দিলীপ ঘোষ ন্যাংটা পশ্চিম পুবের জ্ঞান নেই – সিদ্দিকুল্লাহ

0
513

সংবাদদাতা, বর্ধমান:- আসলে লোকটি খুব ন্যাংটা লোক। ওর পশ্চিম পূর্বের জ্ঞান নেই। নিজেই তাঁর মান নামাচ্ছেন, একজন সাংসদ হয়েছেন এত নিচে নেমে রাখাল বাগালের মত কথা বললে ভাল লাগে? বুধবার বর্ধমানের বিদ্যার্থী ভবন বয়েজ স্কুলে জেলা গ্রন্থমেলার উদ্বোধন করতে এসে এভাবেই বিজেপি সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের মন্তব্য সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, এনআরসি নিয়ে গোটা রাজ্য জুড়ে যে অশান্তি হচ্ছে তা হচ্ছে কিছু লুঙ্গি পড়া লোকের জন্য। আর সেই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই এদিন সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বিজেপি সাংসদকে রাখালের সঙ্গে তুলনা করেন। এদিন এনআরসি নিয়ে দিল্লীতে ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিশী জুলুমের তীব্র নিন্দা করেছেন সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, পুলিশ খুব অন্যায় কাজ করেছে। তিনি বলেন এনআরসি নিয়ে গা জোয়াড়ি হচ্ছে। এভাবে চলবে না। ইতিমধ্যেই ৭-৮টি রাজ্য এগিয়ে এসেছে। সারাভারতবর্ষ জুড়ে প্রতিবাদ হচ্ছে। রবিবার জমিয়তে উলেমায়ে হিন্দের প্রতিবাদ সভা হবে কলকাতায়। কিছু লোক গোলমাল পাকিয়ে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন করার চেষ্টা করছে। তবে যাঁরা খাঁটি মুসলিম তাঁরা এই কাজ করবেন না। সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী এদিন বলেন, বাজারে টুপি কিনতে পাওয়া যায়। সেই টুপি পরে যে কেউ অন্যায় করতেই পারে – তা দেখে কি মুসলিম – অমুসলিম ভাগ করা যায়? কেউ কেউ আবেগে করছেন। কিন্তু সচেতন নাগরিক কেউই একাজ করবেন না। তিনি এদিন জানিয়ে যান, ইতিমধ্যেই কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে এব্যাপারে আলোচনা চলছে। রাজ্য থেকেই এবং তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় সমস্ত কাগজ দিল্লীতে পৌঁছে গেছে। বিজেপি বিরোধী শক্তিগুলি একজোট হয়ে এব্যাপারে বৈঠকে বসতেও চলেছেন। এদিন এই গ্রন্থমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী ছাড়াও হাজির ছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি দেবু টুডু, পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ উত্তম সেনগুপ্ত, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির কর্মাধ্যক্ষ নারায়ণ হাজরা চৌধুরী,অতিরিক্ত জেলাশাসক (শিক্ষা) হুমায়ুন বিশ্বাস প্রমুখরাও। মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী এদিন জানিয়ে যান, একটা সমাজের ভিত হচ্ছে বই। সেই বইকে অস্বীকার করে সমাজ কখনও শিক্ষিত হতে পারে না, উন্নতি করতে পারে না। এদিন তিনি অভিভাবকদের কাছে আবেদন রাখেন, তাঁরা যেন তাঁদের সন্তা্ন সন্ততিদের একটা করে বই কিনে দেন – যা পরবর্তীকালে তাদের হাতিয়ার হয়ে উঠবে। তিনি এদিন জানান, রাজ্য সরকার বই অভিমুখী করে তুলতে নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে বই ধরো, বই পড়ো। এই প্রকল্পের অঙ্গ হিসাবে আগে যেখানে কোনো গ্রন্থাগারের সদস্য হতে গেলে একটি ফি দিতে হত – এবার থেকে তা পুরোপুরি তুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি এদিন জানান, গোটা রাজ্যে নতুন করে ২ লক্ষ ৮১ হাজার গ্রন্থাগারের সদস্য করা হয়েছে গত ৬ মাসে। পূর্ব বর্ধমান জেলায় এই সদস্য সংখ্যা ছিল ৯২ হাজার ২১১ জন। নতুন করে সদস্য হয়েছেন ১২ হাজার ৮১৭ জন। তিনি জানিয়েছেন, পূর্ব বর্ধমান জেলায় গ্রন্থাগারগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন খাতে চলতি বছরে ৮ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী এদিন বলেন, বাম সরকারের তুলনায় ৮ গুণ বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে গ্রন্থাগার দপ্তরের ক্ষেত্রে। রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে ৩৭ থেকে ৩৮ হাজার দুষ্প্রাপ্য বইকে ডিজিটাল করা হয়েছে। এছাড়াও গ্রন্থাগার ব্যবহারের জন্য ৪ ধরণের কার্ড চালু করা হয়েছে। গ্লোবাল কার্ড চালু হয়েছে। যে কার্ডের মাধ্যমে গোটা রাজ্যের যে কোনো গ্রন্থাগারে গিয়েই বই পড়তে বা বই দেখতে পাওয়া যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here