রাজস্থানে পূর্ণাঙ্গ এরোপ্লেনের আকারে একটি রেস্টুরেন্ট তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল দুর্গাপুরের ওভারব্রিজের নীচে ফেঁসে যাওয়া পরিত্যক্ত বিমানটির

0
2253

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- প্রায় ১২ ঘন্টা পর মেন গেট ওভারব্রিজের নীচে ফেঁসে যাওয়া পরিত্যক্ত বিমান বহনকারী ট্রেলারকে অবশেষে বের করে আনা সম্ভব হল। কিন্তু এরপরেও ট্রেলারটির নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থল রাজস্থানের জয়পুরে যাওয়া ফের আটকে গেল। বিশ্বস্ত সূত্র থেকে আমরা জানতে পেরেছি বেশ কয়েকদিন আগেই কলকাতার এক সংস্থার কাছ থেকে স্ক্র্যাপ রেটে এই বিমানটি কিনে নেয় রাজস্থানের এক ব্যবসায়ী। রাজস্থানের একটি শহরে পূর্ণাঙ্গ এরোপ্লেনের আকারে একটি রেস্টুরেন্ট তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল ওই ব্যবসায়ীর। সেই জন্যই ১৮ লাখ টাকারও বেশি দিয়ে ওই স্ক্র্যাপ বিমানটি কিনে নিয়েছিলেন রাজস্থানের ওই ব্যবসায়ী। ট্রলার ভাড়া বাবদ দেওয়া হয়েছে ১০ লক্ষ টাকা। যে সংস্থার কর্মীরা ক্রেনের সাহায্যে টেলারে এই বিমানটিকে লোড করেছিলেন, তাঁরা জানিয়েছেন যে তারা ট্রেলারের ড্রাইভার কে বহুবার বলেছে যে তিনি এইরকম বড় মাপের এরোপ্লেন নিয়ে রাস্তায় যেতে পারবেন না কোথাও না কোথাও আটকে পড়বেন। কিন্তু টেলার ড্রাইভার তাদের কোনো কথা না শুনেই উত্তরে জানিয়ে দেন তিনি বহুবার এইরকম ভাবে মাল গাড়িতে করে নিয়ে গিয়েছেন। তাই এবারও তার কোন সমস্যা হবে না। সেই জন্যই তার কোম্পানি তাকে নিযুক্ত করেছে। একটি সূত্র থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে রাজস্থানের এক শহরে এই এরোপ্লেনটিকে সাজিয়ে একদম অবিকল একটি চলমান এরোপ্লেনের রূপ দেওয়া হবে এবং এই প্লেনের ভেতরে একটি অত্যাধুনিক রেস্টুরেন্ট করার পরিকল্পনা ছিল। দ্বিতীয় ট্রেলারের পেছনে আসছে তার দুটি বড় ডানা ও পেছনে থাকা তিনটি ছোট ডানা ও চাকার অংশ বিশেষ গুলি। ২ নম্বর জাতীয় সড়কের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ মাঝপথে আটকে দিল বিমান বহনকারী ট্রেলারটি। প্রজেক্ট ম্যানেজার সুমিত বাবু জানান, এই ধরনের যাত্রার আগে কেন্দ্রীয় পরিবহনকারী সংস্থার কাছে বিশেষ অনুমতি নিতে হয় এবং বিশেষ সার্ভেরও প্রয়োজন দরকার পড়ে। কিন্তু দুই অনুমতির কোনোটাই না নিয়ে এই বিমান বহনকারী ট্রেলারটি যাচ্ছিল হাইওয়ের ওপর দিয়ে। তাই আমরা জয়পুর গামী এই ট্রেলারটি আটকে দিয়েছি মাঝরাস্তায়। একই সাথে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের প্রজেক্ট ম্যানেজার এও বলেন, আমরা পুলিশকে বিষয়টি দেখার জন্য আবেদন করেছি। মেন গেটের রাস্তার একপাশে ট্রেলারটি দাঁড়িয়ে থাকবে। যতক্ষন না পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া হচ্ছে। সুমিত বাবু এও বলেন, এরপর যাত্রাপথে ট্রেলারটি কে যদি ছেড়েও দেওয়া হয় ফের সেটি কোনো না কোনো রাস্তায় ফের আটকে যাবে। উপরন্তু রাস্তার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হবে। ইতিমধ্যে এই সবের জন্য মেন গেটের রাস্তার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে। সোমবার রাত থেকে মেনগেটের ওভারব্রীজের নীচে আটকে পড়ে কার্গো বিমান বহনকারী একটি বিশালাকৃতি একটি ট্রেলার। সোমবার সকাল থেকে ট্রেলারটির কয়েকটি চাকা খুলে বের করার চেষ্টা করা হয় ট্রেলারটিকে। ১২ টা নাগাদ একটি লরিকে দিয়ে টেনে পুলের নিচের থেকে বের করে আনা হয় ট্রেলারটিকে। অন্যদিকে প্রশ্ন উঠেছে, আসানসোল গামী রাস্তা থেকে ট্রেলারটি কিভাবে মেন রোডে চলে এল। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের ম্যানেজার সুমিত বাবু বলেন, আমরাও ধন্দে রয়েছি কি ভাবে এত ট্রাফিক সিগন্যাল পেরিয়ে ট্রেলারটি জাতীয় সড়কে চলে এল। তবে এই কার্গো বিমান দেখার জন্য এই ঠান্ডাতেও বহু মানুষ ভিড় করে এদিন সকালে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here