সাবধান! গ্রীষ্মের ভয়াবহ “লু” ডেকে আনতে পারে মৃত্যুও

0
916

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাস মানেই গরমে নাভিশ্বাস অবস্থা সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে জীব-জন্তু ও উদ্ভিদকুলের। আর বৈশাখের সেই গরমে নাজেহাল অবস্থাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয় গ্রীষ্মের প্রবল তাপপ্রবাহ, যাকে আমরা সাধারণত “লু” বলে থাকি। শুনতে এক অক্ষরের হলেও লু-র ভয়াবহতা কোনও অংশে কম নয়। গ্রীষ্মকালীন এই “লু”-র প্রকোপেই প্রত্যেক বছর দেশ তথা বিশ্বে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যাটাও নেহাত কম নয়। কিন্তু কী এই “লু”-র প্রকোপ, এর জেরে মানুষের মৃত্যুই বা কী ভাবে হয়? ভয়াবহ এই লু-র হাত থেকে এই জীবজগত বাঁচবেই বা কী করে? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। একটু সতর্কতা অবলম্বন করলেই গ্রীষ্মের এই লু-র প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে পারেন সকলেই।
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, একজন সুস্থ মানুষের দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা হল ৩৭ ডিগ্রী। এই তাপমাত্রায় আমাদের শরীরের সমস্ত অঙ্গ সঠিক ও সুস্থভাবে সমস্তরকম কার্যসম্পাদন করতে সক্ষম। তবে যখনই কোনও কারণবশত শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায় তখন শরীর ঘামের মাধ্যমে সেই অতিরিক্ত উত্তাপ শরীরের বাইরে বের করে দেয়। এইভাবেই শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু সমস্যা হয় গ্রীষ্মকালে। চিকিৎসকদের মতে, গ্রীষ্মের সময় পরিবেশের তাপমাত্রা বেড়ে কোথাও হয়ে যায় ৪৫ ডিগ্রী আবার কোথাও কোথাও তারও বেশি। যার ফলে আমাদের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রাও ৩৭ ডিগ্রী থেকে বেড়ে কখনও ৪০ আবার কখনও ৪২ এভাবে নিরন্তর ওঠানামা করতে থাকে। আর এখানেই শুরু হয় সানস্ট্রোকের ঝুঁকি। চিকিৎসকদের বয়ান অনুযায়ী, প্রবল গরমে আমাদের শরীরের তাপমাত্রা যখন ৩৭ ডিগ্রী থেকে বেড়ে যায় তখন শরীর যেমন প্রয়োজনের তুলনায় গরম হয়ে যায়, তেমনি শরীরের ভেতরে অবিরাম প্রবাহিত রক্ত প্রয়োজনের তুলনায় গরম হয়ে ওঠে। ফলে অস্বাভাবিক গরমে শরীরের সমস্ত স্নায়ু ধীরে ধীরে শিথিল হয়ে আসতে থাকে। যার জেরে আমাদের শরীরের প্রধান অঙ্গ ব্রেনে রক্তচলাচল স্তব্ধ হয়ে পড়ে। যার পরিণাম সানস্ট্রোক। আর এই সানস্ট্রোকের জেরেই প্রত্যেক বছর বিশ্বে বহু মানুষ প্রাণ হারান। এখানে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, দৈনন্দিন কাজকর্ম বা অফিসের কাজে আমাদের সকলকেই গ্রীষ্মের দাবদাহ সহ্য করেও বাইরে বেরোতে হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে এই লু এবং সানস্ট্রোক থেকে কিভাবে রক্ষা পাওয়া যাবে? এইপ্রশ্নের উত্তরে চিকিৎসকেরা বেশকিছু পরামর্শ দিয়েছেন যেগুলি ঠিকভাবে মেনে চললেই গ্রীষ্মের মারণ লু থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। নিচে সেগুলি আলোচনা করা হল –

১। আমরা অনেকেই জানি, একজন মানুষের দৈনিক অন্তত ৩-৪ লিটার জল পান করা অবশ্য প্রয়োজনীয়। তবে কিডনির রোগে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে তা ৬-৮ লিটার বলে মতপ্রকাশ করেছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, দৈনিক পর্যাপ্ত জল পান করলে শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণ জল না পান করলে সানস্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
২। গ্রীষ্মের দিনগুলিতে অতিরিক্ত মশলা জাতীয় বা মাংস জাতীয় খাবার থেকে সরে এসে হালকা খাবার, ঠান্ডা সব্জি যেমন লাউ, শশা ইত্যাদির সঙ্গে সঙ্গে পর্যাপ্ত ফল খাওয়ার দিকে জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
৩। গ্রীষ্মের দু-মাস অত্যন্ত প্রয়োজন না পড়লে বেলা ১২টা থেকে ৩টে পর্যন্ত বাড়ি কিংবা অফিসের বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
৪। দরকারী কাজে বাইরে যেতে হলে কাজ থেকে ফিরেই সঙ্গে সঙ্গে ফ্রিজের ঠান্ডা পানীয় বা ঠান্ডা জল কোনওভাবেই খাওয়া উচিত নয় বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। এক্ষেত্রে অনন্ত ১৫ মিনিট বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
৫। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির দরজা, জানলা বন্ধ রাখুন।
৬। গ্রীষ্মকালীন সময়ে দিনে অন্তত দুবার ঠান্ডা জলে স্নান করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। তাদের বক্তব্য, এর ফলে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় থাকবে।
৭। মানুষের সঙ্গে সঙ্গে গ্রীষ্মের এই দাবদাহে চরম কষ্টে ভোগে গৃহপালিত পশু বা বাইরের জীবজন্তু ও পাখি। তাই গৃহপালিত পশুদের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
৮। বাইরের পশু-পাখির জন্য বাগানে বা বাড়ির ছাদে কোনও ঠান্ডা জায়গায় পানীয় জল ও কিছু খাবার নিয়মিত রেখে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা। কারণ বহু পশু-পাখি এই তীব্র গরমে ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার কারণে মারা যায়।

উপরিউক্ত এইসমস্ত নির্দেশগুলি মেনে চললেই গ্রীষ্মের এই তীব্র দাবদাহ থেকে আপনি নিজে যেমন সুস্থ থাকতে পারবেন তেমনি পরিবারের সকলকেও সুস্থ রাখতে পারবেন। তাই এই প্রতিবেদনটিও আপনার প্রিয়জনদের সঙ্গে শেয়ার করে তাদের সতর্ক করুন এবং সুস্থ রাখুন।