অস্তিত্ব সংকটে পুরুলিয়ার প্রাচীন ঐতিহ্য দেউলঘাটা

0
1151

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ পুরুলিয়া জেলা মানেই কেমন একটা মন আনন্দ করা অনুভূতি, আর পুরুলিয়া মানেই উড়ু উড়ু মন পাড়ি দিতে চাই সবুজ ঘেরা প্রাকৃতিক শোভামণ্ডিত লালমাটির এই দেশ। এই পুরুলিয়ার বুক চিরেই বয়ে গেছে প্রাচীন নদী কংসাবতী। যুগ যুগ ধরে নানান ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী এই কংসাবতী আজও আপন মহিমায় প্রবমান। নদীর কলকল জলরাশি আর সবুজের বৈচিত্র মন কাড়ে ভ্রমণপীপাসু দলের। এই কংসাবতী নদীই এক এবং অদ্বিতীয় সাক্ষী পুরুলিয়ার ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিয়ে বিদ্যমান দেউলঘাটার নানান ঐতিহাসিক মুহূর্তের। পুরুলিয়া জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তথা ঐতিহাসিক স্থান এবং পর্যটনকেন্দ্র এই দেউলঘাটা। বহু বছর ধরে এই দেউলঘাটা রাজ্য তথা দেশের পর্যটকমহলে পুরুলিয়ার দেউলঘাটার গুরুত্ব অপরিসীম। জানা গেছে, দেউলঘাটার মূল অর্থ মন্দিরের সমাবেশ। অর্থাৎ নাম এর অর্থ থেকেই পরিষ্কার দেউলঘাটায় মন্দিরের অস্তিত্বের কথা। তবে দেউলঘাটায় যে মন্দিরগুলি এখনও বর্তমান তা আজকের নয়, জানা গেছে প্রাচীন বুদ্ধযুগের অন্যতম নিদর্শন নিয়েই যুগ যুগ ধরে দেউলঘাটায় বুদ্ধমন্দিরগুলি আজও দন্ডায়মান। মন্দিরগুলির প্রধান বৈশিষ্ট্য হল মন্দিরের দেওয়ালের উচ্চতা ৭০ থেকে ৮০ ফুট, প্রধান প্রবেশদ্বার ত্রিভূজাকৃতির, যা জানান দেয় এই নিদর্শনগুলি বৌদ্ধযুগের। লোকমুখে শোনা যায়, আগে এই দেউলঘাটায় মোট তিনটি বৌদ্ধমন্দির ছিল, কিন্তু কালের নিয়মে এবং শুধুমাত্র সংরক্ষণের অভাবে একটি মন্দির কংসাবতীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে টিকে আছে দুটি নিদর্শন। তবে সেগুলিও আজ অবহেলায় এবং বয়সের ভারে জীর্নপ্রায়। এখানেই দিনের পর দিন ক্ষোভ বাড়ছে পুরুলিয়ার ঐতিহ্যপ্রেমীদের। অবাক করার বিষয় হল, এই পুরুলিয়া জেলার বাঘমুন্ডি এলাকার অযোধ্যা পাহাড়কে রাজ্যের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে সরকারীভাবে যেরকম বিভিন্ন পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে এসে সুন্দর করে গড়ে তোলা হয়েছে, সেইদিক থেকে কোনও অজানা কারণে আজও ততটাই ব্রাত্য থেকে গেছে দেউলঘাটা। প্রাচীন সভ্যতার এহেন অমূল্য নিদর্শন বর্তমানে যে অবস্থায় পড়ে রয়েছে তা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাসই হয়না। চারিদিকে ঝোপঝাড় প্রায় ঢেকে ফেলেছে দুই মন্দিরটিকে, বছরের পর বছর ধরে যত্নের অভাবে মন্দিরের দেওয়াল খসে পড়ছে, মন্দিরের ভেতরেও আগাছা জন্মেছে অথচ নজর নেই প্রশাসনের। ফলে কালের গর্ভে লীণ হওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে প্রাচীন এই স্থাপত্য। যা সত্যিই দুঃখজনক। এখনও বহু মানুষ প্রত্যেক বছর প্রাচীন এই দেউলঘাটার মন্দির দেখতে বহু মানুষ এখানে আসেন প্রাচীন বৌদ্ধ নিদর্শন দেখতে। তারাও মনেপ্রাণে চাইছেন দেউলঘাটার প্রাচীন স্থাপত্যগুলি টিকিয়ে রাখতে একটু নজর দিক সরকার। তাহলে আরও বহু বছর টিকে থাকতে পারে এই ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলি, কিন্তু তা নাহলে অচিরেই রাজ্য তথা পুরুলিয়া জেলার ইতিহাস থেকে অচিরেই মুছে যাবে এই বৌদ্ধ নিদর্শনগুলি, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাই রাজ্যের প্রত্যেকটা মানুষ চাই, অবিলম্বে দেউলঘাটার দিকে নজর দিক প্রশাসন। ঠিক যেভাবে অযোধ্যা পাহাড়কে রাজ্যের মানচিত্রে অন্যতম আকর্ষণীয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সদর্থক ভূমিকা নিয়েছে সরকার, তেমনি দেউলঘাটাকেও রাজ্যের পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হোক।