শহীদের তকমা পাওয়া তৃণমূল কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের দিন কাটছে চরম দুর্দশায়

0
274

শান্তনু পান, পশ্চিম মেদিনীপুরঃ- বাম আমলে হার্মাদদের গুলিতে প্রাণ দেওয়া তৃণমূলের শহীদ পরিবারগুলির অবস্থা ২০ বছর পরও অথৈজলে। কেউ খোঁজ নেয়না, এমনই আক্ষেপের সুর শহীদের তকমা পাওয়া তৃণমূল কর্মীর পরিবারের গলায়।

২১ জুলাই শহীদ দিবসের মুহূর্তে এমনই করুণ ছবি উঠে এল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা ২ ব্লকের ভালুককুন্ডু গ্রামের এক শহীদ পরিবারের। ঘটনা প্রসঙ্গে সালটা ২০০০, তৎকালীন সময় জঙ্গলমহল সহ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় সিপিআইএমের শক্ত ঘাঁটি, হার্মাদের দাপাদাপি। সেসময় চন্দ্রকোনা ২ ব্লকের ভালুককুন্ডু গ্রামে তৃণমুলের দাপুটে নেতা রাজু কোটালকে দিনেদুপুরে গুলি করে হত্যা করে সিপিএমের হার্মাদবাহিনী। রাজু কোটাল ছাড়াও ওই এলাকার আরও দুই তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী অভিজিৎ ভুক্তা ও তরুণ মাঝিও একই ঘটনায় হার্মাদের গুলিতে প্রাণ হারান।

২০১১ সালে বাম সরকারের পতন ঘটিয়ে রাজ্যে শাসকের ভূমিকায় আসে তৃণমূল এবং মুখ্যমন্ত্রী হন স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রীমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ সাল থেকে পরপর তিনবার রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরেছে তৃণমূল সরকার। কিন্তু ২০ বছর আগে তৃণমূল করতে গিয়ে গুলিতে প্রাণ দিয়ে শহীদের তকমা পাওয়া পরিবারগুলির অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়নি। বরং রাজনীতি করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়ে বর্তমানে কোনও রকমে দিনকাটছে ওই শহীদ পরিবারের সদস্যদের।

চন্দ্রকোনার ভালুককুন্ডু গ্রামের তৃণমূলের শহীদ রাজু কোটালের বর্তমানে বৃদ্ধ বাবা মা,স্ত্রী পরিবার রয়েছে। কিন্তু মৃত রাজু কোটালের বৃদ্ধ বাবা মায়ের অভিযোগ, “২০ বছর কেটে গেলেও রেশনের চাল, বার্ধক্য ভাতা আর লোকের ঘরে কাজ করে কোনক্রমে দিন কাটছে, কেউ খোঁজ নেয়না আর। সরকারি কোনও সাহায্য বা দলের তরফে কোনও ক্ষতিপূরণও মিলেনি।” অপরদিকে মৃত রাজু কোটালের স্ত্রী, একছেলে রয়েছে এবং তারও বিয়ে হয়ে গিয়েছে কিন্তু সংসার চালানোর কোনও আর্থিক উপার্জনের পথ নেই। শহীদ রাজু কোটালের স্ত্রী ক্ষোভের সুরে বলেন, “মন থেকে রাজনীতি করতে গিয়ে স্বামীর প্রাণ গেছে আর নেতাদের পকেট ভরছে।দলের তরফে বা সরকারি ভাবে কোনও বৃহৎ সুযোগসুবিধা মিলেনি এখনও পর্যন্ত।” প্রতিবছর শহীদ দিবসের দিন তাদের ডেকে নিয়ে গিয়ে একটি করে নতুন কাপড় তুলে দেওয়া হয় ওইটুকুই। “এখন আর ডাকলেও যাইনা” বলে, ক্ষোভ মৃত রাজু কোটালের স্ত্রীর। তবে স্থানীয় নেতারা মাঝেসাঝে খোঁজ খবর বা প্রয়োজনে সহযোগিতা করলেও জেলা বা রাজ্যস্তরে এইসব রাজনৈতিক শহীদ পরিবারগুলির করুণ পরিস্থিতি পরিবর্তনে কোনও হেলদোল নেই।

চন্দ্রকোনার এই তিন শহীদের নামে ওই এলাকায় দলের তরফে শহীদ বেদী তৈরি করা হলেও তাতে শহীদদের নাম টুকুও স্থান পায়নি, অথচ রাজু কোটাল, অভিজিৎ ভুক্তা ও তরুণ মাঝি ২০০০ সালে তৎকালীন বাম আমলে হার্মাদের গুলিতে নিহত হলে ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় এসে তাদের নাম নথিভূক্ত করে এবং রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারানো জেলার শহীদদের তালিকাতেও নাম রয়েছে বলে দলের তরফে জানানো হয়। এবিষয়ে চন্দ্রকোনা ২ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি জগজিৎ সরকার অবশ্য বলেন, “দল দেখেনি এমনটা নই, ওই পরিবারগুলির পাশে থাকার সবরকম প্রচেষ্টা নেওয়া হয়। জেলা মারফৎ আমরা দলনেত্রীর কাছে আবেদন জানাবো যাতে করে বৃহৎ কোনও সুযোগ সুবিধা মেলে।”

২০২৪ লোকসভাকে পাখির চোখ করে বুধবার ২১ জুলাই শহীদ দিবস পালন হল রাজ্যের পাশাপাশি ভিন রাজ্যেতেও, কিন্তু রাজনীতি করতে গিয়ে প্রাণ দেওয়া তৃণমূলের এই শহীদ পরিবারগুলির দিকে দল কবে নজর দেবে? প্রশ্ন পরিবারের সদস্যদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here