গৃহবধূকে খুন করে থানায় পুলিশ পেটালো শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা

0
1061

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ রাজ্যজুড়ে ক্রমশ বাড়ছে অপরাধপ্রবনতা, নিত্যদিন দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, হাতাহাতি, ধর্ষন, শ্লীলতাহানির মতো একাধিক অসামাজিক কার্যকলাপ। প্রতেক দিন রাজ্যের কোনও না কোনও প্রান্তে এইধরনের ঘটনা ঘটে চলায় প্রাথমিকভাবে অপরাধপ্রবণতাকে দায়ী করা হলেও এর সঙ্গে মানসিক বিকৃতিকেও সমানভাবে দায়ী করা যায়। কিন্তু সবথেকে আশঙ্কার বিষয় হল, এইসমস্ত অপরাধীরা অপরাধ করার পরেও কোনওরকম অপরাধপ্রবণতায় ভোগেনা, বরং নৃশংস অপরাধ করার পরেও তারা থাকে সেরকমই বেপরোয়া এবং নির্বিকার, যা আধুনিক ও ভবিষ্যত সমাজের কাছেও সুখকর বার্তা নয়। সেরকমই এক ঘটনা ঘটন এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং থানা এলাকায়। এক গৃহবধূকে পণের দায়ে বেধড়ক মারধর করে গলায় দড়ি দিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। ঘটনা দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং থানার বাহিরবেনা গ্রামের। জানা গেছে, ওই গ্রামের সুলতান মোল্লার মেয়ের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল ভাঙ্গনখালি গ্রামের রফিক সরদারের মেজোমেয়ে হালিমার। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই হালিমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য ক্রমাগত চাপ দিত। হালিমা তাদের কথা না শোনায় প্রায় তার কপালে জুটত মারধর। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার ফের হালিমাকে বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ দিয়েছিল শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। হালিমা তা অস্বীকার করায় তার স্বামী হাসান আলী মোল্লা ও পরিবারের বাকী সদস্যরা হালিমাকে বেধড়ক মারধর করে, এরপর তার গলায় দড়ি দিয়ে সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। হালিমার বাপের বাড়ির লোকজন ঘটনা জানতে পেরে তড়িঘড়ি হালিমাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করলে শনিবার হালিমার মৃত্যু হয়। ঘটনাপর পর মৃতার পরিবারের লোকেরা মৃতার স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্যানিং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে গেলে সেখানেও হালিমার পরিবারের ওপর তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন চড়াও হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ কর্মীরা তাদের বাঁধা দিতে গেলে রেহাই পাননি তারাও। অভিযুক্তরা পাল্টা পুলিশের ওপর চড়াও হলে চার পুলিশ আধিকারিক আহত হন। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে এবং পুলিশকর্মীদের মারধরের ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। কিন্তু যেভাবে একের পর এক এইধরনের অপরাধ হয়েই চলেছে তাতে আশঙ্কার সত্যিই কারণ রয়েছে। কারণ আজকের এই অপরাধীরা তাদের মন থেকে নূন্যতম ভয়টুকুও হারিয়ে ফেলেছে। ফলে একদিকে যেমন বাড়ছে অপরাধের সংখ্যা, সেরকমভাবেই পুলিশ প্রশাসনের কাছেও তা চ্যালেঞ্জের হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কারন যেভাবে অপরাধীরা ঘৃন্য অপরাধ ক্রেওন কোনও আক্ষেপ না দেখিয়েই পাল্টা পুলিশের ওপর এবং থানার ভেতর আক্রমণ চালাচ্ছে তাতে পুলিশের কার্য ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তাও এইধরনের অপরাধপ্রবণতা শীঘ্র হ্রাস করতে না পারলে তা সমাজে পক্ষে অনুকূল বার্তা নয় বলেই মনে করা হচ্ছে।