দেহব্যবসার মায়াজালে আমাদের প্রিয় শিল্পশহর

0
2897

নিউজ ডেস্কঃ আদিম যুগ থেকে মনুষ্য সমাজে যে সমস্ত ব্যবসা পৃথিবীর বুকে বিরাজমান তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল এক সুদের ব্যবসা এবং দ্বিতীয়ত যৌন ব্যবসা। কালের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান সমাজে এই দুটি ব্যবসায় এখনও বেঁচে থাকলেও আধুনিকতার সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে সুদের ব্যবসা ও যৌন ব্যবসার ধরনও। এখনও বহু জায়গায় সরকারী ভাবে স্বীকৃত “রেড লাইট এলাকা” অবস্থিত রয়েছে যেখানে অর্থের বিনিময়ে নিজের পছন্দ মতো যৌন সঙ্গী নির্বাচন করে বহু মানুষ নিজেদের শারীরিক চাহিদা নিবারন করেন। মূলত পেটের তাগিদে এইসমস্ত যৌন কর্মীরা দিনের পর দিন এভাবেই নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কিন্তু কথায় আছে “কেউ করে অভাবে আবার কেউ করে স্বভাবে”। আর সেই স্বভাবই যখন আসক্তির পর্যায়ে চলে যায় তখন সেখান থেকে বেরিয়ে আসার রাস্তা হয়ে দাঁড়ায় খুবই দুর্গম। ঠিক আর পাঁচটা বিভিন্ন শহরের মতো শিল্পশহরেও এই ধরণের সরকারীভাবে স্বীকৃত “রেড লাইট এরিয়া” রয়েছে যেখানে দূর-দূরান্ত থেকে আসা বহু মানুষ বিশেষ করে জীবিকার সন্ধানে দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে থাকা ট্রাক চালক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার মানুষ নিজেদের যৌন চাহিদা পূরণ করে থাকেন অর্থের বিনিময়ে। কিন্তু ইদানীং শিল্পশহরে আবারও বেআইনীভাবে ক্রমশ জাঁকিয়ে বসছে দেহব্যবসার মায়াজাল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকটাই বদলে গেছে শিল্পশহর, সেই সঙ্গে বদলেছে মানুষের চালচলন। স্ট্যাটাস মেইনটেন করার পেছনে দৌড়াচ্ছে বর্তমান সমাজ। আর এই স্টেটাস মেইনটেনের ফাঁদে পড়েই ক্রমেই জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অসাধু লোক ও অসাধু প্রতিষ্ঠানের লালসার কবলে। বর্তমানে শিল্পশহর জুড়ে শয়ে শয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে হোটেল, বার, রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে শহরের অভিজাত এলাকাগুলিতে গজিয়ে ওঠা নানান নামের বিউটি পার্লার, সেলুন, হেলথ ক্লাব, জিম সেন্টার আরও কত কী। বাইরে থেকে যার কিছু বোঝার উপায় নেই। অথচ এই সমস্ত জায়গার আড়ালেই দিনের পর দিন ধরে চলছে দেহব্যবসার আসর। এখানে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক তাহলে প্রশাসন কেন এইসমস্ত ক্ষেত্রে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না? উত্তর হল কোনও ব্যক্তি যদি জোরপূর্বক কোনও মহিলার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে তাহলে তা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করতে পারে, কিন্তু সেই কাজটাই যদি দুই তরফের সম্মতিতে হয় তাহলে? এক্ষেত্রেও ঠিক তাই ঘটছে। বহুক্ষেত্রে শুধু মাত্র সমাজে নিজেদের স্টেটাস মেইনটেন করতে গিয়ে বহু মানুষ আজ দেহব্যবসার অন্ধকার জগতে পা দিয়ে ফেলেছেন, যেখান থেকে বেরিয়ে আসা খুবই দুষ্কর। শুধু কি প্রাপ্তবয়স্করা? শিল্পশহরের এপ্রান্ত থেকে ওপর প্রান্ত পর্যন্ত আজ বিভিন্ন বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কলেজ রয়েছে, যেখানে এই রাজ্যের পাশাপাশি ভিন রাজ্য এমনকি বিদেশ থেকেও বহু ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করতে আসে, নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে শিল্পশহরে আসে। কিন্তু তাদের মধ্যে সকলেই যে স্বচ্ছল পরিবার থেকে আসে তা নয়, এমনও অনেক পড়ুয়া থাকে যাদের অভিভাবকরা বহু কষ্ট করে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করেন। কিন্তু সেইসমস্ত মধ্যবিত্ত পড়ুয়ারা পড়াশোনার ফাঁকে অবসর সময়গুলিতে নিজেদের বন্ধু সমাজে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে নিজের অজান্তেই এই দেহব্যবসার অন্ধকার জগতে পা ফেলছে। এই তথ্য সত্যিই ভয়ঙ্কর। পড়াশোনার বাইরে আর পাঁচজনের সঙ্গে নিজের সমতা বজায় রাখতে গিয়ে বিভিন্ন অসাধু লোকের পাল্লায় পড়ে নিজেদের জীবনে ভয়াবহ সর্বনাশ ডেকে নিয়ে আসছে এইসমস্ত কলেজ পড়ুয়ারা। শহরের আনাচে কানাচে গজিয়ে ওঠা বহু ফ্ল্যাট বেনামে কিনে বিভিন্ন অসাধু ব্যক্তি দেহব্যবসার নোংরা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। অথচ যেহেতু এর বেশিরভাগটাই হচ্ছে দুই তরফের সম্মতিতে, তাই পুলিশ প্রশাসনের বারবার চেষ্টার পরেও বন্ধ করা যাচ্ছে না এই অপরাধ। কিন্তু কতদিন? কবে বন্ধ হবে এই বেআইনি কার্যকলাপ? কবে উদয় হবে যুব সমাজ তথা শো কল্ড আলট্রা মডার্ন এই সমাজের শুভবুদ্ধি? কারণ তা যতদিন না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত এই ঘৃন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত মাষ্টারমাইন্ডদের মুখোশ খোলা অসম্ভব।