আইনজীবী মিতালী ঘোষের খুনের ৯৬ দিনের মাথায় আদালতের চার্জশিট পেশ

0
520

সংবাদদাতা, বর্ধমানঃ- জামালপুরে আইনজীবী মিতালী ঘোষকে আদালতে চার্জশিট পেশ করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার তদন্তকারী অফিসার আদালতে চার্জশিট পেশ করেন। চার্জশিট গ্রহণ করেছেন সিজেএম। চার্জশিটে ১২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। ফরেন্সিক পরীক্ষায় খুনে ধৃতদের জড়িত থাকার বিষয়ে প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি পুলিশের। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা নমুনার সঙ্গে ধৃতদের ফিঙ্গার প্রিন্টের‌্ও কিছু মিল পাওয়া গিয়েছে। ৪ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন। সেদিনই ধৃতদের হাতে চার্জশিটের কপি তুলে দেওয়া হবে। ধৃতদের কাস্টডি ট্রায়ালের দাবি জানাবে পুলিশ। জামালপুর থানার ওসি পুষ্পেন্দু জানা বলেন, আদালতে চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। ধৃতদের জেলে বন্দি রেথে বিচার সম্পূর্ণ করার জন্য আবেদন জানানো হবে। গত ২৭ অক্টোবর সকালে জামালপুর থানার আঝাপুরের বাড়িতে মিতালী দেবীর দেহ উদ্ধার হয়। তিনি বর্ধমান আদালতে প্র‌্যাকটিস করতেন। তাঁকে খুনের অভিযোগে পুলিশ প্রশান্ত ক্ষেত্রপাল ও সুজিত ঘোড়ুইকে গ্রেপ্তার করে। আঝাপুরে প্রশান্তর বাড়ি। সুজিতেরও বাড়ি আঝাপুরেই। তাকে খণ্ডঘোষ থানার বোঁয়াইচণ্ডী থেকে ধরা হয়।
চার্জশিটে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ পাঁচিল টপকে মিতালী দেবীর ঘরে ঢোকে সুজিত ও প্রশান্ত। সুজিত ডাব বিক্রি করত। ডাব পারার সূত্রে মিতালী দেবীর ঘরে তার যাতায়াত ছিল। সুজিত ও প্রশান্ত ঘরের শৌচালয়ের পাশে লুকিয়ে ছিল। শৌচালয়ে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হন মিতালী দেবী। মড়াইয়ের পাশে দু’জনকে দেখতে পেয়ে তিনি চোর চোর বলে চিৎকার শুরু করেন। ভয় পেয়ে সুজিত ও প্রশান্ত তাঁর মুখ টিপে ধরে। বাধা দেওয়ায় সিঁড়ির পাশে থাকা ফুল গাছের টব দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তিনি সংজ্ঞা হারালে সুজিত ও প্রশান্ত ঘরে ঢুকে সোনার গয়না, টাকা ও মোবাইল নিয়ে পালায়। খুনের কিনারায় ঘটনাস্থল থেকে ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ করা হয়। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদেরও সাহায্য নেওয়া হয়।
এদিকে আইনজীবী খুনের মামলায় ধৃতদের হয়ে কোনও আইনজীবী দাঁড়াবেন না বলে বার অ্যাসোসিয়েশনে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে, ধৃতদের হয়ে কোনও আইনজীবী দাঁড়াচ্ছেন না। বিষয়টি জেলা আইনি পরিষেবা দপ্তরের নজরে আনা হয়েছে। এনিয়ে জেলা জজের কাছে আবেদন জানানো হবে বলে জানিয়েছে ধৃতরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here