পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিয়ে অন্নপ্রাশনে ছোট্ট হিয়াকে চারাগাছ উপহার সুন্দরবনের প্রশান্ত-র

0
918

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ দূষণের কবলে পরিবেশ, বিপন্ন সুন্দর পৃথিবীর প্রানীহজগত ও উদ্ভিদ জগতের জীবন। দিনের পর দিন পরিবেশের দূষণ ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে তেমনি বিলুপ্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছে পৃথিবী। এইভাবেই চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে যেতে পারে প্রাণের স্পন্দন। আর এখানেই প্রমাদ গুনছেন পরিবেশবিদরা। আধুনিকতার সঙ্গে নিজেদের ঢেলে সাজাতে গিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত পরিবেশের ধ্বংসসাধন করে চলেছি। নির্বিচারে গাছ কাটা যার মধ্যে অন্যতম। সম্প্রতি এক সমীক্ষায় বিশ্বে গত ১০ বছরে বৃক্ষছেদনের যে তালিকা আমরা পেয়েছি তা যেকোনো মানুষের মনে ঠান্ডা স্রোত বইয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আর বৃক্ষছেদনের এই প্রভাব আমাদের চোখের সামনে। দেশ তথা বিশ্বজুড়ে সুন্দরবন খুবই পরিচিত জায়গা। বিশেষ করে ভয়ঙ্কর সুন্দর রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের উপস্থিতি এবং বিস্তীর্ণ ম্যানগ্রোভ অরন্য সুন্দরবনকে বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে আলাদা জায়গা করে দিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সুন্দরবনের এই দুই আকর্ষনই পরিবেশ দূষণের শিকার। একের পর এক বৃক্ষছেদন এবং পরিবেশের উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সুন্দরবনের খাড়িগুলির জলস্তর বাড়ছে। গত কয়েক বছরে সুন্দরবনের কয়েকশো হেক্টর ম্যানগ্রোভ অরন্য জলের নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে বাসস্থান কমছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারদেরও। যার প্রভাব পড়ছে তাদের প্রজননেও। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবেশের বিষাক্ত উপাদান প্লাস্টিকের ব্যবহারের বৃদ্ধি। যা সুন্দরবনের বাঘেদের জন্য মারণ অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই, সুন্দরবনের সেই পরিবেশকে রক্ষায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সুন্দরবনের বাসিন্দা প্রশান্ত সরকার। জানা গেছে সুন্দরবনের ঝড়খালী কোস্টাল থানার পার্বতীপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রশান্ত সরকার হিয়া মণ্ডল নামে এক ছোট্ট শিশুর অন্নপ্রাশনে উপস্থিত হয়ে তাকে একটি ছোট্ট চারা গাছ উপজার দিলেন। অন্নপ্রাশ্নের অনুষ্ঠানে আর পাঁচজন নিমন্ত্রিতের থেকে সম্পূর্ন আলাদা ভাবে চিন্তা করে আগামী প্রজন্ম ছোট্ট হিয়া এবং পরিবেশের সুস্থতা কামনা করে প্রশান্ত সরকারের এহেন উদ্যোগ অবাক করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত নিমন্ত্রিতদের। আর সন্তানের মুখে ভাত অনুষ্ঠানে প্রশান্ত-র এহেন উপহারে উচ্ছ্বাসিত হিয়ার বাবা ও মা। সুন্দরবনের প্রশান্ত সরকার যদি পেরে থাকেন তাহলে আমরাই বা কেন পারব না এভাবে ভাবতে। সত্যিই তো এই পৃথিবীকে সুস্থ রাখার দায়িত্ব আমাদেরই। তবেই আগামী প্রজন্মের জন্য আমরাও বলে যেতে পারব “এ পৃথিবীকে সকলের বাসযোগ্য করে যাব আমরাই”। আসুন না, শুধু ৫ই জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসেই নয়, বছরের প্রতিটা দিন পৃথিবীকে রক্ষায় প্রত্যেকেই অল্প অল্প করে নিজেদের যোগদান দিই।