দুর্গাপুর স্টেশন বাজার খোলা নিয়ে এখনো সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছেতে পারলো ব্যাবসায়ীরা

0
933

সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- দুর্গাপুর স্টেশন বাজার কমিটির হাতে সরকারি সার্কুলার কিংবা মহকুমা প্রশাসন কর্তৃক কোনও লিখিত নির্দেশ না থাকায়, দোকান খোলা যাবে কি যাবে না এই নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছেতে পারেননি দুর্গাপুর স্টেশন বাজারের ব্যাবসায়ীরা। ওই ব্যাবসায়ী কমিটির যুগ্ম সম্পাদক শুভজিৎ নিয়োগী দ্যার্থহীন ভাষায় বলেন, গতকাল দুর্গাপুর মহকুমা শাসক দুর্গাপুরের সমস্ত বাজার কমিটিদের নিয়ে মিটিংয়ে বসেন। সেখানে বলা হয় প্রত্যেকটি বাজার খোলার জন্য। কিন্তু কোনও লিখিত সার্কুলার দেওয়া হয়নি। এমন কি প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও মাইকিং করে জানানো হয়নি। শুধু মৌখিক বলা হয়, আপনারা দোকান খুলুন। ফুটপাতের দোকান খোলা যাবে না। গলির ভেতর দোকান খোলা যাবে না। কোনও দোকানে ৭ জন বেশি স্টাফ এবং খরিদার ঢুকতে দেওয়া যাবে না। সামাজিক দূরত্ব মেনে, প্রত্যেকের মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। এইসব বিধি না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুভজিৎবাবু বলেন, এই সমস্ত বিধি মেনে চলার ব্যাপারে কোনও লিখিত সরকারি নোটিশ দেওয়া হয়নি। এই অবস্থায় কিভাবে দোকান খোলা হবে, সে নিয়ে ব্যসায়ীরা ঐক্যমতে পৌঁছেতে পারেনি। তার আরও বক্তব্য, এতো বড় বাজার খোলা হলে সেখানে বহু মানুষের সমাগম হবে এটা নিশ্চিত। তাতে ঝুঁকিও আছে। কোনও আক্রান্ত ব্যক্তি ওইসময় বাজারে আসবে না, তার কি গ্যারেন্টি আছে ? তার উপর আবার, সকাল ১০ টা থেকে ২ টো এবং দুপুর ২টো থেকে বিকাল ৫টা , এই দুটি সময় কোন কোন দোকান খোলা থাকবে সেই নিয়েও ব্যাবসায়ীদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। এই উদ্ভুত পরিস্থিতে দুর্গাপুর স্টেশন বাজার খোলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এইদিকে, আজ সকালে এইসমস্ত বিষয় নিয়ে একটি বৈঠকে বসে ব্যাবসায়ীরা টি এন স্কুলের মাঠে। সেই বৈঠকে ব্যাবসায়ীদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। শেষপর্যন্ত পরিস্থিতি বিশঙ্খলায় পৌঁছে যায়। কয়েকজন ব্যাবসায়ী কোকওভেন থানার পুলিশকে ফোন করে দেন। অভিযোগ,সেই সময় পুলিশ এসে এলোপাথাড়ি লাঠি চার্জ শুরু করে দেয়। এরফলে যুগ্ম সম্পাদক গৌতম দাস সহ কিছু ব্যাবসায়ী কমবেশী আহত হন। অনেক সবজি ব্যাবসায়ী আহত হন।
এমন ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে স্টেশন বাজারে। চত্বরে অহেতুক পুলিশ কেন লাঠি চালালো ? ব্যাবসায়ীরা এই দাবীতে ওঠে গর্জে উঠে। অরবিন্দ ভট্রাচার্য নামে ওই পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, সেই দাবি তোলেন ব্যাবসায়ীরা। পরিস্থিতির সামাল দিতে কোকওভেন থানাতে ব্যাবসায়ীদের নিয়ে মিটিংয়ে বসেন ওসি সন্দীপ দাস, এবং দুর্গাপুরের কয়েকজন পুলিশ আধিকারিক। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, ওই পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে ডিপার্মেন্টাল তদন্ত করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here