পুরুলিয়ার জেলার ঐতিহ্য সাহেব বাঁধকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

0
2284

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ লাল মাটির দেশ পুরুলিয়া। আর পুরুলিয়ায় জেলার নাম শুনলেই ভ্রমণ পীপাসুদের চোখ চিকচিক করে ওঠে। কারণ এই পুরুলিয়া জেলাতেই রয়েছে সবুজ স্বর্গ অযোধ্যা পাহাড়, দেউলঘাটা ঐতিহাসিক পীঠস্থান, এবং পুরুলিয়া শহরের অন্যতম আকর্ষণ সাহেব বাঁধ| ২০১০ সালে জাতীয় সরোবরের পরিকাঠামগত উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকারের সঙ্গে মৌ সাক্ষর স্বাক্ষরিত হয় কেন্দ্র সরকারের মধ্যে| এরপরেই ঐতিহ্যের সাহেব বাঁধকে সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতে পুরুলিয়া পৌরসভার উদ্যোগে একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়| তবে পুরুলিয়াবাসীর অভিযোগ, ২০১০ এরপর প্রায় ৯ বছর কাটতে চললেও সাহেব বাঁধের সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হয়নি| পাশাপাশি সংস্কারের নামে অর্থ নষ্ট করে একই কাজ একাধিক বার করার অভিযোগ উঠেছে প্রসাশনের বিরুদ্ধে| যদিও এত সব বিতর্কের পর এবার সাহেব বাঁধকে কংক্রিটের দেওয়াল দিয়ে ঘেরার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আবারও বিতর্ক শুরু হয়েছে জোরকদমে। সংস্কারের নামে কংক্রিটের দেওয়াল তোলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পৌরসভার বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে আন্দোলনে নেমেছে সাহেব বাঁধ বাঁচাও কমিটি| মিটিং, মিছিল থেকে শুরু করে শহরবাসীকে সচেতন করার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন সাহেব বাঁধ বাঁচাও কমিটির সদস্যরা| তাদের অভিযোগ, সাহেব বাঁধের চারপাশে কংক্রিটের দেওয়াল তুলে দিলে একদিকে যেমন এই বাঁধের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হবে শহরবাসী এবং ভ্রমনার্থীরা তেমনি বিভিন্ন ধৰ্মীয় অনুষ্ঠানে চরম সমস্যায় পড়তে হবে শহরবাসীকে| তাই এই ধৰ্মীয় ভাবাবেগকে প্রধান অস্ত্র করে পুরুলিয়া জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে আন্দোলন| যদিও বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বিবেক রাঙা সাহেব বাঁধ বাঁচাও আন্দোলনকে রাজনৈতিক রঙ দিতে রাজি নন| তাঁর কথায়, সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আন্দোলনে সামিল হয়েছেন| যদিও স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর বিভাস দাস জানিয়েছেন, সাহেব বাঁধ কংক্রিটের দেওয়াল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হলেও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাতে মানুষের সুবিধার জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা করা হবে, জলাশয়ে পৌঁছানোর জন্য থাকবে একাধিক গেট।