পোস্ট অফিসের টাকা আত্মসাৎ করে পলাতক পোস্ট মাস্টার

0
595

সংবাদদাতা, বর্ধমানঃ- ভারতবর্ষের সাধারণ নাগরিকদের টাকা কতটা সুরক্ষিত ব্যাংক ও পোস্ট অফিস গুলিতে তা নিয়ে এখন প্রশ্নচিহ্নের রয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন ব্যাংকে সংযুক্ত করণের মাধ্যমে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে পোস্ট অফিসে টাকা রাখার সম্পূর্ণ সুরক্ষিত বলে জোর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। গোটা দেশজুড়ে কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে পোস্ট অফিস বা ব্যাংকে যে সমস্ত অসাধু কর্মচারীরা কাজ করছেন তাদের হাতে কতটা সুরক্ষিত আমানতকারীদের টাকা । এ নিয়ে চলছে জোর রাজনীতি।
এরইমধ্যে বর্ধমান জেলায় এক পোস্ট অফিসে আমানতকারীদের টাকা আত্মসাৎ করে পোষ্ট মাস্টারের পলাতক হওয়াকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে ।

পূর্ব বর্ধমান জেলা জামালপুর থানা এলাকার শিপতাই সাব পোস্ট অফিসে আমানতকারীদের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠল খোদ পোস্ট মাস্টারের বিরুদ্ধে। হুগলির খানপুর পোস্ট অফিসের অধীন শিপতাই গ্রামের এই সব পোস্ট অফিস । শিপতাই সাব পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার আদিত্য দাস আমানতকারীদের টাকা নিয়ে পলাতক বলে জানা যাচ্ছে। জামালপুর থানা এলাকার প্রায় ৭ টি গ্রামের কয়েকশো আমানতকারী এই সব পোস্ট অফিসে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ সঞ্চয় করে রাখতেন । সাব পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার আদিত্য দাস তাদেরকে কোনরকম কম্পিউটার বিল না দিয়ে তাদের এ্যাকাউন্ট বইয়েতে পেন দিয়ে লিখে সিলমোহর মেরে টাকা জমা নিতেন বলে অভিযোগ আমানতকারীদের । গ্রামের সাধারণ বাসিন্দারা এ বিষয়ে পোস্টমাস্টারকে কম্পিউটার বিল চাইতে গেলে তিনি জানাতেন যে কোন অসুবিধা হবে না , তাদের টাকা সুরক্ষিত আছে তাদের একাউন্টে। তার প্রমাণ হিসেবে একাউন্টের বইটিতে লেখা আছে নির্দিষ্ট কত টাকা তাদের আছে। সাধারণ গ্রামবাসীদের সরল মনে উক্ত পোস্টমাস্টারকে বিশ্বাস করে কয়েক লক্ষ টাকা জমা করেছিলেন ২০১৮ সাল থেকে।

গত সপ্তাহে পোস্টমাস্টার ও তার সহযোগী কৌশিক মাঝি হঠাৎই পোস্ট অফিস বন্ধ করে গায়েব হয়ে যান। তারপর থেকেই পোস্ট অফিস বন্ধ রয়েছে। সাধারণ গ্রামবাসীরা পোস্ট অফিসে গিয়ে প্রতিদিনই ফিরে আসেন। অবশেষে পোস্টমাস্টারের গ্রামের বাড়িতে গেলে জানা যায় যে তিনি গত সাতদিন ধরে বাড়িতে আসেননি । তখনই গ্রামবাসীদের সন্দেহ জাগে। তারা বুঝতে পারেন যে তারা প্রতারিত হয়েছেন । সাধারণ গ্রামবাসীরা তৎক্ষণাৎ হুগলির খানপুর পোস্ট অফিসে যান এবং তাদের জমা রাখা টাকা তুলে নিতে চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানকার আধিকারিকরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যে তাদের একাউন্টে দীর্ঘদিন ধরে কোন টাকায় জমা পড়েনি। এসব শুনে মাথায় হাত সাধারণ গ্রামবাসীদের। শিপতাই গ্রামের বাসিন্দা সত্য রঞ্জন দাস, সৌরভ পাল, তুহিনা বেগম, মৌসুমী দাস, বিভারানী সাধুখা, মধুসূদন নন্দীর মত কয়েকশো গ্রামবাসী তখন জামালপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ।

আমানতকারীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার পুলিশ বুধবার ভোর রাত্রে শিপতাই সাব পোস্ট অফিসের কর্মী কৌশিক মাঝিকে গ্রেফতার করে তার গ্রামের বাড়ি থেকে। কিন্তু গ্রামের সাব পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার আদিত্য দাস পলাতক । পুলিশ একটি সূত্র থেকে জানা গেছে অভিযুক্ত পোস্টমাস্টারের সন্ধানে জোর তল্লাশি চালানো হচ্ছে। শিগগিরই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে । ইতিমধ্যেই সাব পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার এর সহযোগী কৌশিক মাঝিকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়েছে। বিচারক ধৃতকে জেল হেপাজতে পাঠিয়ে ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দেন। সাধারণ গ্রামবাসীদের এখন একটাই দাবি অবিলম্বে প্রতারক পোস্টমাস্টারকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে এবং তাদের কাছ থেকে প্রতারিত করা অর্থ তাদের ফেরত দিতে হবে বলে জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here