সাধারণ মানুষ আজ অত্যন্ত সচেতন তাই রিজেক্ট করছেন চিত্র তারকাদের

0
360

অমল মাজিঃ- মাত্র কয়েকদিন আগে তৃণমূলে জয়েন করেছেন এমন কয়েকজন সিনেমা এবং বাংলা সিরিয়ালের অভিনেতা, অভিনেত্রীকে এবার তৃণমূল কংগ্রেস বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করেছে। আর তাতেই গেলো গেলো রব উঠেছে সংশ্লিষ্ট বিধানসভা এলাকায় দলের অন্দরমহলে। ক্ষোভ বহির্প্রকাশ ঘটেছে প্রকাশ্যে।


“গো ব্যাক সায়ন্তিকা, আমরা সায়ন্তিকাকে মানছি না মানব না” এই আওয়াজ তুলে বাঁকুড়ার সাধারণ মানুষ শ্লোগান দিচ্ছেন। বাঁকুড়ার তৃণমূল বিধায়ক শম্পা দরিপাকে বাদ দিয়ে সেই জায়গায় প্রার্থী করা হয়েছে সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় নামে একজন সাধারণ মানের অভিনেত্রীকে। ওই এলাকায় তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা প্রকাশ্য রাস্তায় নেমে এর প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন। স্থানীয় তৃণমূলের মানুষদের বক্তব্য, “আমরা সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিনি না জানি না। আমরা এনাকে প্রার্থী হিসেবে মানব না। ইনি বহিরাগত প্রার্থী।” কিন্তু শম্পা দরিপা স্থানীয় বাসিন্দা। ওনাকে দিনে রাতে ডাকলে পাওয়া যায়। অতএব আমরা এলাকার “মেয়ে” শম্পা দরিপাকে প্রার্থী হিসাবে চাই।

একই অবস্থা আসানসোল দক্ষিণ আসনে তৃণমূল প্রার্থী অভিনেত্রী সায়নী ঘোষকে নিয়ে। স্থানীয় তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখায়।
এই অভিনেত্রী একদা নিজে হিন্দু হয়েও ভগবান শিবলিঙ্গ নিয়ে অশ্লীল কথা বলে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। সেই অভিনেত্রীকে এমনিতেই অধিকাংশ হিন্দু মহিলাদের না পসন্দ। তার উপর আবার আসানসোল বাসিন্দাদের বক্তব্য, স্থানীয় কোনও নেতাকে প্রার্থী করতে হবে। তারা এই “বহিরাগত” প্রার্থীকে মানবেন না।
এছাড়াও যে কয়েকজন চিত্র তারকাকে তৃণমূল প্রার্থী করেছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে ক্ষোভ বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এহেন পরিস্থিতিতে একটা বিষয় আজ পরিষ্কার। তথাকথিত চিত্র তারকাদের প্রতি সাধারণ মানুষের আকর্ষণ হারাচ্ছে। সেই ২০১১ সালে বিধানসভা কিংবা ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের সময় এইসমস্ত চিত্র তারকাদের প্রতি সাধারণ মানুষের যেরকম আগ্রহ এবং আকর্ষণ ছিল এখন তা অনেকটাই ম্লান। অর্থ্যাৎ সাধারণ মানুষের চোখে চিত্র তারকারা গুরুত্ব হারাচ্ছে।

হবে নাই বা কেনো, বাস্তব চিত্র বলছে, এইসমস্ত চিত্র তারকারা নির্বাচনে জিতে পরিযায়ী পাখির মতো কলকাতায় চলে যান। নির্বাচিত এলাকায় তাদের টিকি আর পাওয়া যায় না। নির্বাচন কেন্দ্রের সাধারণ ভোটারা যারা তাকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছিলেন, পরবর্তীতে সেই নির্বাচিত চিত্র তারকা প্রতিনিধিকে তারা আর তাদের প্রয়োজনে, বিপদে আপদে পান না। নির্বাচিত প্রতিনিধির একটা সার্টিফিকেট কিংবা একটা সই-এর জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতে হয় সাধারণ মানুষকে।

বিগতদিনে এমনই অভিজ্ঞতা রয়েছে সাধারণ মানুষের। অভিনেত্রী মুনমুন সেন তার জলজ্যান্ত উদাহরণ। তারজন্যই ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া জেলার বড়জোড়া আসনে হারতে হয়েছিল অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীকে। বড়জোড়া এলাকার সাধারণ মানুষ তথা ভোটাররা আন্তরিকভাবে এই চিত্র তারকাকে গ্রহণ করেননি, রিজেক্ট করেছিলেন।

ওই এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে যেটা জানা গেছে সেটা হলো, এইসব চিত্র তারকারা নির্বাচনে জিতে তারা তাদের নিজের জগতে ফিরে যান, সাধারণ মানুষের এবং এলাকার উন্নয়নের দিকে তারা ফিরেও তাকান না। কিন্তু স্থানীয় কোনও প্রার্থীকে নির্বাচিত করা হলে সময়ে অসময়ে তাকে পাওয়া যায়, সে যেকোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হোক না কেনো।

আসলে এখন সাধারণ মানুষ অত্যন্ত সচেতন। তারা বুঝে গেছেন, নির্বাচনের সময় কেবলমাত্র ভোট পাওয়ার জন্য চিত্র তারকারা তাদের রূপ সৌন্দর্য্য দেখিয়ে, সিনেমার চোখা চোখা কিছু ডায়লগ আওড়ে, গান গেয়ে সাধারণ মানুষের মন জয় করেন মাত্র। তাতেতো আর নির্বাচন পরবর্তীতে দৈনন্দিন জীবন যুদ্ধে কোনও কাজে লাগে না সাধারণ খেটে খাওয়ামানুষের।


এইসমস্ত চিত্র তারকাদের মাঠেঘাটে নেমে রাজনীতি করার কোনও অভিজ্ঞতা নেই। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন যুদ্ধে সমব্যাথী হওয়ার কোনও অভিজ্ঞতা নেই। তাই তারা সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের সুখ দুঃখের ভাগিদার হন না, নিজেদের জীবন জীবিকা নিশ্চিত করা ছাড়া। তাদের উদ্দেশ্য এবং একমাত্র লক্ষ্য, একবার ভোটে জিতে এমএলএ /এমপি হতে পারলেই সারা জীবন পেনশন নিশ্চিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here