বাল্যবিবাহ রোধে ৪০০ দিনে ২৯ রাজ্যে সাইকেল যাত্রা পুরুলিয়ার অক্ষয় ভগতের

0
1222

জয়প্রকাশ কুইরি ,পুরুলিয়াঃ বয়স মাত্র ২৩ বছর, কিন্তু ইচ্ছে অনেক বড়। পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি থানার বুড়দা গ্রামের বছর ২৩-র টগবগে যুবক অক্ষয় ভগত। ছোট থেকেই তার ইচ্ছে ছিল সমাজে জন্য কিছু করার। যেই ভাবা সেই কাজ। বর্তমানে সমাজে এক অন্যতম ভয়াবহ সমস্যা হল দিনের পর দিন বেড়ে চলা বাল্য বিবাহ বা নাবালিকা বিবাহের পরিমাণ। তাই অক্ষয়ের মাথায় এসেছিল কোনও কিছু করে মানুষকে যদি বাল্যবিবাহ বা নাবালিকা বিবাহ রোধে সচেতন করা যায় তাহলে এর থেকে বোধহয় ভালো কিছু আর হতে পারে না। তাই অপেক্ষা না করেই বেরিয়ে পড়েছিলেন দেশের বিভিন্ন রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের নাবালিকা ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়াতে। নিজের প্রিয় সাইকেল নিয়েই রাজস্থান, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাখন্ড, তামিলনাড়ু সহ মোট ২৯টি রাজ্য প্রায় ৩০,০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সম্প্রতি গ্রামে ফিরেছে অক্ষয় ভগত। ২০১৮ সালের ৫ই মার্চ বাড়ি থেকে বেরিয়ে দীর্ঘ ৩০ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে অক্ষয়ের সময় লেগেছে ৪০০ দিন! অবাক লাগলেও এমনই অসাধ্য সাধন করে ফেলেছেন খ্যাতিহীন এই বুরদা গ্রামের অক্ষয় ভগত। পরিবারে স্বচ্ছলতা নেই। তাই অল্প বয়সেই অভাবের সংসারে হাল ধরতে হয়েছিল অক্ষয়কে। খবরের কাগজ, দুধ, লটারি বিক্রি করে সংসার চালিয়েছে সে। অবসর সময়ে গ্রামের শিশুদের বাড়িতে টিউশনও দিয়েছেন। দারিদ্রতাও তাঁর ইচ্ছাশক্তিকে দমিয়ে রাখতে পারে নি। তার এই দীর্ঘ দেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে তিনি জানান, শুধু এতটা পরিমাণ রাস্তা সাইকেল নিয়ে পাড়ি দেওয়া নয়, সেইসঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যে ভ্রমণকালীন সময়ে সেইসমস্ত রাজ্যের স্কুল, কলেজ ও ক্লাবে গিয়ে গিয়ে সেখানকার শিক্ষক, শিক্ষিকা ও ছাত্র ছাত্রীদের সঙ্গে বাল্যবিবাহের খারাপ দিক এবং এবিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনাও করেছেন বলে জানালেন তিনি| তবে পাঞ্জাব ও হরিয়ানার মতো রাজ্যগুলিতে বাল্যবিবাহের বিরোধিতায় প্রচারে গিয়ে যে বাধারও সম্মুখীন হতে হয়েছে সেকথাও জানিয়েছেন অক্ষয়। তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না অক্ষয়। আপাতত বাড়ি ফিরে কয়েকটা দিনের বিশ্রাম নিয়ে আবারও একবার বেরিয়ে পড়তে চায় সে। এবারের গন্তব্য বাংলার সমস্ত গ্রাম ও উত্ত্র-পূর্ব ভারত। সেখানেও বাল্যবিবাহের বিষয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে চান অক্ষয়। তাঁর বক্তব্য, গ্রামে ও মানুষের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটলেই বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি রোধ করা সম্ভব। অক্ষয়ের এই অভিনব সমাজ সচেতনতামূল প্রচারে উচ্ছ্বাসিত তাঁর গ্রামের মানুষ, উচ্ছ্বাসিত দেশবাসী। অক্ষয়ের এহেন অসাধ্য সাধনের খবর দেশ থেকে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গা থেকে শুভেচ্ছা পেয়েছে অক্ষয় ভগত। এই বাংলায় ওয়েব পোর্টালের তরফেও অক্ষয়ের জন্য রইল অনেক অনেক শুভেচ্ছা।