কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের বঙ্গে রাজনৈতিক প্রচারের খরচা কে জোগাচ্ছে ? আরটিআই করলেন দুর্গাপুরের সমাজকর্মী

0
694

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- গোটা ভারতবর্ষের নজর এখন পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের দিকে। ইতিমধ্যেই তিন দফায় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পূর্ণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশন। কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবশ্য ভিন্ন মত। পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বারবারই অভিযোগ করা হচ্ছে যে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক দুর্নীতি হচ্ছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মূল তিন দলের মধ্যে প্রচারে সব থেকে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। ইতিমধ্যেই দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সহ বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও একাধিক হেভিওয়েট নেতা নেত্রীদের আগমন ঘটেছে নির্বাচনী প্রচারে। শুধুমাত্র দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্যই প্রায় চল্লিশটি সভা করার অনুমতি নেওয়া হয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে। এখনও অবধি প্রায় দশটি নির্বাচনী জনসভা করেও ফেলেছেন প্রধানমন্ত্রী। পিছিয়ে নেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সহ একাধিক হেভিওয়েট নেতা নেত্রীরা। এর আগে বঙ্গ নির্বাচনী প্রচারে রাজ্যের মানুষ এতবার কখনোই দেখেননি প্রধানমন্ত্রী তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের পশ্চিমবঙ্গে আনাগোনা করতে। এখন আকাশে চোখ রাখলেই দেখতে পাওয়া যায় ঘনঘন হেলিকপ্টারের আনাগোনা। বিপুল খরচ করা হচ্ছে এই নির্বাচনে। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে কোথা থেকে আসছে এত টাকা। নির্বাচনের প্রচারের জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী একজন প্রার্থী মাত্র ১০ লক্ষ টাকা খরচা করতে পারেন, তাঁর কেন্দ্রে নির্বাচনী প্রচারের জন্য। কিন্তু শুধুমাত্র একটি জনসভাতেই প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতন হেভিওয়েট নেতা নেত্রীদের জন্য খরচা হয় প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা। তাই রাজ্যের একশ্রেণীর মানুষের মনে স্বভাবতই একটা প্রশ্ন জাগছে কোথা থেকে আসছে এত টাকার যোগান।

আর এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়ে দুর্গাপুরের এক সমাজকর্মী সুব্রত মল্লিক দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে, (চিফ ইলেকশন কমিশনার) সুনিল আরোরাকে একটি আরটিআই করেন গত ৭ এপ্রিল। চিঠিতে তিনি জানতে চান যে, দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সহ একাধিক হেভিওয়েট নেতা নেত্রীরা যে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে প্রচারে আসছেন, তারা তাদের খরচা কোথা থেকে পাচ্ছেন। কোন খাতে থেকে খরচ করা হচ্ছে এই টাকা। তিনি আরও জানতে চান যে, এইসব হেভিওয়েট নেতা নেত্রীদের বায়ু মার্গে আনাগোনা ও বিশাল বিশাল জনসভা করার খরচা কোথা থেকে আসছে। এই খরচ কি প্রার্থীর নিজের তহবিল থেকে করছেণ নাকি দেশের সাধারণ মানুষের টাকা খরচ করা হচ্ছে। সুব্রতবাবু তার চিঠিতে নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্ন করেছেন যে, নির্বাচন কমিশন কি এইসব হেভিওয়েট নেতা নেত্রীদের বঙ্গ আগমনের খরচ খরচার হিসাব রেখেছেন?

সুব্রত মল্লিকের আরটিআই করা চিঠিটি ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনিল আরোরা দপ্তরে। আমাদের প্রতিনিধির সাথে কথা বলার সময় সুব্রতবাবু জানান যে, রাজ্যে এর আগেও অনেক নির্বাচন হয়েছে কিন্তু বিশেষ করে এই বিধানসভা নির্বাচনে এতবার করে দেশের প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও একাধিক হেভিওয়েট নেতা নেত্রীরা আনাগোনা করতে দেখা যাচ্ছে। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন যে, সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকাতেই এই নির্বাচনে হেভিওয়েটের নেতা-নেত্রীরা আনাগোনা করছেন। তাই তিনি আরটিআই করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনিল আরোরা কাছ থেকে পুরো বিষয়টি জানতে চেয়েছেন। তিনি আরো বলেন, উত্তর সঠিকভাবে,সঠিক সময়ে না পেলে তিনি এই বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলাও দায়ের করতে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here