দুর্গাপুরে সাড়ে তিন বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে দিনভর চলল বিক্ষোভ, রাজনৈতিক চাপানউতোর

0
140

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- দুর্গাপুরে সাড়ে তিন বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তৃণমূল কর্মীর স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার দিনভর চলল রাজনৈতিক চাপানউতোর। অন্যদিকে নিগৃহীতা শিশুর চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে তুমুল বিক্ষোভে দেখাল বিজেপি নেতা কর্মীরা।

দুর্গাপুরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের গোসাঁইনগরের বাসিন্দা নিগৃহীতা শিশুর মায়ের অভিযোগ গতকাল শিশুটি প্রতিবেশী বাবু ঘোষের বাড়িতে খেলতে গিয়েছিল। পরে শিশুটির মা খোঁজ করতে তার ঘরে গেলে তাকে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং মঙ্গলবার রাতেই শিশুটিকে মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করে। যদিও তার অভিযোগ বুধবার দুপুর গড়িয়ে গেলেও তার মেয়ের কোনও চিকিৎসা হয়নি। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন নিগৃহীতা শিশুর আত্মীয় পরিজনরা। তারা হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।
এই খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যায় বিজেপি নেতৃত্ব ও বিজেপি মহিলা মোর্চার সদস্যরা। তারাও নিগৃহীতার পরিবারের সঙ্গে বিক্ষোভে সামিল হন। হাসপাতাল সুপার ডাঃ ধীমান মণ্ডলের চেম্বারেও বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। গোটা ঘটনার জেরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল চত্বরে। শেষে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

বিজেপির জেলা সভাপতি লক্ষণ ঘড়ুই অভিযোগ করেন যেহেতু অভিযুক্ত বাবু ঘোষের স্ত্রী ভগবতী দেবী একজন সক্রিয় তৃণমূল কর্মী তাই তাকে বাঁচাতে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে ডাক্তাররা তৎপর । যৌন নিগ্রহণের প্রমাণ লোপাট করতেই উপযুক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার না করেই ওয়ার্ডে ফেলে রাখা হয়েছে শিশুটিকে। অবিলম্বে তৃণমূল ও হাসপাতাল কর্মীদের এই আঁতাত দূর করার ডাক দেন তিনি।

যদিও হাসপাতালে সুপার ডাঃ ধীমান মণ্ডল চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন,
“প্রাথমিক পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনও প্রমাণ না মেলায় ডাক্তাররা শিশুটির সাধারণ চিকিৎসা শুরু করেছে। চিকিৎসা না করার অভিযোগ মোটেও সত্য নয়। তবে বিষয়টি নিয়ে একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হবে, যারা যথাযথভাবে পরীক্ষা করে রিপোর্ট দেবে। তার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে বিজেপির এদিনের বিক্ষোভকে দাদালি বলে তোপ দাগেন তৃণমূল নেতা উত্তম মুখার্জি। তিনি বলেন,“যদি ধর্ষণের ঘটনা হয়ে থাকে তবে আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। কিন্তু বিজেপিকে হাসপাতালে ঢুকে দালালি করতে কে বলেছে”। পাশাপাশি এই ঘটনার সাথে তৃণমূলের কেউ জড়িত নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

এর পাশাপাশি অভিযুক্ত বাবু ঘোষকে এদিন গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here