বর্ষাকালেও পর্যটনের অন্যতম আকর্ষন হতে পারে অযোধ্যা

0
958

জয়প্রকাশ কুইরি ,পুরুলিয়া: ডাউরী খাল দুর্ঘটনার পর একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল ,বর্ষাকালে অযোধ্যা পাহাড়ের এক অন্যরূপ আছে। এইরূপ একদিকে যেমন ভয়ঙ্কর, অন্যদিকে সমান মনোহারী। শুধুমাত্র মশা ও পোকামাকড়ের উৎপাত সামাল দিতে পারলে বর্ষার অযোধ্যায় ফিরে আসার ইচ্ছে হবে বারবার। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, পর্যটন দপ্তরের নিয়ে কোন প্রচার চালায় না। ফলে বর্ষায় হাতেগোনা পর্যটক আসেন পাহাড়ে। এখনো অনেকের ধারণা শীতের পিকনিক ও শীত প্রকৃতিতে উপভোগ করার জন্য শীতে অযোধ্যা পর্যটনের একমাত্র মরশুম। কিন্তু অযোধ্যা ডাকে বর্ষাতেও। কলকাতার যাদবপুর এলাকার তিন বন্ধু সুদের, অনিকেত ও রৌনক বর্ষা জাকিয়ে পড়লেই চলে আসেন পাহাড়ে। তারা বলেন আবহাওয়ার খবর এ যখন বলা হয় গভীর নিম্নচাপ আসছে এবং সেই নিম্নচাপের প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টি হবে পুরুলিয়ায়, তখন আমরা পাহাড়ে চলে আসি। তারা জানিয়েছেন, পাহাড়ি নালার চরিত্র না জানানর জন্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়ে গুলো ২০০৫ সালে ডাউরি খাল দুর্ঘটনায় পড়েছিল। হড়পা বানে ভেসে গিয়ে মৃত্যু হয়েছিল চারজনের। নইলে পাহাড় বর্ষাতেও সেফ। তারা বলেন, যেকোনো পাহাড় বা অরণ্যে বর্ষার শেষ দিক থেকে শরৎকাল বিপজ্জঙ্ক এজন্য যে সেই সময় বুনো, হিংস্র জন্তুদের মিলনের সময়। আর মিলনের সময় ওরা মানুষের উপস্থিতি পছন্দ করে না। অযোধ্যা পাহাড়ে তেমন হিংস্র জন্তুর সংখ্যা কম। তাছাড়া এসব জন্তুরা বর্ষায় দুর্গম ঘন জঙ্গলে চলে যায়। সেইসব এলাকায় না গিয়েও অযোধ্যার বর্ষাকালীন রূপ উপভোগ করা যায়। বাঁকুড়া থেকে এসে কয়েকজন জানিয়েছেন, অযোধ্যার ঝরনা গুলিতে শীত কালে প্রবাহ থাকে ঠিক, কিন্তু বর্ষার সঙ্গে সেই ধারার তুলনা হয় না। ঢেউ খেলানো পাহাড়ের এক একটি শৃঙ্গে বৃষ্টির জল নেমে আসার জন্য অসংখ্য নালা আছে। সবাই প্রাকৃতিক, অসংখ্য নালা মিলিয়ে একটি একটি ঝরনা তৈরি করেছে। যেমন টুড়গা, বামনী ও ডাউরি খাল ইত্যাদি। জলে পরিপূর্ণ ঝরণার প্রবাহ দেখার এক আলাদা অনুভূতি আছে। যারা খাওয়া-দাওয়াকে পর্যটনের অঙ্গ মনে করেন, তাদের জন্যও বর্ষার অযোধ্যা অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে। পাহাড়ি জঙ্গলে এই মরশুমে অনেক প্রজাতির মাশরুম ফোটে। যেগুলি সবজি হিসেবে খান স্থানীয় মানুষজন। একবার এর স্বাদ নিলে আর মুখ ফেরানো যাবে না। একই সঙ্গে রয়েছে উপত্যকা অঞ্চলগুলিতে চাষের কাজ দেখার অনাবিল আনন্দ। বর্ষাকালে অযোধ্যা পাহাড় আরো বেশি সবুজ হয়ে ওঠে। তবে এই মরশুমে পাহাড়ে এলে সাবধান থাকতেই হবে কারণ পাহাড়ি পথে বহু জায়গায় ভূমিক্ষয় রোধ করতে নিচু এলাকায় কংক্রিট ঢালাই করা হয়েছে |বর্ষায় সেই এলাকাগুলিতে সব সময় জল থাকায় শ্যাওলা জমে যায়। সাবধানে না চললে পা পিছলে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একটু বেশি আনন্দ নিতে গেলে বর্ষার অযোধ্যায় গ্রাম সংলগ্ন এলাকা গুলোতে পায়ে হেঁটে ঘুরতে হবে। ভাগ্য ভালো থাকলে দেখা যাবে ময়ূর নৃত্য, নানা ধরনের পাখির অবাধ বিচরণ, দেখা যেতে পারে প্যাঙ্গোলিন, সজারু, খরগোশ, বন বিড়াল । অযোধ্যা হিল টপে এ সময় কোন উৎসব থাকে না |তবে শ্রাবণ শেষে গেলে মনসা পূজা দেখা যাবে। অযোধ্যার একপ্রান্তে মুরগুমা এলাকায় ছোট ছোট ঝরনা গুলিতে নাম না জানা ছোট ছোট মাছের খেলা দেখলেও মন ভরে যাবে |আসলে তারা বলেন প্রচার নেই বলেই পাহাড় ঘিরে পর্যটন সার্কিট ও গড়া হয়নি। পাহাড়তলীতে সিরকাবাদ, বাগমুন্ডি, মাঠাকে দেখা যেতে পারে আরন্য পর্যটনের দৃষ্টিকোণ থেকে। হিল টপ ঘিরে দেখা যায় বিচিত্র প্রকৃতির অপরূপ ল্যান্ডস্কেপ আর ঝর্ণা, জলাধারগুলি নিয়ে আসতে পারে প্রবাহের অন্য অনুভূতি।কিছুদিন আগে পুরুলিয়া জেলা পরিষদ আয়োজিত একটি সভায় বলা হয়েছিল ডুয়ার্স, তরাই এ যেমন বর্ষাকালে জোঁকের উপদ্রব বাড়ে,অ যোধ্যায় সে সম্ভাবনা নেই। তবে অরণ্যে এসময় কীটপতঙ্গের সংখ্যা বাড়েই। পর্যটনে বাধা বা সমস্যা সেইটুকুই। সাবধানে থাকলে সেটা অবশ্য কোনো সমস্যাই নয় |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here