যদিকে ঠিকাদারের অভিযোগ বহুদিন ধরেই তার টাকা বকেয়া রয়েছে। কিছু মাস আগে তাকে কিছু টাকা দেওয়া হল সময় মতন তিনি টাকা না পাওয়ার জন্যই খাবার সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছেন । খাবার সরবরাহকারী অলোক আঁশ বলেন, “এই টাকায় খাবার দেওয়া অসম্ভব। ৬টি রুটির দাম খোলাবাজারে ১৮ টাকা। তরকারির দাম ১০ টাকা। তার উপর খাবার প্যাকেটজাত করার খরচ রয়েছে। খাবারের জন্য ২৮ টাকা করে বরাদ্দ করার কথা বলেছি। লোকসান করে খাবার দেওয়া সম্ভব নয়। দীর্ঘদিন ধরে লোকসান হচ্ছে। আমার সমস্যার কথা সিজেএমকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি।”

বর্ধমান বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সদন তা বলেন, “বিষয়টি ঠিকাদারের সঙ্গে আলোচনা করে মিটিয়ে নেওয়ার উচিত। বন্দিরা সারাদিন খাবার পাবেনা এটা কখনই কাম্য নয়। আলোচনার ভিত্তিতে বিষয়টি মিটে গেলে সবার পক্ষে ভালো হয়। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, লকআপের বান্দিদের খাবারের জন্য সারাদিনে বরাদ্দ মাত্র ১৬ টাকা। সেই টাকায় ৬টি রুটি ও তরকারি দেওয়া হয় বন্দিদের। অনেকেই রুটি খেতে চান না। সেক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। এমনিতে বন্দিদের জন্য বাইরে থেকে খাবার দেওয়া নিষিদ্ধ। তাই, ইচ্ছা থাকলেও পরিবারের লোকজন বন্দিদের লকআপে খাবার দিতে পারেন না। আগের দিন রাতে ধরা পড়া বন্দিদের সারাদিনে রুটি ও তরকারি খেয়ে থাকতে হয়। সন্ধ্যায় সংশোধনাগারে পৌঁছানোর পর রাতের খাবার মেলে।” আইনজীবী হরদীপ সিং আলুওয়ালিয়া বলেন, “খাবারের বিষয়টি সরকারের মানবিকভাবে দেখা উচিত। লকআপের পরিবেশও খারাপ। খাবারের পাশাপাশি পানের যোগ্য জল মেলেনা। নোংরা পরিবেশে লকআপে বন্দিদের থাকতে হয়। অগ্নিমূল্যের সময়ে বরাদ্দের টাকায় সারাদিনের খাবার মেলা সম্ভব নয়। খাবারের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো উচিত। বন্দিদের খাবার না মেলা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে জেলা জজ ও সিজেএমের দেখা উচিত।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here