বন্দিকে বিবস্ত্র করে মারধরের অভিযোগ , তদন্তের নির্দেশ পকসো আদালতের

0
452

সংবাদদাতা, বর্ধমান:- বর্ধমান সংশোধনাগারে বিচারাধীন বন্দিকে বিবস্ত্র করে মারধরের অভিযোগ নিয়ে তদন্তের নিের্দশ দিলেন পকসো আদালতের বিচারক সৈয়জ নিয়াজউদ্দিন আজাদ। মারধরে ঘটনায় তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নিের্দশ দিয়েছেন বিচারক। কারাদপ্তরের ডিজি ও ডিআইজিকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। নিের্দশের কপি তাঁদের পাঠাতে বলেছেন বিচারক। বিচারকের মতে, বিষয়টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল। এতে বন্দির ব্যক্তি অধিকারও খর্ব হয়েছে। সংবিধানের ২১ ধারা লঙ্ঘিত হয়েছে ঘটনায়। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন বিচারক।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ৭ ডিসেম্বর জামালপুর থানার চক্ষণজাদি গ্রামে নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতন চালানোর অভিযোগে পুলিস মিন্টু দে-কে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো অ্যাক্টে মামলা রুজু হয়েছে। পরেরদিন ধৃতকে সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। ৯ ডিসেম্বর ধৃতকে পকসো আদালতে পেশ করা হয়। সেখানে ধৃতের আইনজীবী কমল দত্ত লিখিতভাবে অভিযোগ করেন, সংশোধনাগারের সেল থেকে বের করে মিন্টুকে রড, লাঠি দিয়ে ৫ জেল পুলিস মারধর করেছে। বিচারককে চোটের জায়গাগুলি খুলে দেখায় ধৃত। তার ভিত্তিতে জেল সুপারের কৈফিয়ত তলব করেন বিচারক। এছাড়াও মেডিকেল বোর্ড গঠন করে ধৃতের আঘাতের বিষয়ে রিপোর্ট পেশের জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপারকে নিের্দশ দেওয়া হয়। জেল সুপার নভিন কুজুর আদালতে রিপোর্ট পেশ করে জানান, রবিবার রাতে সংশোধনাগারে ১ নম্বর সেলে আবাসিকদের মধ্যে মারপিট হয়। মারপিটে মিন্টুও জড়িয়ে পড়ে। জেলের রক্ষীরা তা সামাল দেয়। মারপিট থামাতে গিয়ে জেলের রক্ষীরাও জখম হন। সেই সময় মারপিটে মিন্টু জখম হয়। আদালতের নিের্দশ পেয়ে ৫ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে হাসপাতাল। মেডিকেল বোের্ডর রিপোের্ট মিন্টুর শরীরে আঘাতের চিহ্নের প্রমাণ মেলে। জেল সুপার ও মেডিকেল বোের্ডর রিপোর্ট খতিয়ে দেখে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের নিের্দশ দিয়েছেন বিচারক। জেল সুপারের রিপোর্ট নিয়ে বেশকিছু প্রশ্ন তুলেছেন বিচারক। রিপোের্ট সংশোধনাগারের আবাসিসকদের মধ্যে মারপিটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এনিয়ে জেল সুপার কোনও রিপোর্ট কোথাও জমা দেননি। এমনকি আদালতকেও বিষয়টি ঘটনার পর জানানো হয়নি। এ ব্যাপারে আইনমাফিক কোনও ব্যবস্থাও নেননি জেল সুপার। কারা কারা মারপিটে জড়িয়ে পড়ে সে ব্যাপারেও কোনও কিছু উল্লেখ করা হয়নি। তাই, জেল সুপারের রিপোর্টকে আমল দেননি বিচারক। কেসের সরকারি আইনজীবী তাপস সামন্ত বলেন, সংশোধনাগারে বন্দিদের উপর মারধরের ঘটনা কখনই কাম্য নয়। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে উচিত। এক্ষেত্রে বিচারক যা সঠিক মনে করেছেন তাই করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here