জলের অভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট শুরু, বন্ধ হচ্ছে একের পর এক বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট

0
483

মনোজ সিংহ, দুর্গাপুর :- দুর্গাপুর ব্যারেজের লক গেট সারানোর কাজ এখনো শুরু করা যায়নি। গত চারদিন ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে বালির বস্তা ফেলে যে বাঁধ তৈরি করা হচ্ছে তাও ধসে যাচ্ছে মাঝে মাঝে জলের তোড়ে। জলের স্রোত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা না গেলে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না লক গেট সারানোর । তবে রাজ্যের সেচ দফতরের সচিব গৌতম চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন আজ বিকেল পাঁচটার মধ্যে আশা করা যাচ্ছে জলের স্রোত বন্ধ করে কাজ শুরু করা যাবে লকগেট মেরামতির। জল শূন্য করে তোলা হবে পুরো দামোদরের ।

এদিকে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল না পাওয়ায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট গুলির। ডিভিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে মেজিয়া থার্মাল পাওয়ার স্টেশন এর একটি ইউনিট তারা বন্ধ করে দিলেন। ওই ইউনিটের ক্ষমতা ছিল ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ তৈরি করার। এর আগেও একটি ইউনিট তারা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এখন পর্যন্ত দুটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার ফলে মোট এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হল মেজিয়া থার্মাল পাওয়ার স্টেশন। দৈনিক দামোদর থেকে ডিভিসি’র মেজিয়া তাপবিদ্যুত কেন্দ্রের লাগে দৈনিক ২ লক্ষ ঘনমিটার জল। আবার রাজ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিগমের দুর্গাপুর প্রজেক্ট লিমিটেডের লাগে ৬৬ হাজার ঘনমিটার জল। সবাই দামোদর নির্ভর। যে নদী ৩১ অক্টোবরের পর শুকিয়ে কাঠ।

মেজিয়া তাপ বিদ্যুত কেন্দ্রের মুখ্য বাস্তুকার নিখিল চৌধুরী জানিয়েছেন যে আজ বিকেলে তারা আধিকারিকদের নিয়ে একটি জরুরী বৈঠক ডেকেছেন। সেই বৈঠকেই স্থির হবে যে তারা আরেকটি ইউনিট বন্ধ করবেন কি না । কারণ তাদের কাছে যে ওয়াটার রিজার্ভার আছে তার জলস্তর ক্রমাগত কমছে। প্রটোকল অনুযায়ী ১০৫ কিউবিক ঘনমিটার জল থাকলে তবেই চালানো যায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট গুলিকে। ইতিমধ্যেই সেখানে ১০৬ মিটার হয়ে গিয়েছে। তাই তারা আজ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেবেন যে তারা তাদের তৃতীয় ইউনিটির বন্ধ করবেন কি না । যদি তৃতীয় ইউনিট টি বন্ধ করতে হয় তাহলে মেজিয়া থার্মাল পাওয়ার স্টেশন এর বিদ্যুৎ ঘাটতি হবে ১৫০০ মেগাওয়াট যা সত্যিই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে রাজ্য সরকার অধীনস্থ দূর্গাপুর প্রজেক্ট লিমিটেডের একটিমাত্র ইউনিট যা এতদিন বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছিল সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হলো আজ সকাল থেকে। মূলত দূর্গাপুর প্রজেক্ট লিমিটেডের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা শূন্যে পৌঁছে গেছে এখন । এমত অবস্থায় যদি লকগেট নির্মাণে আরো সময় লাগে তাহলে গোটা রাজ্যজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় নেমে আসবে ।

“এই বাংলায়” আগেই এই সংবাদ পরিবেশন করেছিল যে গোটা দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় আসতে চলেছে। তাই সত্যি হওয়ার পথে । সব দিক মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই চাপ বাড়ছে সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের ওপর। দ্রুত লকগেট মেরামতি না হলে গোটা রাজ্য জুড়ে আসবে বিদ্যুৎ বিপর্যয় তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here