তৃণমূল কংগ্রেসের চিন্তা বাড়িয়ে দলে দলে মানুষের বিজেপিতে যোগ পুরুলিয়ায়

0
934

এই বাংলায়, নিউজ ডেস্কঃ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় যখন লোকসভা ভোটের শেষমুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে তখন পুরুলিয়া জেলায় বিজেপির শক্তিবৃদ্ধি শিরে সংক্রান্তি ডেকে এনেছে শাসক দল ও বামেদের। দিনের পর দিন তৃণমূল ও সিপিএম ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান কপালে ভাঁজ ফেলেছে তৃনমূল কংগ্রেসের। সোমবার ফের তালিকায় নতুন সংযোজন। কারণ এবার তৃণমূল ও সি পি এম ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করলেন পুরুলিয়া জেলার মানবাজার বিধানসভার পুঞ্চা মন্ডল এলাকার বাগদা অঞ্চলের ৬২টি পরিবার। সোমবার সিপিএম থেকে ৫০টি এবং তৃণমূল থেকে ১২টি মোট ৬২টি পরিবার বিজেপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছে বলে দাবি বিজেপি জেলা নেতৃত্বের| সীমা গোড়া গ্রামে এই যোগদান অনুষ্ঠানে যোগদানকারীদের হাতে বিজেপির দলীয় পতাকা তুলে দেন বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বিবেক রাঙ্গা। এছাড়াও যোগদান অনুষ্টানে উপস্থিত ছিলেন আরও এক সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বিপি সিং দেও প্রমুখরা| উল্লেখ্য পুরুলিয়ায় বিজেপিতে যোগদানের ঘটনা এই প্রথম নয়। কিছুদিন আগেই কাশিপুর বিধান সভার কাশিপুর মন্ডলে প্রায় ৩০টি পরিবার তৃণমূল ও সি পি এম থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিল। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো জানান “এখন তো শয়ে শয়ে বিজেপিতে যোগদান হচ্ছে, আসছে দিন হাজার হাজার মানুষ যোগদান করবে বিজেপিতে। লোকসভা ভোটের আর দিনকয়েক বাকি থাকলেও পুরুলিয়া জেলার বিভিন্ন প্রান্তে দল বদলের পালা এখনও অব্যহত। কখনো তৃনমুল কংগ্রেস থেকে বিজেপি, কখনো বিজেপি থেকে তৃনমুল কংগ্রেস আবার কখনো ফরওয়ার্ড ব্লক, সি পি আই এম থেকে তৃনমুল বা বিজেপিতে নাম লেখানোর পালা চলছেই। উদাহরণ হিসেবে ঝালদা ১ নম্বর ব্লকের মাঠারি খামার গ্রাম পঞ্চায়েতের কথা বলা যায়। কারণ গত সপ্তাহেই বাম ও কংগ্রেস থেকে প্রায় শতাধিক পরিবার বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন। দিনের পর দিন এভাবে শাসক ও বিরোধী দলগুলি থেকে এক সাথে বিজেপিতে যোগদানের ঘটনায় একদিকে যেমন চিন্তা বাড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের তেমনি পুরুলিয়া জেলায় বহুল পরিমাণে শক্তিবৃদ্ধি করছে বিজেপি। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলেই যে এর রেশ দেখা যাবে না তা হলফ করে বলা খুবই কঠিন। এদিকে নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারিতে ভোট হবে পুরুলিয়াতে। যার একদিকে ঝাড়খন্ডের সীমা লাগোয়া বহু গ্রাম ইতিমধ্যেই আধাসামরিক বাহিনীর রুট মার্চের রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে পুরুলিয়া সবসময়ই বিশেষ জায়গা করে রেখেছে, তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তথা দলের সমস্ত হেভিওয়েট নেতা-নেত্রীরাই তৃণমূলের ভোট প্রচারের জন্য বারবার এসেছেন পুরুলিয়ায় এবং তা এখনও অব্যহত। তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে ঝাড়খন্ড সীমান্ত লাগোয়া এলাকাগুলি বিশেষ করে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ ঝাড়খন্ড এখন বিজেপি শাসিত রাজ্য। তাই সেই ঝাড়খন্ডের রাজ্য থেকে বিজেপি তাদের শক্তিবৃদ্ধির তাগিদে বারবারই হেভিওয়েট নেতাদের নিয়ে এসে পুরুলিয়ার সাধারণ মানুষের মন জয় করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে। কিছুদিন আগে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে পুরুলিয়া জেলায় জনসভা করার অনুমতি না দেওয়ায় তার হেলিকপ্টারকে নামার অনুমতি দেওয়া হয়নি। কিন্তু তাতেও তিনি দমে না গিয়ে ঝাড়খন্ড থেকে রোড শো করতে করতে পুরুলিয়ায় এসে প্রকাশ্য জনসভা করে গিয়েছিলেন। এটা হলফ করে বলাই যায়, এবার পুরুলিয়া জেলায় লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই তৃণমূল কংগ্রেসের।