অযোধ্যা পাহাড়ের পর্যটনকেন্দ্র যেন প্রদীপের তলার অন্ধকার

0
1078

এই বাংলায়, নিউজ ডেস্কঃ জেলা পুরুলিয়া। নাম শুনলে প্রথমেই চোখের সামনে অযোধ্যা পাহাড়ের ছবি, আর সেই পাহাড় থেকে দূরের মনোরম প্রকৃতির হাতছানি। এহেন অযোধ্যা পাহাড় তথা পুরুলিয়া জেলা পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আজ শুধু রাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, রাজ্য ছাড়িয়ে ভিন রাজ্য এমনকি বিদেশী পর্যটকদের পছন্দের জায়গা। যার অন্যতম প্রধান কারণ হল, পর্যটন কেন্দ্র বলে পুরুলিয়া জেলার পরিচিতি সর্বজনগৃহীত হলেও এখনও পর্যন্ত পর্যটকদের ভিড় পুরুলিয়া জেলা পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে গ্রাস করতে পারে নি। বিভিন্ন জায়গায় যেমন ভ্রমণ পীপাসুরা ভ্রমনে গিয়ে দু-তিন দিন আনন্দ-ফূর্তি, খাওয়া-দাওয়া করে থাকেন, তেমনটা কিন্তু পুরুলিয়া জেলার ক্ষেত্রে দেখা যায় না। এর অন্যতম কারণ এক হল, লাল মাটির দেশ পুরুলিয়ার প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে এখনও পর্যন্ত সেভাবে রাত্রিবাস করার মতো পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়নি এবং দ্বিতীয়ত, সমতল অঞ্চলে যোগাযোগ রক্ষার জন্য বিভিন্ন সংস্থার মোবাইল টাওয়ার থাকলেও পাহাড়ের ওপরে বা উঁচু এলাকায় মোবাইল টাওয়ার নেই বললেই চলে। এর ফলে পুরুলিয়ার সবুজ প্রকৃতি, পাখির কলরব, ঝরনার জলের কলকল শব্দ, প্রশান্ত শান্তি বিরাজ করে। তাই শান্তি ও প্রকৃতিপ্রেমী ভ্রমণ পীপাসুদের অন্যতম পছন্দের জায়গা এই পুরুলিয়া। কিন্তু বর্তমানে ধীরে ধীরে হলেও বদলাচ্ছে এই লাল মাটির দেশ। জেলার পর্যটন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন। রাস্তায় রাস্তায় আলোক স্তম্ভ, পর্যটনকেন্দ্রগুলি সাজানো থেকে শুরু করে বাইরে থেকে আসা পর্যটকদের সুবিধার জন্য রাস্তা চিহ্নিতকরণ, সবই হচ্ছে। পাশাপাশি পাহাড়ের বেশ কিছু গ্রামকে চিহ্নিত করে হোম ট্যুরিজম, আধুনিক মানের হোটেল, পাহাড়ি রাস্তার মেরামতিকরনের কাজও চলছে। যদিও পুরলিয়া জেলার বাসিন্দাদের বক্তব্য কিছুটা অন্য। তাদের বক্তব্য, জেলায় পর্যটক প্রচুর আসেন, প্রশাসনের তরফে পর্যটন পরিকাঠামোকে সাজাতে বিভিন্নরকম উদ্যোগও নিয়েছে প্রশাসন। কিন্তু তা সত্ত্বেও অযোধ্যার পর্যটনে শিল্প বিকাশের সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। যার প্রধান কারণ হিসেবে তারা মনে করছেন যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব। তাদের অভিযোগ, হাতে গোনা দু-একটি মোবাইল সংস্থার টাওয়ার ছাড়া অন্য কোনও মোবাইলের টাওয়ার পাওয়া যায় না। কারণ কিছু কিছু জায়গায় বিএসএনএল থাকলেও পাহাড়ের অধিকাংশ জায়গায় মোবাইল টাওয়ার নেই| যার জেরে পর্যটকরা ঘুরতে এলেও বাড়িতে যোগাযোগ করতে পারেন না। একপ্রকার বাধ্য হয়েই পর্যটকরা বাঘমুন্ডি থেকে পাহাড়, ঝরনার জলাধারা, সবুয অরণ্য দেখে আবার সমতলে ফিরে যান বলে তাদের অভিমত| তাদের কথায় যতদিন পর্যটকরা পুরুলিয়ায় ঘুরতে এসে কিছু দিন না থাকবেন, ততদিন জেলার আর্থসামাজিক পরিকাঠামোর উন্নয়ন হবে না বলে মনে করছেন তারা। তবে একদিক থেকে পুরুলিয়াবাসীর বক্তব্য যুক্তিসম্মত বলে মনে হলেও, সূত্রের খবর অনুযায়ী পুরুলিয়া জেলা মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত থাকায় মুলত নিরাপত্তার খাতিরেই এখনও পর্যন্ত মোবাইল টাওয়ার বসানোর অনুমতি নেই বলে জানা গেছে। যদিও একথা মানতে চান না পুরুলিয়াবাসী, তারা চান দ্রুত উন্নয়ন হোক তাদের এই লালমাটির দেশে, দ্রুত বসানো হোক মোবাইল টাওয়ার, যাতে ভবিষ্যতে পুরুলিয়ার পর্যটনকেন্দ্রগুলি সারা বছর ভ্রমনার্থীদের ভিড় দেখতে পাওয়া যায়।