অবৈধ বালি খাদান মাফিয়াদের হাতে আক্রান্ত গ্রামবাসী ব্যাপক বোমাবাজির অভিযোগ………দেখুন সেই ভিডিও

0
1035

সংবাদদাতা , বাঁকুড়াঃ- সারা দেশজুড়ে যখন করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে ও সাধারণ মানুষ যখন নিজেদেরকে গৃহবন্দি করে রাখছেন ঠিক তখনই একদল বালি মাফিয়া দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এলাকাতে। অবৈধভাবে বালি খনন করে পাচার চলছে দেদার। অবৈধ বালির ট্রাক এর জন্য স্থানীয় গ্রামগুলির রাস্তাঘাট বেহাল হয়ে যাচ্ছে ও পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হচ্ছে নিত্যদিন । বেশ কিছু জায়গায় গ্রামবাসীরা সঙ্গবদ্ধ হয়ে বহু অবৈধ খাদান এর বিরুদ্ধে অভিযানে নামছেন। এমনই এক অভিযানে নেমে বালি মাফিয়াদের হাতে আক্রান্ত হন গ্রামবাসীরা চলে ব্যাপক বোমাবাজি। অবৈধ বালি মাফিয়ারা ব্যাপক বোমাবাজি করে।

এমনই এক ঘটনার সাক্ষী রইল বাঁকুড়া জেলার ইন্দাস থানার, অন্তর্গত বেতালন মৌজার গ্রাম। একটি সূত্র মারফত জানা গেছে জনৈক আগারওয়াল নামক এক বালি ব্যবসায়ী বৈধ বালি খাদান এর লিজ নিয়ে ব্যবসা করেন। কিন্তু সময় মত লিজের পুরো টাকা সরকারের কাছে জমা না দিতে পারার জন্য, বাঁকুড়ার ভূমি রাজস্ব দপ্তর জনৈক আগারওয়াল নামক ব্যক্তির সব চালান বাতিল করে দেন। এলাকার গ্রামবাসীদের অভিযোগ জনৈক আগারওয়াল নামক ব্যক্তি তার জামাই কে দিয়ে অবৈধভাবে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন অন্য লোকের চালান নিয়ে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ প্রায় ১০০ বিঘা জমির ওপর অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে ওই এলাকায় । গ্রামবাসীরা সম্মিলিতভাবে এই অবৈধ বালি কারবারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালে আজ ব্যাপক বোমাবাজি করে একদল বালি মাফিয়া। হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এলাকায় পুলিশের টহল চলছে। এলাকায় বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে গ্রামে বাস করা দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্রামবাসীদের। এলাকার সাধারণ গ্রামবাসীদের অভিযোগ বহুবার স্থানীয় ইন্দাস থানার পুলিশকে ব্যাপারটি জানিও কোন লাভ হয়নি । অবৈধ বালি খাদান এর বিরুদ্ধে এর আগেও গ্রামবাসীরা বেশ কয়েকজন বালি মাফিয়ার নাম দিয়ে জেলাশাসককে ও বাঁকুড়ার ভূমি রাজস্ব বিভাগ চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছিল কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। গ্রামবাসীদের অভিযোগ বালি মাফিয়ারা বুক ফুলিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন অবৈধ বালি কারবার ।

উক্ত ঘটনার বিষয়ে ইন্দাস থানার পুলিশ আধিকারিক জানান, “গন্ডগোলের একটি ঘটনার খবর পেয়েছি। কিন্তু কোনভাবেই এখনো পর্যন্ত গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। পুলিশ নিজের দায়িত্বে তদন্ত শুরু করেছে ।”

অন্যদিকে বিশিষ্ট সমাজকর্মী সুব্রত মল্লিক জানান, ” বাঁকুড়া ,পশ্চিম ও পূর্ব বর্ধমান ,বীরভূম, হুগলি জেলা জুড়ে বালি মাফিয়াদের দাপটে ওষ্ঠাগত গ্রামবাসীদের জীবন। এই মর্মে আমি মহামান্য কলকাতা উচ্চ আদালতে একটি মামলা করেছিলাম। সেই মামলায় মাননীয় বিচারপতি রাজ্য পুলিশের ডিজি কে অবৈধ বালি চুরির এই সব ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে, ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন নদী সংলগ্ন গ্রামের গ্রামবাসীদের সাথে অবৈধ বালি মাফিয়াদের সংঘর্ষ হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন কোনভাবেই এই ঘটনা গুলি কে বন্ধ করার কোন প্রচেষ্টায় করছেন না। আমি পুরো বিষয়টি নিয়ে মহামান্য কলকাতা উচ্চ আদালতে একটি ‘কন্তেম্পট অফ কোর্ট অর্ডারের’ মামলা করতে চলেছি খুব তাড়াতাড়ি এবং আমি মহামান্য আদালতের কাছে রাজ্য পুলিশের উদাসীন মনোভাবের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আরজি জানাবো। “

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here