গ্রাহকের ইচ্ছেমতো অর্থের পেট্রোল দিতে নারাজ পাম্পকর্মীরা, মেশিনে কারচুপির অভিযোগ গ্রাহকদের

0
5487

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ শহর যত এগিয়েছে, বেড়েছে চার চাকা গাড়ি ও দু-চাকা যানবাহনের সংখ্যা। বর্তমান শিল্পশহরে গত এক দশকে কয়েক গুণ বেড়েছে যানবাহন। প্রায় প্রত্যেকে বাড়িতেই বর্তমানে স্কুটি কিংবা মোটর সাইকেল তো রয়েছেই, সেই সঙ্গে বহু বাড়িতেই রয়েছে এক বা একাধিক চার চাকাও। ফলে প্রায় প্রত্যেকদিনই শিল্পশহরে বেড়েছে পেট্রোপণ্যের চাহিদা, অর্থাৎ গাড়ির জ্বালানী তেল ডিজেল কিংবা পেট্রোল। দৈনন্দিন চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শিল্পশহরে বেড়েছে পেট্রোল পাম্পের সংখ্যাও। মানুষ যত নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে এগিয়েছে ততই চাহিদা বেড়েছে পেট্রোল, ডিজেলের। তবে সম্প্রতি বেশ কয়েক বছর ধরে শিল্পশহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পগুলিতে প্রায়ই এক অদ্ভূত চিত্র নজরে আসছে, তা হল কোনও ক্রেতা যদি গাড়িতে ১০০ টাকা, ২০০ টাকা কিংবা ৫০০ টাকার তেল ভরতে চাইছেন সেক্ষেত্রে কোনো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না তাদের, কিন্তু সেই ক্রেতাই যখন ১০৩ টাকা, ২০৫ টাকা কিংবা ৫১৭ টাকার তেল দেওয়ার জন্য পেট্রোল পাম্পের কর্মীদের বলছেন তখনই বেঁকে বসছেন তারা। পেট্রোল পাম্প কর্মীদের পাল্টা জবাব, ১০৩ টাকা হবে না, হয় ১০৫ টাকা নিন কিংবা ১১০ টাকার নিতে হবে। কিন্তু কেন? শিল্পশহরের একটা বা দুটো পেট্রোল পাম্প নয়, বেশ কিছু পেট্রোল পাম্পে তেল ভরাতে গেলেই ক্রেতাদের এইধরণের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এই বিষয়ে শিল্পশহরেরই এক পেট্রোল পাম্প মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ক্রেতা ঠিক যে পরিমাণ টাকার তেল নিতে চাইবেন, পেট্রোল পাম্প কর্মীরা সেই পরিমাণ তেল দিতে বাধ্য। কোনও পেট্রোল পাম্পেই এইধরণের কোনও নির্দেশিকা নেই যেখানে বলা আছে সমস্ত ক্ষেত্রেই ক্রেতাকে জোড় সংখ্যার (১০০, ১১০, ২০০, ৫০০ টাকা) টাকায় তেল নিতে হবে। প্রশ্ন উঠছে তাহলে শহরের একাধিক পেট্রোল পাম্পগুলিতে এইধরনের ঘটনা কেন ঘটছে? গোপন তদন্ত থেকে জানা গেছে, শহরের বেশ কিছু পেট্রোল পাম্পগুলিতে পেট্রোল বা ডিজেলের মিটারে কারচুপি করা রয়েছে। কীরকম সেই কারচুপি? জানা গেছে ওই সমস্ত পেট্রোল পাম্পগুলিতে ক্রেতাদের ৫০, ১০০, ১১০ কিংবা ২০০ টাকার তেল কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে এই কারণে, কারণ ওই মিটারগুলিতে আগে থেকে পাম্প কর্তৃপক্ষ কারচুপি করে রাখছে, এর ফলে আপনি যখনই ১০০ বা ১১০ টাকার তেল নিচ্ছেন তখনই আগে থেকে সেট করে রাখা মিটার থেকে একটা নির্দিস্ট পরিমান তেল বেরনোর পর তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তেল দেওয়ার সময় পাম্পের পাইপের মুখ তেলের ট্যাঙ্কের ভেতরে থাকায় আপনি দেখতেই পাচ্ছেন না আদৌ মিটার চলার সঙ্গে সঙ্গে তেল আপনার ট্যাঙ্ককে যাচ্ছে, না যাচ্ছে না। এইভাবেই দিনের পর দিন প্রত্যেক ক্রেতাকে কম তেল দিয়ে প্রতারনা করে আসছে শহরের একাধিক পেট্রোল পাম্পগুলি। কিন্তু কর্মব্যস্ত শহরের মানুষ ব্যস্ত সময়ে কখনো এই ঘটনা চাক্ষুস করেও নজর এড়িয়ে যাচ্ছেন আবার কখনও তারা বুঝতেও পারছেন না কিভাবে তাদের প্রতারনা করা হচ্ছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই প্রত্যেক দিন মোটা টাকা মুনাফা লুটছে কিছু পেট্রোল পাম্পগুলি। এইবিষয়ে প্রতিবাদ হয়নি তাও না, একাধিক বার শিল্পশহরে বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে এইধরনের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন জনগন, তাদের প্রতিবাদে সাময়িকভাবে চাপে পড়ে পেট্রোল পাম্পগুলি কিছুদিন তাদের এই কারচুপি বন্ধ রাখলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফের তা শুরু হয়ে গেছে। এর আগে পেট্রোলে জল মেশানোর অভিযোগও সামনে এসেছিল শিল্পশহরের স্টীল টাউনশিপ এলাকার এক পেট্রোল পাম্পের বিরুদ্ধে। সেইসময় পাম্প কর্তৃপক্ষ এক হাস্যকর দাবী জানিয়েছিল বৃষ্টির জল কোনভাবে পাম্পের রিজার্ভারে ঢুকে গিয়ে এই বিপত্তি হয়েছিল। সেখানেও প্রশ্ন উঠেছিল তাই যদি হয় তাহলে ওই পাম্পের নিরাপত্তায় প্রশ্নের মুখে, কারণ বৃষ্টির জল যদি পেট্রোলের রিজার্ভারে ঢুকতে পারে তাহলে যেকোনো সময় ওই পাম্পে ভয়াবহ দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। এইবিষয়ে শহরবাসীর একাংশের অভিযোগ, প্রশাসনিক কোনও নজরদারিই নেই, আর সেই কারণেই ক্রমে পেট্রোল পাম্পগুলিতে কারচুপি বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, প্রতিবাদ করতে গেলে পাম্পের কর্মীদের যে অভব্য আচরণের সামনে পড়তে হয় তা খুবই অপমানজনক। দিনের পর দিন পেট্রোল পাম্পগুলির কর্মীদের গা জোয়ারি মনোভাব বেড়েই চলেছে। তাই এইধরনের ঘটনা বন্ধ করতে আচমকা এইসমস্ত পেট্রোল পাম্পগুলিতে মাঝে মধ্যেই প্রশাসনিক নজরদারি চালানো প্রয়োজন। না হলে এই প্রতারনা ও বেপরোয়া মনোভাবে লাগাম দেওয়া যাবে না বলে জানাচ্ছেন শিল্পশহরের মানুষ।