জেলায় জেলায় বালি পাচারে তৃনমূল-বিজেপি একজোটঃ রাজনৈতিক যোগ নিয়ে ক্ষুদ্ধ হাইকোর্ট

0
453

বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতাঃ- দামোদর, অজয় সহ রাজ্যের বহু নদীগর্ভ থেকে অবাধে যে ভাবে লাগাতার বালি লুঠ চলছে, তাতে আবশ্যিক ভাবেই রাজনৈতিক প্রশয় রয়েছে বলে মনে করে কলকাতা হাইকোর্ট। গতকাল এই মর্মে কলাকাতা হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, “রাজ্য জুড়েই বিভিন্ন নদী থেকে যে ভাবে বালি, বোল্ডার লুঠ চলছে এটা সংগঠিত মদত ছাড়া কোনওভাবেই সম্ভব নয়”।
অন্তর্বর্তী রায় দানের পর বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য পুলিশের ডিজি কে বিষয়টিতে আসু ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি আদালতের তত্বাবধানে বালি চুরি রুখতে একটি বিশেষ তদন্তকারি দল গঠনের পরামর্শ দিয়েছে। তাতে এও বলা হয়েছে, “রাজ্য পুলিশ কে দেখতে হবে যেন রাজনৈতিক প্রশয়ে এই অনাচার অবিলম্বে বন্ধ হয়।”
গত সেপ্টেম্বর মাসেই পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম ও বাঁকুড়া জেলার প্রধান নদী অজয়, দামোদর ও দারকেশ্বরের অগনিত অবৈধ ঘাট থেকে যথেচ্ছ বালি তোলার দরুন রাজ্য সরকারের রাজস্ব ঘাটতি কতটা, তা খতিয়ে দেখতে একজন অফিসার কে জেলায় জেলায় পাঠানোর নির্দেশ দেয় বেঞ্চ। বিষয়টি আদালতের নজরে আনে দিল্লির একটি স্বেচ্ছাসেবী তদন্তকারি সংস্থা ‘অল ইন্ডিয়া অ্যান্টি করাপশন অরগ্যানাইজেশন’র দায়ের করা মোকদ্দমার ভিত্তিতে। সংস্থার আধিকারিক সুব্রত মল্লিক জানান, “আমরা আমাদের তদন্ত রিপোর্ট ওই সব জেলার পুলিশ সুপার, জেলা শাসকদের কাছে কয়েকমাস আগে জমা করি। কিন্তু, দেখা যায়, বালি লুঠ থামার চেয়ে বেড়ে যায় বহুগুন। বিভিন্ন মহল থেকে আমাদের সংস্থার কর্মী, আধিকারিকদের ওপর হুমকি, শাসানি বেড়ে যেতে থাকে। তারপরই বিষয়টি আমরা আদালতের সামনে তুলে ধরি।” তিনি জানান “বাঁকুড়ার পাত্রসায়েরে, ইন্দাস এলাকায়, ওন্দা তে আমরা সরাসরি পুলিশ ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের কর্মী-আধিকারিকদের একাংশের সাথে বালি কারবারিদের সাথে সরাসরি যোগসাজস দেখেছি। প্রমান-নথি সহ জেলা পুলিশ, প্রশাসনকে দিয়েছি। লাভ হয়নি কিছুই।”
কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ যাই বলুক, দামোদর- অজয়- দারকেশ্বর নদী থেকে বেআইনী বালি তোলা যে বেলাগাম, তার প্রমান নতুন করে মিলেছে বড়জোড়ার পখন্না ঘাটে। বুধবার থেকে সেখানে দামোদরের চরে মেশিন নামিয়ে বালি তোলা হচ্ছে যথেচ্ছ। স্থানীয় মানুষের দাবি, নতুন করে যে বালি লুঠ শুরু হয়েছে, তাতে তৃণমূল কংগ্রেস আর বিজেপি হাতে হাত মিলিয়ে বখরা বুঝে নিচ্ছে। সেখানকার পঞ্চায়েতের পদাধিকারী এক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা আর পখন্না বাজারে ঠেলা গাড়ী নিয়ে ব্যবসা করা এক যুব বিজেপি নেতা যৌথভাবে পুলিশের সাথে হাত মিলিয়ে বালি কারবারে সায় দিয়েছেন। বালি কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা তুলে ওই তৃণমূল কংগ্রেস আর বিজেপি নেতা বড়জোড়া থানার নির্দিষ্ট এক পুলিশ অফিসারের কাছে পৌঁছে দিয়ে আসেন। উল্লেখ্য, কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশিন বেঞ্চের অন্তর্বর্তী রায়েও এই রাজনৈতিক মদতে চলা বালি পাচার নিয়েই খোলাখুলি মত প্রকাশ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here