করোনা অসুরের রক্তচক্ষুঃ বাইরের কোনও ভক্ত ছাড়াই, ভিড়িঙ্গি শ্মশান কালী মন্দিরে রাম নবমী পুজো পাট

0
2053

অমল মাজি ,দুর্গাপুরঃ- সারা দেশজুড়ে লকডাউন চলছে করোনা আতঙ্কে। গৃহবন্দি রয়েছে কোটি কোটি সাধারণ মানুষ। দেশে সমস্ত মন্দির জনসাধারণের জন্য বন্ধ , তাতেও কোনও খামতি নেই রাম নবমী উৎসবে। করোনা’র রক্তচক্ষুকে তোয়াক্কা না করে নিজগৃহে, মন্দিরে আজ রাম নবমীতে মেতেছে ভক্তরা। প্রতিবছর সারা রাজ্য জুড়ে লক্ষ লক্ষ প্যান্ডেলে ধুমধাম করে হয় বাসন্তী পূজা। এই বছর করোনা -অসুর বিশ্ব ধরাধামে আছড়ে পড়ায় বিগ্ন ঘটে প্রকাশ্যে মা -বাসন্তী পুজোতে।

ভিড়িঙ্গি শ্মশান কালী মন্দিরের সেবায়েত শ্রী সাধন কুমার রায় বলেন , রাম নবমী পুজো ও উৎসব দেশে সর্বত্র হচ্ছে। করোনা অসুরকে জগৎজননী মা ধংস করে জগতের শান্তি প্রতিষ্ঠা করবেন। তিনি বলেন , “আজ রাম নবমী উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এই বছরও ভিড়িঙ্গি কালী মন্দিরে সকাল থেকে হোম ,যজ্ঞ ,চন্ডিপাঠ ,পুজো আচার অনুষ্ঠান সব কিছুই হচ্ছে। হানুমান জী মন্দিরে ধজ্জা প্রতিষ্ঠা করা হয়।” তিনি বলেন , “করোনা জন্য লকডাউন চলার জন্য এখন কালীবাড়ির প্রধান গেট বন্ধ রাখা হয়েছে। মন্দিরের ভেতর সমস্ত পূজারী এবং আমরা সবাই পুজোতে অংশগ্রহণ করছি। বাইরের কেউ কোনও ভক্ত এখন আসছে না।

ভগবান রামের জন্মদিনটি রামনবমী উৎসব রূপে পালন করা হয়। রাম ভগবান বিষ্ণুর সপ্তম অবতার। এই উৎসবটি চৈত্র মাসে নবম দিনে পালিত হয়। এটি সাধারণত মার্চ বা এপ্রিল মাসের মধ্যে হয়। রাম নবমী পালন করার মূল উদ্দেশ্য হল অধর্মকে নিক্ষেপ করে ধর্মকে স্থাপন করা। এই দিনে অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে শুভ শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই উৎসবের দিন সকালে হিন্দুদের আদি দেবতা সূর্য দেবকে জল প্রদান করে, সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী সূর্য দেবতার আশীর্বাদ গ্রহণ করা হয়। রাম নবমী উপলক্ষ্যে ধার্মিক ব্যক্তিরা সমগ্র দিন জুড়ে বৈদিক মন্ত্র পাঠ করেন। সমগ্র দিনজুড়ে ভক্তিমূলক গান গাওয়া, বিভিন্ন হিন্দু ধর্মীয় পুস্তক থেকে পাঠ করে শোনাবার কথা বলা হয়েছে।

এখানে বাসন্তি নবরাত্রিতে শ্রী রাম কে স্মরণ করে ক্রমশঃ চৈত্র শুক্ল পক্ষ্ নবমিতে রাম জন্মোৎসব। অধিষ্ঠাত্রী মা দুর্গার পুজা। পূজা চৈত্রমাসের শুক্ল পক্ষের প্রথম তিথি থেকে শুরু হয়। পশ্চিমবঙ্গে বাসন্তি দুর্গা পুজো সমগ্র দেশে মা দুর্গার পুজার বহুল প্রচলনের সাথে সাথে রাম নবমির উৎসব পালিত হয়। পশ্চিমবাংলায় ও বাসন্তি দুর্গা পুজা এবং রাম নবমি পালিত হয়ে আসছে।

সাধারন মানুষের জন্য দশরথ নন্দন রাজা শ্রীরাম চন্দ্রের বিধান অনুসারে রাম জন্মতিথিকে মাধ্যম করে চৈত্র মাসের শুক্ল পক্ষের প্রতিপদ তিথি থেকে শুরু করে রামনবমী পর্যন্ত ধুম ধাম সহকারে পালিত হয়।

এখন পর্যন্ত বাংলা ও বিহারে ঘরে ঘরে বাসন্তি দুর্গার ব্রত , বাসন্তি পুজার সঙ্গে যথাক্রমে রাম জন্মতিথি এবং রাম বিজয়োৎসব সমগ্র ভারতবর্ষে পালিত হয়।

খবরে ব্যবহৃত ছবিগুলি আজকের তোলা নয় ছবিগুলি সাধারণ দিনের তোলা ছবি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here