সাবাস পুলিশ সাবাস — অসম্ভবকে সম্ভব করলো পুলিশ

0
1666

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর:- সারা রাজ্যে চলছে লকডাউন। রাজ্য সরকার ও জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাগাতার মাইক দ্বারা জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে মারণ রোগ করোনাভাইরাস মোকাবেলায়। তবুও বেশ কিছু মানুষজন এখনো সরকারের বর্ধিত সোশ্যাল ডিসটেন্স সিংয়ের নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করেই দেদার ঘুরে বেড়াচ্ছেন রাস্তাঘাটে আড্ডা মারছেন বাজার হাটে। এমনই এক দৃশ্য দেখা যেত রোজই চন্ডীদাস বাজারের সবজি আরত গুলিতে। ভোর থেকেই দলে দলে জড়ো হতে শুরু করতেন পাইকারি বিক্রেতা ও ক্রেতাদের দল। চন্ডীদাস বাজারের ২২ নম্বর স্ট্রিটে অবস্থিত ওই সবজি আরত গুলিতে মানুষের এত জনগণ জনসমাগম হলে এলাকাবাসীরা ক্ষুব্দ হয়ে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। সেইমতো দুর্গাপুরের বি-জোন থানার বড়বাবু মনোরঞ্জন মন্ডল এর নেতৃত্বে কয়েকদিন আগে একটি জরুরি বৈঠক হয় ওইসব সবজির আরত মালিকগণের সাথে। আপাতত স্থির হয় বিজোনের কাশীরাম দাস ময়দানে স্থানান্তরিত করা হবে এই সবজি আরত গুলিকে কিছুদিনের জন্য। সেইমতো গতকাল ভোর থেকেই সবজির আরত গুলি কাশীরাম ময়দানে জড়ো হতে শুরু করেন বেচাকেনার উদ্দেশ্যে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা ও বেশ কয়েকটি ক্লাবের সদস্যরা তাদের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপারটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে বলে জানানো হয় বিক্ষোভকারী মানুষজনদের কে। কালকের চিত্র ছিল একেবারে অরাজকতায় ভরা। যে যেমন খুশি করে নিজের মতন করে আসা-যাওয়া করছিলেন আরত গুলিতে। সবজি কেনাকাটা করতে মানা হচ্ছিল না সোশ্যাল ডিসটেন্স সিং এর নিয়ম কানুন। তাই দেখে এলাকার বাসিন্দারা ক্ষুব্দ হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু আজ সকাল থেকে শুরু হওয়া সেই সবজির আরতের বেচাকেনা দেখে স্তম্ভিত হয়ে গেল এলাকাবাসী। ভোর থেকেই বিজোন থানার বড়বাবু মনোরঞ্জন মন্ডল সহ বেশ কয়েকজন সিভিক ভলেন্টিয়ার নিজেদের গাড়ি নিয়ে হাজির হয়ে যান এই চন্ডীদাস সবজি আরত স্থানান্তরিত স্থান কাশীরাম ময়দানে। বাইরে থেকে আসা সবজি আরত মালিকদের গাড়ি গুলি সুশৃংখল ভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় সোশ্যাল ডিসটেন্স এর নিয়ম মেনে। সুশৃংখল ও সুসজ্জিত ভাবে রাখা হয় তাদের সবজির ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুলি। সোশ্যাল ডিসটেন্স সিং এর সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে গোটা ময়দান জুড়ে বসে এই সবজির আরত, নেই কোন কোলাহল নেই কোন গাদাগাদি করে কেনাবেচা করার মানসিকতা। অবাক চোখে দেখল এলাকাবাসী আর সাধুবাদ জানালো পুলিশ প্রশাসনকে। একবাক্যে সবাই বলে উঠলো “সাবাস পুলিশ সাবাস– তোমরাই পারো অসম্ভবকে সম্ভব করতে”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here