সময় মতো দুর্ঘটনা জনিত রোগী কে হাসপাতালে পৌঁছানো’র উদ্দেশ্যে চালু হল ‘পথবন্ধু প্রকল্প’

0
651

সংবাদদাতা, বাঁকুড়াঃ- সময় মতো হাসপাতালে পৌঁছানো বা প্রাথমিক কিছু পদ্ধতি প্রয়োগ করলে অনেক দুর্ঘটনা জনিত রোগীর প্রাণ বাঁচানো সম্ভব এবার সেই উদ্দেশ্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মস্তিষ্ক প্রসূত পথবন্ধু প্রকল্প। সারা রাজ্যের বিশেষ করে দুর্ঘটনা প্রবন এলাকায় পথবন্ধুরা কাজ করবে। এই কাজের জন্য ওই সমস্ত দুর্ঘটনা প্রবন থানা এলাকায় যুবকদের বেছে নেওয়া হয়েছে। বাঁকুড়া জেলায় ২৩ টি দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা রয়েছে। এই ২৩ টি দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা পড়ছে ৫টি থানার মধ্যে যেখানে রয়েছে ব্যস্ততম রাজ্য সড়ক এবং জাতীয় সড়ক। প্রায় দিনই এই এলাকায় দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। এবার ঐ সমস্ত দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকায় দুর্ঘটনাজনিত আহতদের প্রাথমিক কিছু টিপস প্রয়োগের মধ্য দিয়ে তড়িঘড়ি হাসপাতালে পৌঁছানোর কাজ করবে পথ বন্ধুর টিম। অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটলে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, এম্বুলেন্স ডাকা, পুলিশকে খবর দেওয়া এইসব কাজে লোকজনের অভাব দেখা যায় আর যার ফলেই দুর্ঘটনা স্থলেই অনেক রোগীর মৃত্যু হয়। অথচ সময় মত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অনেক আহতর প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। সেই কাজ করবে পথবন্ধু বাহিনী। দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকায় বসবাসকারী স্থানীয় উদ্যো গী যুবকদের পথ বন্ধু হিসাবে নিয়োগ করেছে বাঁকুড়া জেলা পুলিশ। বাঁকুড়া জেলায় ২৩ টি দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকায় ২৩০ জন কে নিয়োজিত করা হয়েছে। প্রতিটি দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকায় ১০ জন করে পথ বন্ধুর টিম কাজ করবে। এই ২৩০ জন কে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতা বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা দুর্ঘটনাজনিত রোগীদের কিভাবে প্রাথমিক দেখভাল করবে এবং হাসপাতালে পৌঁছে দেবে সেই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। দুর্ঘটনা ঘটলো ওই টিম প্রাথমিকভাবে কি কাজ করবে তা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিলেন বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক দল। আনাস্তেসিয়া, মেডিসিন, অর্থোপেডিক ও শল্য বিভাগের অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা পথবন্ধু হিসাবে নিযুক্ত যুবকদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিলেন। চিকিৎসক দের কথায় ডাক্তারি বিদ্যা না জানলেও এমন কিছু প্রাথমিক পদ্ধতি রয়েছে যেগুলো সাধারণ মানুষের জানা প্রয়োজন। সাধারণ বেশ কিছু টিপস প্রয়োগ করলে অনেক দুর্ঘটনা কবলে পড়া রোগীর প্রাণ বাঁচানো সম্ভব বলেও মনে করছেন চিকিৎসকরা। দুর্ঘটনা ঘটলো কোন রোগীকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে তা পরিষ্কার করে হাতে কলমে প্রশিক্ষণে বুঝিয়ে দেন চিকিৎসকরা। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে রোগীকে কিভাবে হাসপাতালে নিয়ে আসা উচিত সেই সব বিষয়ে সম্যক ধারণা প্রশিক্ষণের চিকিৎসকরা। বেসিক লাইফ সাপোর্ট কিভাবে প্রয়োগ করতে হয় তাও পরিষ্কার করে পথ বন্ধুদের বুঝিয়ে দিলেন চিকিৎসকের দল। একেবারেই ডেমো করে বেসিক লাইফ সাপোর্ট দেওয়ার পদ্ধতি হাতে-কলমে শেখালেন পথ বন্ধুর কাজে নিযুক্ত যুবকদের। এছাড়াও আরো নানান জীবনদায়ী কৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হল পথ বন্ধুদের। দুর্ঘটনা ঘটলে কুইক রেসপন্স টিমের মত কাজ করবে এই পথ বন্ধুর টিম। এই পথ বন্ধুদের কাছে থাকবে স্থানীয় থানা, এম্বুলেন্স হাসপাতাল, ব্লাড ব্যাংক সহ গুরুত্বপূর্ণ মোবাইল নম্বর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here