দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে লকডাউন পরিস্থিতিতে অসহায় মন্দিরের পুরোহিতরা

0
584

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- দেশের প্রধানমন্ত্রী ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছেন গোটা দেশজুড়ে। করোণা আতংকে তাই আজ ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। করোণা আতঙ্কের প্রভাবে আশেপাশের সমস্ত মন্দির গুলি ও অসহায়, অনাদরে পড়ে রয়েছে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে। শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে কমবেশি প্রায় ৫০০ টি হিন্দু ধর্মীয় স্থান বা মন্দির আছে। সেই সব মন্দিরে পৌরহিত্যের কাজে নিযুক্ত আছেন প্রায় ৭০০ বেশি ব্রাহ্মণ,বা পুরোহিত। এতদিন ধরে তারা বিগ্রহের পূজা করে আসছিলেন ঐ মন্দিরগুলিতে। এখন করোনা আতঙ্কে মানুষ আর মন্দির মুখও হচ্ছেন না, তাই জীবনধারণের জন্য আজ এই পুরোহিতদের করুন অবস্থা হয়ে পড়েছে। বেশ কয়েকটি বড় মন্দির ইতিমধ্যেই তাদের প্রধান ফটক আটক করে রেখেছেন সাধারণ মানুষের প্রবেশ রুদ্র করে। কিন্তু সেই সব মন্দিরের ভেতরে পুরোহিতের কাজে নিযুক্ত পুরোহিতরা বা ব্রাহ্মণেরা এখন খুব করুণ অবস্থায়। শিল্পাঞ্চলের যেসব মন্দির গুলি আছে তাতে যে পুরোহিত বা ব্রাহ্মণরা আছেন তাদের সকলের বয়স ৪৫ থেকে ৬৫ এর মধ্যে। তাই করোনা সংক্রমণ তাদের ওপর বেশি করে প্রভাব ফেলতে পারে সেই ভয়ে তারা নিজেরাও মন্দির থেকে বাইরে বের হচ্ছেন না। কিন্তু এমত অবস্থায় তাদের দিনগুজরান এখন মুশকিল হয়ে পড়েছে। যদিও মন্দিরগুলির বিগ্রহের নিত্য সেবা তারা এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। রাজ্য প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীরা ইতিমধ্যেই গরিব মানুষের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে চাল-ডাল পৌঁছে দিয়ে আসছেন। কিন্তু তারা একবারও কি ভেবে দেখেছেন যে শিল্পাঞ্চলের বুকে থাকা এই ৫০০ টি মন্দিরের পুজোর কাজে নিযুক্ত ৭০০ পুরোহিতদের এখন দুবেলা খাবার দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ তাদের কাছে চাল, ডাল বা নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে এখনো পর্যন্ত পৌঁছায়নি।

আক্ষেপের সাথে এক মন্দিরের বয়স্ক পূজারী জানালেন ” মানুষের কষ্টে হলে ভগবানের দরজায় আসেন তারা ভগবানের কাছে যজমানের শুভকামনা করে পুজো দেন। কিন্তু আজ সেই যজমানেরা একবারও ভেবে দেখছেন না যে তাদের পাশের মন্দিরগুলির এই পুরোহিতদের কি করুণ দশা, না খেতে পেয়ে মরার মতন উপক্রম।” পূজারী মহাশয় অনুরোধ করেন সর্বস্তরের মানুষের কাছে যাতে তারা চাল, ডাল আলু বা নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসই দিয়ে সাহায্য পেতে পারেন। সত্যি খুব করুণ অবস্থা এদের।

সামাজিক মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে গরীব রিকশাওয়ালা, ভবঘুরে, রাস্তার কুকুরদের খাবার দিতে থাকা বিভিন্ন মানুষের ছবি। কিন্তু কেউ কি একবারও এই গরীব ব্রাহ্মণদের কথা ভেবেছেন যে তারাও এখন অভুক্ত আছে। ক’জনই বা সেই সব মন্দিরের গরিব ব্রাহ্মণদের চাল, ডাল দিয়ে দুবেলা খাবার বন্দোবস্ত করছেন।
আমারা এই বাংলায়’র পক্ষ থেকে সকল দুর্গাপুর বাসীর কাছে কাতর আবেদন রইল সম্ভব হলে আর পাঁচজনকে যেমন আপনারা দৈনন্দিন খাবারের সরঞ্জাম পৌঁছে দিচ্ছেন দয়া করে আপনাদের আশেপাশে থাকা মন্দির গুলিরতে যে পুরোহিতরা আছেন তাদের কেউ খাবারের দিয়ে সাহায্য করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here