দূষণের জেরে চরখা পুঁতে পোল্ট্রি ফার্ম বন্ধ করল আদিবাসীরা দুর্গাপুরে

0
2027

সোমনাথ মুখার্জি, লাউদোহাঃ- লাউদোহার দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকের হেতে ডোবা এলাকায় রয়েছে মুরগীর পোল্ট্রি ফার্ম । ওই এলাকায় প্রায় হাজার খানেক আদিবাসী লোকের বাস। তাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ পোল্ট্রি ফার্মের কারণে এলাকায় ছাড়িয়েছে দূষণ , সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিষাক্ত মশা, মাছির উপদ্রব।
আদিবাসী গাউতা সংগঠনের পশ্চিম বর্ধমান জেলার সেক্রেটারি নরেন টুডু বলেন , পোল্ট্রি ফার্মের কারণে এলাকায় ভীষণ ভাবে ছড়িয়েছে দূর্গন্ধ, সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় মাছি ও মশার উপদ্রবে দিনের বেলাতেও মশারী খাটিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের । এলাকায় এত বিষাক্ত মাছির উপদ্রব যে এলাকায় কোনও রকম ভোজ কাজ হলে মাছির কারণে ভীষণ সমস্যায় পড়তে হয়। বারবার পোল্ট্রি ফার্মের মালিককে বলেও কোনও কাজ হয়নি বলে অভিযোগ আদিবাসী লোকেদের ।
অপরদিকে পোল্ট্রি ফার্মের মালিক শেখ আবু জাফর জানান, সরকারি সব নিয়ম কানুন মেনেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফার্ম চালাচ্ছেন । তিনি এও জানান, ফার্মের কারণে কোন দূষণ এলাকায় চড়াচ্ছে না । এবিষয়ে তিনি দূষণ বিষয়ক সব নথি স্থানীয় পঞ্চায়েত দাখিল ও করেছেন । পঞ্চায়েত, বিডিও, স্বাস্থ্য দপ্তর ইতিমধ্যেই তার পোল্ট্রি ফরম পরিদর্শন করে ক্লিন চিট দিয়েছেন বলে দাবি ফার্মের মালিক জাফর বাবুর।
জাফর বাবু বলেন যেহেতু তার ফার্ম একটা সুন্দর জায়গায় অবস্থিত তাই কিছু জমি মাফিয়া ও কোনো রাজনৈতিক দলের মদতে আদিবাসী লোকেদের দিয়ে ফার্ম বন্ধ করে তাদের জমি হাতানোর চেষ্টা চলছে । কারণ হিসাবে তিনি বলেন যদি ফার্মের কারণে এলাকায় সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে তাহলে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হতে পারে । কিন্তু টা না করে শুধু ফার্ম বন্ধ করার কথা বলা হচ্ছে।
আবু জাফর আরো জানান, এই মুহূর্তে তার ফার্ম প্রায় এক লাখ মুরগি রয়েছে, যদি আজ রাতের মধ্যে সেই সব মুরগীর জল ও খাবার না দেওয়া হয় ,তাহলে সব মুরগি ই মারা যাবে। ফলে চরম আর্থিক সমস্যায় পড়বেন তিনি, এক কথায় ফার্ম চালাতে তিনি বিপুল অর্থ লন নিয়েছেন ব্যাংক থেকে। যদি সব মুরগি মারা যায় তাহলে পথে বসবেন তিনি বলে জানান। সাথে সাথে এলাকারই প্রায় ৩০ জন লোক যারা ফার্মে কাজ করে পেট চালান তাদের রুজি রোজকার বন্ধ হয়ে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here