সুন্দরবন তথা দেশ জুড়ে বাড়ছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা, জানাল সমীক্ষা

0
687

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ বর্তমান বিশ্বে জনসংখ্যার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি, বন-জঙ্গলের ধ্বংস সাধন সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাওয়া পরিবেশ দূষণের জেরে আজ অস্তিত্ব সংকটে বহু বন্য প্রানীজগত। সেই সঙ্গে অবশ্যই রয়েছে চোরাশিকারের রমরমা কারবার। এইসমস্ত কিছুর জেরে বছরের বছর ধরে বহু বন্যপ্রাণ বর্তমানে লুপ্ত হয়েছে, এখনও বহু প্রজাতির জীবজন্তু প্রায় বিলুপ্তির পথে। যে তালিকায় রয়েছে সুন্দরবনের বাঘও। বহু বছর ধরে চোরাশিকারিদের ফাঁদে পড়ে অসংখ্য বাঘের মৃত্যু হয়েছে শুধুমাত্র কিছু অসৎ ব্যবসায়ীদের অর্থ লালসার কারণে। তাই বিগত কয়েক বছর ধরেই সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের অস্তিত্ব রক্ষায় বাড়তি নজর দেওয়া হয়েছিল। চোরাশিকারিদের গতিবিধিতে লাগাম টানার সঙ্গে সঙ্গে সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে একাধিক ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল। যার ফল মিললো হাতেনাতে। বিগত কয়েক বছর আগেও যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল যে, আগামী দিনে হয়তো সুন্দরবন থেকে হারিয়ে যেতে পারে হলুদ ডোরাকাটা দাগের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, কিন্তু সরকারী কড়া পদক্ষেপের জেরে সম্প্রতি সরকারী সমীক্ষা হাসি ফুটিয়েছে সমস্ত ব্যাঘ্রপ্রেমী তথা পরিবেশপ্রেমীদের মনে। কারণ, গত কয়েক বছরে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারেরর সংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশ উল্লেখযোগ্য। ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী যেখানে সুন্দরবনে বর্তমানে ৭৬টি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে সেখানে বর্তমান ভারতবর্ষে বাঘের সংখ্যা মোট বাঘের সংখ্যা ২৯৬৭টি। যেখানে ২০১৪ সালে দেশে বাঘের সংখ্যা ছিল ২২২৬টি, ২০১০ সালে ছিল ১৭০৬টি এবং ২০০৬ সালে ছিল ১৪১১টি সেখানে ২০১৮ সালে সরকারী ব্যাঘ্র গণনা অনুযায়ী দেশে এই মুহূর্তে বাঘের সংখ্যা ২৯৬৭টি, যা তাৎপর্যপূর্ণভাবে গোটা দেশের পক্ষে ভালো খবর। তবে দুঃখের কথা আজও এই যে, এতকিছুর পরেও, এত সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করা হলেও আজও আমাদের দেশে জীবন্ত পিটিয়ে হত্যা করা হয় বাঘ, যার উদাহরণ সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ঘটনা। যেখানে দিনের আলোয় প্রকাশ্যে এক পূর্ণবয়স্ক বাঘিনীকে পিটিয়ে হত্যা করে সেই ছবি সোশ্যাল সাইটে ফলাও করে ভাইরাল করা হয়। এটাই আমাদের দুর্ভাগ্য। যে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার গোটা বিশ্বের কাছে এক অন্যতম আকর্ষন তথা ভারতবর্ষের গর্ব সেই রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারকে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করার মধ্যে কোন শক্তিমত্ততার পরিচয় পাওয়া যায় তা জানা নেই। হ্যাঁ, সুন্দরবন তথা আশেপাশের এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে প্রায় বাঘের হামলায় মৎস্যজীবীর মৃত্যুর ঘটনা একদম সত্যি। কিন্তু তার সঙ্গে এটাও সত্যি, যে সুন্দরবনে প্রত্যেকদিন কমছে বাঘেদের প্রজননস্থল, সেই সঙ্গে তীব্র হচ্ছে জঙ্গলের খাদ্য সংকট। তাই এই অবলা প্রাণীদের এলাকায় বহিরাগতদের প্রবেশ ক্রমে হিংস্র করছে তাদের। যার জেরেই বাঘের হামলায় প্রায় ঘটছে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here