গত একবছরে অযোধ্যা পাহাড়ে লাগানো লক্ষাধিক টাকার লাইট চুরি !

0
793

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পুরুলিয়া জেলার অযোধ্যা পাহাড়ের সৌন্দর্য্য আজ সর্বজনবিদিত। প্রকৃতির অপরূপ শোভামণ্ডিত এই অয্যোধ্যা পাহাড়ের রূপ চাক্ষুস করতে বছরের সবসময় পুরুলিয়া জেলায় পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে। তাই পর্যটকদের কাছে অযোধ্যা পাহাড়ের আকর্ষণ বাড়াতে জেলা প্রশাসন তথা পর্যটন দফতর নানাভাবে অযোধ্যা পাহাড়কে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষনীয় করে তোলার চেষ্টা করে চলেছে। আর সেইজন্যই পাহাড়ের রূপকে আরও ফুটিয়ে তুলতে এবং এলাকার বাসিন্দাদের সুবিধার্থে অযোধ্যা পাহাড়ের ড্যাম থেকে শুরু করে বাঁধঘুটু গ্রাম পর্যন্ত রাস্তার পাশে পাশে লাগানো হয়েছিল ২৫টির মতো সৌরশক্তি পরিচালিত বাতিস্তম্ভ| যার জন্য খরচ হয়েছিল প্রায় চার লক্ষ টাকা| আর এই নতুন লাইট লাগানোর পর থেকেই রাতের অযোধ্যা হয়ে উঠেছিল আরও মায়াবী। অন্ধকার থেকে মুক্তি পাওয়ায় এলাকার বাসিন্দারাও খুশী হয়েছিলেন। কিন্তু সেই বাতিস্তম্ভ লাগানোর এক বছর যেতে না যেতেই ইতিমধ্যেই লুঠ হয়ে গিয়েছে ২৪টি বাতিস্তম্ভ। পড়ে রয়েছে একটি মাত্র বাতিস্তম্ভ। ফলস্বরূপ ফের অন্ধকারে ডুবেছে পাহাড় এলাকা। এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, এলাকাটি হাতি চলাচলের করিডর, তাই রাতের অন্ধকারে জীবন হাতে নিয়েই চলাফেরা করতে হয় তাদের। এখানে প্রশ্ন উঠেছে সরকারী সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অযোধ্যা পাহাড় এলাকায় নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন রয়েছে, অথচ তাদেরই নাকের ডগা থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার সরকারী সম্পত্তি চুরি হয়ে গেলেও দুষ্কৃতিদের গতিবিধি সম্পর্কে কোনও খোঁজ পেলনা তারা? প্রশ্ন উঠেছে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও। এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, চুরির সঙ্গে সঙ্গে এই ঘটনায় অযোধ্যা পাহাড় এলাকায় পাচারকারীদেরও হাত থাকতে পারে। তারা জানিয়েছেন। পাহাড়ের জঙ্গলে নানান মূল্যবান গাছ কেটে বাইরে পাচার করার জন্য সারাবছর এই এলাকায় পাচারকারীরা সক্রিয় থাকে। সরকারী তরফে রাস্তায় আলো স্তম্ভ লাগানোয় তাদের পাচারের কাজে অসুবিধা হওয়ায় তারাই হয়তো লাইটগুলি খুলে নিয়ে গিয়েছে।