বর্ধমানে করোনা আক্রান্ত সেঞ্চুরী করতে চলেছে, কোয়ারেণ্টাইন সেণ্টার গড়তে এলাকাবাসীদের বাধা অব্যাহত

0
1955

নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান:- রবিবার রাতের মধ্যেই পূর্ব বর্ধমান জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সেঞ্চুরি পার করতে চলেছে। গতকয়েকদিনে একদিকে যখন পরিযায়ী শ্রমিকরা জেলায় আসতে শুরু করেছেন। তখন পাল্লা দিয়ে বেড়েই চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। জেলা প্রশাসনের প্রকাশিত বুলেটিনে শনিবার রাত পর্যন্ত গোটা জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯২ তে। এর মধ্যে শনিবারই আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ জন। এর মধ্যে ৪৬জন সক্রিয় বলে জেলাপ্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। জেলাশাসক বিজয় ভারতী জানিয়েছেন, শনিবার পর্যন্ত জেলায় মোট ১৫১৬ জন পরিযায়ী শ্রমিক এসেছেন। এদের মধ্যে মহারাষ্ট্র, দিল্লী, গুজরাট, তামিলনাড়ু এবং মধ্যপ্রদেশ থেকে এসেছেন ১৩৪৬ জন। জেলাশাসক জানিয়েছেন, স্বাভাবিকভাবেই গোটা জেলা জুড়ে কোয়ারেণ্টাইন সেণ্টারের সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে। এদিকে, একদিকে, কোয়ারেণ্টাইন সেণ্টার বাড়িয়ে সেখানে পরিযায়ী শ্রমিকদের রাখার উদ্যোগ যেমন প্রশাসনিকভাবে নেওয়া হচ্ছে তেমনি গোটা জেলা জুড়েই কোয়ারেণ্টাইন সেণ্টার গড়া নিয়ে জায়গায় বিক্ষোভ অব্যাহত। বর্ধমানের জেলা কৃষিভবনে যাঁরা রয়েছেন রবিবার সকাল থেকেই সেখানে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ছুটে যেতে হয়েছে পুলিশ আধিকারিকদের। জানা গেছে, ওই কোয়ারেণ্টাইন সেণ্টারে থাকা ব্যক্তিরা এদিন বাথরুম অপরিচ্ছন্ন এবং তা নিয়মিত পরিষ্কার না করার অভিযোগ সহ খাবারের মান নিয়েও অভিযোগ করেছেন। এদিকে, শুধু কৃষি ভবনই নয়, ইতিমধ্যেই জায়গায় জায়গায় এই ক্ষোভ বিক্ষোভ চলছে। গত ২দিন ধরেই বর্ধমান শহরের বেচারহাট এলাকায় অবস্থিত বাণীপীঠ গার্লস হাইস্কুলকে কোয়ারেণ্টাইন সেণ্টার না করতে দেবার দাবীতে এলাকার মানুষজন গোটা স্কুলকে বাঁশ দিয়ে ঘিরে দিয়েছেন। এমনকি গত ২দিন ধরেই সেখানে চলছে পালা করে রাত পাহারাও। এলাকার বাসিন্দা, দোলন রায়, প্রসাদ শীল, দেবব্রত হালদার প্রমুখরা জানিয়েছেন, এই স্কুল লাগোয়া রয়েছে ঘনবসতি। একইসঙ্গে স্কুলের ভেতর রয়েছে একটি মন্দির। যেখানে এলাকার মানুষজন নিয়মিত পূজো অনা করেন। পাশাপাশি এখনও এই এলাকায় কোনো করোনা আক্রান্তের ঘটনা ঘটেনি। তাই তাঁরা কোনোমতেই করোনা রোগীদের এই স্কুলে থাকতে দেবেন না। যদিও এব্যাপারে এদিন বর্ধমান পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার অমিত গুহ জানিয়েছেন, এই ধরণের কোনো খবর তিনি এখনও পাননি। সোমবার গোটা বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেবেন। অপরদিকে, শনিবার রাতেই জেলাপুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, জায়গায় জায়গায় গোটা জেলা জুড়েই কোয়ারেণ্টাইন সেণ্টার না করতে দেবার এলাকাবাসীর বিক্ষোভ অভিযোগ সম্পর্কে জানিয়েছেন, এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট এলাকার থানা এবং পুলিশ আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলেই সমস্যার সমাধান করার জন্য। তিনি জানিয়েছেন, অনেক সময়ই ভুল বোঝাবুঝির জন্য এই ঘটনা ঘটছে। তা যাতে না হয় এবং আইন শৃঙ্খলার যাতে কোনো অবনতি না ঘটে সেজন্য জেলা পুলিশ সর্বদা নজরদারী চালাচ্ছে। উল্লেখ্য, সোমবার থেকে ৪র্থ দফার লকডাউন উঠে গেলেও এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মন্দির, মসজিদ প্রভৃতি খোলার শর্ত সাপেক্ষে অনুমতি দিলেও রবিবার বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলার ট্রাষ্ট কমিটির পক্ষ থেকে ৫ম দফার লকডাউন পর্যন্ত মন্দির বন্ধ রাখার নির্দেশ জারী করেছে। যদিও দেবী নিত্যসেবা হবে। অন্য কোনো পুজো হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here