নেপথ্যে কোল সিন্ডিকেট? পুরোদস্তুর “প্যাড” লাগিয়ে দেদার বালি পাচার বাঁকুড়ায়

0
1602

মনোজ সিংহ, বাঁকুড়াঃ- কয়লা’র পর এবার অবৈধ বালি পাচারেও ‘প্যাড’ দেদার চলছে বাঁকুড়া জেলা জুড়েই।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার বার সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ ও প্রশাসন কে কড়া হাতে বালি পাচার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বাঁকুড়া জেলা সফরেও আসছেন সামনের সপ্তাহেই। তার মাঝেই প্রকাশ্যে এসেছে সংগঠিত ভাবে ‘প্যাড’ ইস্যু করে বালি পাচারের বিষয়টি। এ বিষয়ে বাঁকুড়া জেলা পুলিশ সুপার কোটেশর রাও’র দপ্তরে সু নির্দিষ্ট একটি অভিযোগও জমা পড়েছে গত ১৫ জানুয়ারি। সেই অভিযোগ পাওয়ার পর অবৈধ বালি পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কার্যতঃ কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি পুলিশ। উল্টে, ভিন জেলার পুলিশের সাহায্য নিয়ে অভিযোগকারী কে বার বার দুর্গাপুরের একটি থানায় তলব করা হয়। অবৈধ বালি পাচার নিয়ে অভিযোগ করায় অভিযোগকারীকেই কেনো হেনস্থা হতে হবে, তা নিয়ে ধন্দে নানা মহল।
দুর্গাপুর শহরের বিধান নগরের বাসিন্দা সুব্রত মল্লিক তার অভিযোগে দাবি করেন, “বাঁকুড়ার দ্বারকেশর নদী ব্যবহার করে হরির লুঠ চলছে বালির। প্রায় ডজন খানেক বে আইনী বালি পাচারকারীর নাম, মোবাইল ফোন নম্বর, ঠিকানা বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার কে জমা দিয়েছি ১৫ জানুয়ারি। কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। উল্টে বার বার আমাকেই তলব করছে পুলিশ। এ কেমন ব্যবস্থা”? সুব্রত’র বক্তব্য “মুখ্যমন্ত্রী স্বচ্ছতা চাইলেও, নিচের তলায় এমন সুন্দর করে খাওয়ার ব্যবস্থা হয়ে রয়েছে, তাতে চোরেদের ধরার কেউ নেই বলেই মনে হচ্ছে। আমার ধারনা অনেকেই সেটিং করে মধু খাচ্ছেন বালি পাচারের”।
নিছক দু’পাতার অভিযোগ পত্র’ই নয়, তার আনা অভিযোগের স্বপক্ষে সুব্রত জেলা পুলিশ সুপার কে প্রমান স্বরূপ জমা দিয়েছেন বালি পাচারে ব্যবহৃত ‘প্যাড’র পাতা ও। দেখা যাচ্ছে- ‘মা তারা রোড লাইনস’ নামে ভূয়ো একটি সংস্থা বালি বোঝাই লরি, ট্রাকটার গুলি কে ‘চালান’ ইস্যু করছে। যে চালানে কালী ঠাকুরের ছবিও ব্যবহার করা হচ্ছে। লরি পিছু ১৫০০ টাকা করে ‘প্যাড’ কিনলে নদী থেকে বালি বইবার ছাড়পত্র মিলছে। এ সবই কিন্তু চলছে প্রশাসনের নাকের ডগায়।


“গোটা বিষয়টি এখন সিন্ডিকেট ব্যবসায় পরিনত হয়েছে। আগাগোড়া সব করে খাচ্ছে। আমি বিষয়টি বিধান সভাতেও তুলেছি- কি ভাবে বালি, পাথর পাচার ঘিরে বাঁকুড়া জেলায় সিন্ডিকেট রাজ চলছে। কিন্তু, তারপরও কোনো হেলদোল নেই। মুখ্যমন্ত্রী মুখে অনেক বলেন, জানেন না প্রদীপের ঠিক নিচেটা তেই কত অন্ধকার”, বললেন বড়জোড়ার বিধায়ক সুজিত চক্রবর্তী। তিনি বললেন, “প্রশাসনে স্বচ্ছতা থাকলে পুলিশ তদন্ত করুক। ধরা পড়ে যাবে শাসক দলের ঘনিষ্ঠ কিছু কোল মাফিয়া। ওরাই এখন বালি কারবারের সর্বেসর্বা।
পুলিশি নিস্ক্রিয়তা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ থাকলেও, বালি পাচার নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন জেলা পুলিশ সুপার কোটেশর রাও। কোনও এক অজানা কারনে। বহুবার চেষ্টা করেও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here