দুর্গাপুরে দেহ ব্যবসা এখন পাড়ায় পাড়ায় ঘর ভাড়া করে, সঙ্গী হোয়াটস অ্যাপ

0
18261

মনোজ সিংহ, দুর্গাপুরঃ- ম্যাসাজ পার্লার গুলিতে দেদার যৌন ব্যবসায় পুলিশি অভিযান শুরু হতেই, এবার ‘কাজ’ র ধরন বদলাচ্ছে দেহ ব্যবসায়ী মেয়েরা আর তাদের “মালকিন” আধুনিক ‘মাসি’ রা। দুর্গাপুরের বিভিন্ন পাড়ায় ঘর ভাড়া করে সু কৌশলে চালু হয়েছে সেক্স বাজার। এই বাজারে কিশোরী থেকে মাঝ বয়সী, বিভিন্ন বয়সের, বিভিন্ন বর্ণের মেয়েদের নানান জায়গা থেকে “ঘরে” এনে ‘ধান্দা’ শুরু করে দিয়েছে ওই সব ‘মাসি’ রা।
কিন্তু, কি ভাবে চলছে এই দেহ ব্যবসা? “আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা কে ঢালাও ব্যবহার করে জবরদস্ত চালু হয়েছে সেক্স বাজার। সবচেয়ে সুবিধা হল, ‘হোয়াটস অ্যাপ’ ব্যবহার করে কাস্টমারের কাছে সরাসরি গুচ্ছ গুচ্ছ ছবি পাঠিয়ে দেওয়া যাচ্ছে। সেই ছবি দেখে পছন্দের মেয়ে হয়তো বা কয়েক ঘন্টার জন্য কিনে নিচ্ছে কাস্টমার, আর চলে যাচ্ছে দিঘা, মন্দারমনি, মাইথন বাঁ মুকুটমনিপুর। এ ভাবেই চলছে শাটল সেক্স বাজার। এদের সাথে কিছু রাজনৈতিক লোকজন, ব্যবসায়ী, হোটেল মালিকও জড়িত”, বলে জানালেন দুর্গাপুরের গোয়েন্দা পুলিশের এক অফিসার।
সিটি সেন্টারের কিছু বাড়ি, আবাসনের ফ্ল্যাট, বিধান নগরের কাছাকাছি নতুন গজিয়ে ওঠা আবাসন গুলিতে ঘর ভাড়া করে সেক্স বাজার চলছে বেশ সু কৌশলে। বিশেষতঃ সিটি সেন্টারের অম্বুজা কলোনী, স্টিল টাউনসীপ লাগোওয়া সেপকো কলোনীর নির্জন রাস্তার ফাঁকা বাড়ি গুলি এই কারবারের মাসি, ফড়েদের পছন্দ বেশি।
গত নভেম্বরে, একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কলকাতা ও দক্ষিন শহরতলির কিছু জায়গায় টানা সমীক্ষার পর একটি তদন্ত রিপোর্ট পুলিশের কাছে জমা দেয়। তাতে কলকাতা, বারুইপুর পুলিশ নড়ে চড়ে বসে। ওই সংস্থার রিপোর্টে জানা যায়, কলকাতার বেশ কিছু জায়গায় ও দক্ষিন শহরতলির বেশ কিছু আবাসনে কাজের ছুতোয় মফঃস্বল থেকে কিশোরীদের এনে, জোর করে আটকে রেখে দেহ ব্যবসা চালানো হচ্ছিল কয়েক মাস ধরে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার রিপোর্টের পর কলকাতা পুলিশের ‘অ্যান্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং’ বাহিনী বেহালার একটি আবাসন থেকে ১৪ বছরের এক কিশোরী কে উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর কিশোরীটি জানায়, “সংসারের হাল ফেরাতে কাজ খুঁজছিলাম এটা শুনে এক বন্ধুর দাদা আমাকে বেহালার ওই ঘরে কাজের নামে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে। রোজ গড়ে ১০ জন খদ্দের পাঠানো হোত আমার ঘরে”। এ ভাবেই বাটা নগর থেকে উদ্ধার হয় এক কিশোরী, বারুইপুর থেকে উদ্ধার হয় ১৫ ও ১৬ বছরের দুই কিশোরী।
খোদ কলকাতার চিত্রটা যখন এমন, তখন দুর্গাপুর-আসানসোলে কি চলছে, তা সহজেই বোঝা যায়।
“এ সব কাজ কে আরো সহজ করে দিয়েছে অত্যাধুনিক স্মার্ট ফোন আর হোয়াটস অ্যাপের মতো সোস্যাল মিডিয়া। এ সবের ফাঁদে পড়ে নিজের অজান্তে নিজের ছবি আপলোড করে আরো ফেঁসে যাচ্ছে মেয়েরা। ফটোশপ ব্যবহার করে, তাদের মুখের সাথে নগ্ন দেহ জুড়ে দিয়ে, কম বয়সী মেয়েদের কে ব্ল্যাকমেল করে ফাঁসানো হয়”, বলে ওই গোয়েন্দা পুলিশ আধিকারিক জানালেন।
সম্প্রতি সিটি সেন্টারের ৩ টি ম্যাসাজ পার্লারে হানা দিয়ে ১৩ জন দেহ ব্যবসায়ী মেয়ে কে গ্রেপ্তারের পর লাগাতার জেরায় বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে পুলিশের হাতে। ধৃতদের জবানবন্দীতে যে সব নাম পুলিশের হাতে এসেছে, তা নিয়ে নুতুন করে খোঁজ খবরও শুরু হয়েছে। পুলিশের ই এক কর্তা জানান, “কেউ কেউ রাজনৈতিক নেতাদের দিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছিলেন। তবে, তাতে কোনো লাভ হবে না”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here