সরকারী শিক্ষকদের মাইনেই পেট ভরছে না, বেআইনিভাবে করছেন গৃহশিক্ষকতা

0
742

বিশেষ প্রতিবেদনঃ কোনও কোনও শিক্ষকের বেতন মাসে ২০ হাজার টাকা আবার কারোর তারও বেশী কিন্তু তাতেও পোষাচ্ছে না সরকারী কিংবা বেসরকারি স্কুলগুলির শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। স্কুল শেষে বাড়ি ফিরে তাই অবাধে চলছে গৃহশিক্ষকতা। এমনটাই এখনও ঘটছে দুর্গাপুর শহরসহ রাজ্যের আনাচে-কানাচে। সরকারী কড়া নিয়মের আওতায় কোনও সরকারী-বেসরকারী স্কুলে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বাড়িতে কোনওরকমভাবে গৃহশিক্ষকতা কড়াভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় চলছে গৃহশিক্ষকতার অবাধ ব্যবসা। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বড় বড় পোস্টারে শিক্ষকের নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর দিয়ে চলছে ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি করানোর ব্যবসা। যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এখানে প্রশ্ন উঠছে কেন ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকরা কিংবা পড়ুয়ারা স্কুল শিক্ষকদের কাছেই কোচিং নেওয়ার জন্য ছুটছে? কারণ প্রথমত, এক তো হচ্ছে যেই স্কুলে ওই শিক্ষক বা শিক্ষিকা চাকরি করেন তার কাছে কোচিং নিলে পড়ুয়াদের পরীক্ষার আগে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার লোভ আর দ্বিতীয়ত হচ্ছে সেই সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পড়ুয়াদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং হুমকি যে তার কাছে না পড়লে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়া হবে। কারণ কোনও পড়ুয়া যদিও তার স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকার কাছে কোচিং না নিয়ে অন্য কোনও টিউটরের কাছে কোচিং নিতে যাচ্ছে তাহলে সেই পড়ুয়াকে ব্ল্যাকমেলিংয়ের স্বীকার হতে হচ্ছে বলেও একাধিক জায়গা থেকে অভিযোগ উঠে এসেছে আমাদের কাছে। অভিযোগ পরীক্ষায় কম নম্বর পাইয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়েও একশ্রেণীর শিক্ষক-শিক্ষিকারা শুধু কোচিং ক্লাস করিয়ে মোটা টাকা আয় করে চলেছেন। আর তাদের এই কালো টাকা আয়ের নেশার ফাঁদে পড়ে চরম দুর্দশার মধ্যে পড়তে হচ্ছে অন্যান্য টিউটরদের, যাদের আয়ের মূল উৎস এই কোচিং বা গৃহশিক্ষকতা। কারণ এইসমস্ত অসাধু স্কুল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাপে পড়ে স্কুল পড়ুয়ারা এবং তাদের অভিভাবকেরা ছেলেমেয়ের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য প্রফেশনাল টিউটরদের কাছে কোচিং না নিয়ে এইসমস্ত স্কুল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছেই কোচিং নিতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রফেশনাল টিউটররা। শহরের সরকারী স্কুল ছাড়াও প্রথম সারীর একাধিক ইংরেজী ও বাংলা মাধ্যমের বেসরকারি স্কুলগুলির শিক্ষকদের নামও উঠে এসেছে এই বেআইনি কোচিং করানোর বিরুদ্ধে। আইন থাকলেও সরকারী নজরদারির অভাবে এই সমস্ত অসাধু শিক্ষক-শিক্ষিকারা স্কুলগুলিতে মোটা টাকার চাকরি করা সত্ত্বেও বাকি সময়গুলিতে একচেটিয়াভাবে কোচিংয়ের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পড়ুয়াদের কাছ থেকে ফিস বাবদ লক্ষ লক্ষ কালো টাকা যেমন তাঁরা সঞ্চয় করে চলেছেন তেমনি শহর ও মফস্বলের শিক্ষিত অথচ বেকার যুবকদের রুজি-রুটিতেও থাবা বসাচ্ছেন তাঁরা। ফলে একশ্রেণীর মানুষ যখন স্বচ্ছল জীবনযাপন করছেন তখন আরেক শ্রেণির শিক্ষিত যুবসমাজ পেটের দায়ে বিভিন্ন সময়ে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ছে। যা মোটেই কাম্য নয়। অবিলম্বে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের উচিত বিভিন্ন স্কুলগুলির শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে যারা যারা এই বেআইনিভাবে বাড়িতে বা বিভিন্ন সংস্থায় কোচিং ক্লাস করিয়ে মোটা টাকা মুনাফা লাভ করছেন তাঁদেরকে খুঁজে বার করে যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া। চ্যানেল এই বাংলায়-র পক্ষ থেকে দুর্গাপুর শহর জুড়ে এই সেইসমস্ত অভিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের খুঁজে বার করতে এক বিশেষ অভিযান চালানো হবে। যেই অভিযান থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নাম, ঠিকানা ও ফোন নং সহ অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে তা আমাদের ওয়েব পেজে পরবর্তী প্রচ্ছদে পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হবে। এছাড়াও আমাদের পাঠকদের কাছে বিশেষ আবেদন আপনাদের কাছেও যদি এই ধরণের কোনও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্পর্কে কোনওরকম তথ্য থাকে তাহলে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর-৯৪৩৪০৮২৭৫-এ যোগাযোগ করুন। সমস্ত তথ্যদাতাদের পরিচিত এই বাংলায়-এর তরফে গোপন রাখা হবে। শিক্ষা এক পরম উপাসনা। সেই শিক্ষকতাকে যারা বর্তমান সমাজে ব্যবসায়িক মুনাফা লাভের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন তাঁদের বিরুদ্ধে একজোট হন।