পুলিশ ধরে পার্টির ছাতা নেতার মাথাতে, এরপরেও কী করবে পুলিশ ভোট নিরপেক্ষতাতে

0
1142

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ ২০১৯ লোকসভা ভোটের প্রথম দফার ভোট মধ্যগগনে। প্রথম পর্যায়ের ভোট ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে ভোটকেন্দ্রগুলি। কিন্তু তাসত্বেও প্রথম দফার ভোটে মহারাষ্ট্রে মাওবাদী হামলায় এক আধাসামরিক জওয়ানের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একদিকে যখন প্রথম দফার ভোট ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে রাজনৈতিক মহলে তখন অন্যান্য লোকসভা কেন্দ্রগুলিতে প্রচারাভিযানে ব্যস্ত শাসক-বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হেভিওয়েট প্রার্থী থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রার্থীরা। এরইমধ্যে লোকসভা ভোটের প্রচারে একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে প্রকাশ্য রাজপথে এক তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর প্রচার চলাকালীন তাঁকে রোদের তাপ থেকে বাঁচাতে এক সশস্ত্র পুলিশকর্মী প্রার্থীর মাথায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক অঙ্কিত ছাতা ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। আর এই ছবি সামনে আসতেই বিতর্কের ঝড় উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেকেই এই ঘটনায় পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলতে শুরু করে দিয়েছেন। কারণ এর আগেও বহুবার পুলিশের কাজকর্মে শাসকদলের হয়ে পক্ষাপাতিত্ব করার অভিযোগ উঠেছে। আর এই ঘটনা সামনে আসতেই এই সুযোগকে পুরোদস্তুর কাজে লাগিয়েছে বিরোধী দলগুলি। তাদের বক্তব্য, যেখানে একজন সশস্ত্র পুলিশকর্মীকে হুড খোলা গাড়িতে প্রচারে ব্যস্ত প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেখানে সেই পুলিশকর্মীকে কী করে প্রার্থীর মাথায় ছাতা ধরার কাজে ব্যবহার করা হল তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় তুলেছে বিরোধী শিবির। তবে এই ঘটনা এই প্রথম নয়, এর আগেও রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনকে বিভিন্নভাবে অপদস্থ করার উদাহরণ রয়েছে। কারণ, এক্ষেত্রে বহুবার অভিযোগ উঠেছে যে কোনও পুলিশকর্মী যদি কোনও প্রার্থী বা নেতা-মন্ত্রীর নির্দেশ মতো দায়িত্ব পালন না করেছেন তাহলে সেই পুলিশকর্মীকে ভোটের পরে হয় কোনও কঠিন পরিবেশে বদলি করা হয়েছে নয়তো বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তাঁকে শো-কজ করা হয়েছে। আবার, কোনও পুলিশকর্মীর কাজে সন্তুষ্ট হয়ে তার পুরষ্কার স্বরূপ “প্রাইজ ট্রান্সফার”-র উদাহরণও দেখা গেছে। যেখানে বদলি হয়ে সেই পুলিশ আধিকারিক উপরি তোলা আদায় করে ধনী থেকে বিত্তবান হয়ে উঠেছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কেন বারবার পুলিশ প্রশাসনকে, যাদের কাজ সমাজের আইন-শৃঙ্খলা বা নিরাপত্তা রক্ষা করা তাদেরকে নিজেদের ক্ষমতা বলে রাজনৈতিক নেতা-নেতৃত্বরা তাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য হাতের পুতুলে পরিণত করবে? পুলিশ প্রশাসনই বা কেন এইসমস্ত অনৈতিক ব্যবহার মাথা নত করে মেনে নেবে? শুধু মাত্র মুষ্টিমেয় টাকা বা ভালো জায়গায় পোস্টিং পাওয়ার লোভে দিনের পর দিন নিজেদের পদমর্যাদাকে বিকিয়ে চলেছেন পুলিশ প্রশাসনের একশ্রেণীর পুলিশ কর্তারা। কিন্তু আখেরে ক্ষতি কার হচ্ছে তা পুলিশ প্রশাসন নিজেরাও জানেন। একদিকে যখন কর্তব্যরত এক পুলিশ আধিকারিককে দিয়ে মাথার ওপরে ছাতা ধরিয়ে বিতর্কে তৃণমূল কংগ্রেস তখন রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে বিএসএফ জওয়ানদের বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ তুললেন রাজ্যের মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, কোচবিহার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির সাধারণ মানুষ অনেকটাই বিএসএফের ওপর নির্ভর করে থাকে। তাই সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিএসএফ জওয়ানরা সীমান্ত এলাকায় নিজেদের ডিউটি ছেড়ে ভোটকেন্দ্রে চলে এসে ভোটারদের প্রভাবিত করছেন বলে সংবাদমাধ্যমের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। এবিষয়ে সংবাদমাধ্যমের তরফে নির্বাচন কমিশন কিংবা অবজারভারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন কিনা প্রশ্ন করা হলে, তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন তাঁর ফোনই ধরছে না এবং অবজারভার তাঁর দায় সেরে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন বলে অভিযোগ মন্ত্রীর।