সামাজিক সচেতনতার কথা ভেবে রথের মেলা না হওয়ার কারণে মাথায় হাত কাঁকসার মৃৎশিল্পীদের

0
320

সংবাদদাতা, কাঁকসাঃ- রাত পোহালেই রথযাত্রা উৎসব তবে সামাজিক সচেতনতার কথা ভেবে এবছর রথের মেলা না হওয়ার কারণে সমস্যায় পড়েছেন কাঁকসার মৃৎশিল্পীরা। প্রতিবছর রথের মেলায় স্থানীয় মৃৎশিল্পীরা তো বটেই বাইরে থেকেও বহু মৃৎশিল্পীরা আসতেন এবং মাটির নানান ধরণের পুতুল নিয়ে পসরা সাজিয়ে বসতেন। সোজা রথ এবং উল্টো রথে বিক্রিবাটাও হতো বেশ ভালো।তবে করোনার জেরে মেলা বন্ধ থাকায় এ বছর আর রোজগার করে লাভের মুখ দেখতে পাবেন না তারা। তবুও যদি কোনো ক্রেতা আসে মাটির পুতুল কিনতে সেই আশায় কিছু মৃত শিল্পী অল্প পরিমাণে কিছু মাটির জিনিস তৈরিতে ব্যাস্ত রইলেন। শিল্পীরা জানিয়েছেন বর্তমানের মাটির কাজ পুরোপুরিভাবে বন্ধ।যার কারণে ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাদের তবে সরকারি ভাবে যদি বাড়িতে বসে কোনো কাজ পাওয়া যেতো এই সময় তবে কিছুটা সুরাহা মিলতো তাদের। ইতিমধ্যেই অনেক মৃৎশিল্পী তাদের পেশা বদলে অন্য পেশায় চলে গেছে।কিন্তু যাদের বয়স হয়েছে তারা পড়েছেন সমস্যায়।

অন্যদিকে, চিত্তরঞ্জনের রথ উৎসব নাহওয়ার ফলে মুখভার চিত্তরঞ্জন বাসীর। বহু বছর ধরে চিত্তরঞ্জন শহরে যাক জমক করে রথ উৎসব পালিত হয় কিন্তু এবছর বাদ সাধল মহামারী করোনা। সবার মনে ভয় থাকলেও আনন্দকে কেও হারাতে চাইনা আর তাই চিত্তরঞ্জন শহরে রথের চাকা রাস্তায় না নামার ফলে চিত্তরঞ্জন শহরের ভক্তরা নিরাশ।
বলাবাহুল্য সালানপুর ব্লক সহ চিত্তরঞ্জন শহরের সবচেয়ে পুরনো এবং জাঁকজমকপূর্ণ রথ উৎসব হয় চিত্তরঞ্জন ফতেপুর ও এরিয়া ৬ নম্বর এলাকায়। ৬৫ বছরের ঐতিহ্যে পূর্ন এই রথ উৎসব আজ করোনা ভাইরাসের প্রকোপের জেরে স্তব্ধ। চিত্তরঞ্জন শহরের জনপ্রিয় দুটি রথ উৎসব কোন আড়ম্বর ছাড়াই শুধুই পুজোর মধ্যদিয়ে কাটবে সেখানে না থাকবে ভক্তের সমাগম না বসবে মেলা, আর না পাওয়া যাবে জগন্নাথ দেবের প্রসাদ।যার কারনে মুখ ভার হলেও করোনার কথা ভেবে মেনেনিয়েছে অনেকেই। ফতেপুর অঞ্চল ওড়িয়া প্রবাসী সমিতির উদ্যোগে এখানে প্রতিবছরই জগন্নাথ মন্দিরের পাশেই নতুন রথ তৈরি করা হয়। তবে এই বছরও রথ তৈরি করার কাজ শুরু হলেও করোনার জেরেও সেই রথ তৈরীর কাজ বন্ধ। সমিতির সম্পাদক গোপবন্ধু শ্যামল বলেন এবার রথযাত্রা না হওয়ায় তারা প্রত্যেকেই মুষড়ে পড়েছেন। তিনি বলেন ১৯৫৫ সালে নীলাচক্র সমিতি এই রেল শহরে রথ উৎসবের সূচনা করেন।

এরপর ১৯৯২ সালে ওড়িয়া প্রবাসী সমিতির উদ্যোগে ফতেপুরে জগন্নাথদেবের সুদৃশ্য স্থায়ী মন্দির নির্মিত হয়। তারপর থেকেই এই রথ উৎসব নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। প্রতিবছরই তারা রথের দিন জগন্নাথ দেবের প্রসাদ বিতরণ করেন। প্রায় ১৮০০ প্যাকেট ভোগ প্রসাদ মানুষকে এখান থেকে দেওয়া হতো। কিন্তু এবার সে সবকিছুই বন্ধ রইলো।তবে এবার জগন্নাথ দেবের পুজোটা হবে মন্দির- এর মধ্যেই। অন্যদিকে চিত্তরঞ্জন ছয় -এর পল্লীর রথযাত্রা কমিটির একই কথা। এই রথ উৎসবের আহ্বায়ক ছয়ের পল্লীর ভাইস ওয়ার্ডেন বাপ্পা কুন্ডু জানান যে প্রতিবারের মত এবার মানুষের ঢল নামবে না রথ টানার জন্য। বসবে না কোন মেলা তবে পুজো হবে ভক্তি-শ্রদ্ধা সহ ২৯ নম্বর রাস্তা ও ২৫ নম্বর রাস্তার নির্দিষ্ট ঠিকানায়। সোজা রথ যেমন বন্ধ থাকবে ঠিক উল্টো রথ পূজো বন্ধ থাকবে।

তিনি বলেন ১৯৫৬ সালে জলধর পন্ডিত এর হাত দিয়েই প্রথম এখানে রথ যাত্রার সূচনা। তিনি চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার এক কর্মী ছিলেন আর সেই সময় নিজের আবাসন ২৭ নম্বর রাস্তার ৪৮/বি কোয়াটার থেকেই এই জগন্নাথ দেবের পুজো শুরু হয় তারপর থেকে এখন চলে আসছে এই পুজো। তবে তার মৃত্যুর পর ১৯৯২ সাল থেকে দীনেশ পন্ডিত তার ২৯ নম্বর রাস্তার আবাসনে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। এখনও তাঁরই উদ্যোগে এই রথযাত্রার আয়োজন করা হয় তবে ছয়ের পল্লীর এরিয়া কমিটির সহযোগিতায় এই রথ উৎসব সর্বজনীন হয়ে একটি মেলার ও আয়োজন করা হয় যেখানে আশেপাশের হাজার হাজার মানুষবএই রথ উৎসবের মেলায় হাজির হন। এবার এসব কিছুই বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here