আদিবাসী সংগঠনের আপত্তিতে পুরুলিয়ার জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ বিশ বাঁও জলে

0
826

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা পুরুলিয়া জেলার নাম মনে পড়লেই প্রকৃতিপ্রেমীদের চোখ চিকচিক করে ওঠে। কারণ, জঙ্গলে ঘেরা এই অযোধ্যা পাহাড়ের মনোরম পরিবেশ যেকোনো মানুষের মন ভালো করে দিতে পারে। জঙ্গলের ঝরনা কুল-কুল ধ্বনি, বৈচিত্র্যময় পাখির নানান কলতান মুগ্ধ করবে যেকোনো প্রকৃতিপ্রেমীকে। এহেন অযোধ্যা পাহাড়ের এই অসীম প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য আজ ধ্বংসের সম্মুখীন। যার কারণ রাজ্য সরকারের টুরগা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। আর মূলত অযোধ্যার এই প্রাকৃতিক সম্পদকে বাঁচাতে আজ মরণপণ লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে স্থানীয় আদিবাসী সমাজ। মূলত তাদেরই বিক্ষোভ প্রতিবাদে আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে রাজ্য সরকারের সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার টুরগা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প| জানা যায়, ২০১৬ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূল সরকারের তরফে পিপিএসপি মডেলে অযোধ্যা পাহাড়ে দ্বিতীয় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলা হবে| প্রাথমিক পর্বে গণশুনানির পর এলাকায় গাছ কাটাও শুরু হয়ে গিয়েছিল| আর গাছ কাটা শুরু হতেই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং স্থানীয় আদিবাসীরা কলকাতা হাইকোর্টে নির্বিচারে সবুজ ধবংসের উপর মামলা করে| ফলস্বরূপ আদালতের রায়ে আগামী ৩১শে আগস্ট অবধি গাছ কাটার উপর স্থগিতাদেশ জারি হয়| আর এই সুযোগেই টুরগা প্রকল্প বাতিল করার দাবিতে পথে নেমেছে আদিবাসীদের বিভিন্ন সংগঠন| যার মধ্যে ভারত জাকাত মাঝি পরগানা মহল মঙ্গলবার প্রকল্প বাতিলের দাবিতে পুরুলিয়া জেলাশাসকের কাছে ডেপুটেশন দেন| কয়েকহাজার আদিবাসী এদিন শহরে মিছিল করে জেলাশাসকের দপ্তরে যান| সংগঠনের পক্ষে রাজেন টুডু এবং রতন লাল হাঁসদা জানিয়েছেন পিপিএসপি গড়ার সময় রাজ্য সরকার বলেছিল, স্থানীয় গ্রামগুলিতে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পরিষেবা দেওয়া হবে| এই প্রকল্প গড়তে তিন লক্ষ গাছ কাটা হয়েছিল| প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল পাহাড়ে অন্য প্রান্তে সরকারি তরফে তিন লক্ষ গাছ লাগিয়ে দেওয়া হবে, কিন্তু আজও তা লাগানো হয়নি| স্থানীয় মানুষ জনকে ওই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে চাকরি থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের| তাই আদিবাসীদের জন্য জঙ্গল সংকুচিত হবে এবং অযোধ্যার প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করা হবে তা তারা কোনওদিনই হতে দেবেন না| তাদের বক্তব্য, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরী হলে বহু আদিবাসী গ্রামের অস্তিত্ব যেমন বিপন্ন হবে তেমনি পাহাড়ের বন্যপ্রাণীদের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে| জঙ্গলের উপর নির্ভরশীল আদিবাসীরা কাঠ, পাতা, ফল সংগ্রহ করে জীবিকার উপায় হারাবেন। যে জঙ্গল তাদের অধিকারে থাকে সেই জঙ্গলে রাজ্য সরকারের বিদ্যুৎ দপ্তর এর অধিকার কায়েম হবে, অথচ কোনো লাভ হবে না আদিবাসী সমাজের| তাদের বক্তব্য, প্রকৃতিকে নষ্ট করে এধরনের প্রকল্প প্রাকৃতিক পরিবেশকে বিপর্যস্ত করা ছাড়া আর কিছু নয়| অযোধ্যাকে একটি প্রাকৃতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চান তারা|