ব্লু-ফিল্মে বিজেপি নেতার গলায় ‘খান্ডা’ , নির্বাচন কমিশনে গেল শিখ গুরুদ্বোয়ারা কমিটি

0
1154

মনোজ সিংহ, দুর্গাপুরঃ- দিল্লি সীমান্তে আন্দোলনরত পাঞ্জাবের চাষীদের ‘দমন’ করতে নাস্তানাবুদ কেন্দ্র। তাই কি এবার সরাসরি ‘শিখ’ ধর্মকেই আঘাত করতে ‘অন্য কৌশল’ নিচ্ছে বিজেপি ?- এ প্রশ্নের জল্পনা উস্কে দিয়েছে বিজেপি’র জেলা স্তরের কিছু নেতারা স্পর্শকাতর অভিযোগের সাপেক্ষে বিষ্ময়কর নিরপেক্ষ থাকায় এবং শিল্পাঞ্চলের গুরুদ্বোয়ারা প্রবন্ধক কমিটির একটি চাঞ্চল্যকর দাবিকে ঘিরেই।

যৌনক্রিয়ারত নীল ছবির নায়ক বিজেপির যুব মোর্চার নেতা জিৎ চক্রবর্তী। এরকমই একটি ৩ মিনিটের ভাইরাল ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে- সঙ্গমের সময় জিতের উলঙ্গ শরীরে দোদুল্যমান খান্ডা। শিখ ধর্মের পবিত্র পাঁচ প্রতীকের একটি হল খান্ডা। নীল ছবির নায়ক -নায়িকা বস্ত্রহীন, অথচ নায়কের গলায় খান্ডার উজ্জ্বল উপস্থিতি কেন? শিল্পাঞ্চলের শিখ ধর্মাবলম্বীরা যৌনক্রিয়ার নিষিদ্ধ নীল ছবিতে খান্ডা’র উজ্জ্বল উপস্থিতিকে ‘বিশেষ ইঙ্গিতবাহ’ বলেই মনে করছেন। নিছক মনে করাই নয়, আহত-বিরক্ত শিখ সংগঠনগুলি বিষয়টি নিয়ে সরাসরি নির্বাচন কমিশন, পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে অভিযুক্ত বিজেপি নেতার গ্রেফতারের দাবি জানানোর পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ তদন্তও চেয়েছেন।

বিষয়টিতে কোনোরকম আপষে নারাজ দুর্গাপুর এবং বার্নপুরের গুরুদ্বোয়ারা প্রবন্ধক কমিটি সাফ জানিয়েছে, “বিজেপি’র ওই নেতা উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে শিখ ধর্মকে খাটো করতেই নোংরা নীলছবি শুট করার সময় গলায় পবিত্র খান্ডা ব্যবহার করেছেন। উনি তো শিখ নন- তাহলে খারাপ কাজে খান্ডাই কেন ব্যবহার করলেন?” তাদের দাবি, “এটি একটি ষড়যন্ত্র। যারা যারা এর সাথে জড়িত তাদের সকলকেই জেলে ভরতে হবে অবিলম্বে।”

জিৎ চক্রবর্তীকে সম্প্রতি দেখা যায় দফায় দফায় দুর্গাপুর (পূর্ব) ও দুর্গাপুর (পশ্চিম)-র দুই বিজেপি প্রার্থী দীপ্তাংশু চৌধুরী ও লক্ষণ ঘোড়ুই-র হয়ে বিভিন্ন মহল্লায় সদর্পে প্রচার করতে। তার নিষিদ্ধ নীল ছবির ফুটেজ ভোটের বাজারে ভাইরাল হতেই, শাক দিয়ে মাছ ঢাকার কায়দায় বিজেপি জিৎকে ‘নিরামিষ’শোকজ করেই হাত ধুয়ে ফেলেছে। তাতে বিতর্ক থামেনি। নিষিদ্ধ কাজে পবিত্র ‘খান্ডা’র ব্যবহার নিয়ে ফুঁসে উঠেছে শিখ সমাজ। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ও আসানসোল-দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনারকে অভিযোগ জমা দিয়েছেন বার্নপুর গুরুদ্বোয়ারা প্রবন্ধক কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুরেন্দ্র সিং। তার বক্তব্য,”ভিডিওতে জ্বল জ্বল করছে পবিত্র খান্ডা। ওরা এটাই বোঝাতে খান্ডা ব্যবহার করেছেন যে শিখেরা এই ধরণের নোংরা কাজেই লিপ্ত থাকেন। এটা করে ওরা শিখদের ধর্মীয় ভাবাবেগে চরম আঘাত করেছেন, যা ক্ষমার অযোগ্য।” দুর্গাপুরের শিরোমনি গুরুদ্বোয়ারার প্রবন্ধক কমিটির সভাপতি জগদীশ সিং বলেন, ” যে কোনো ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করাকেই শিখেরা নোংরা, ঘৃন্য কাজ মনে করেন। ওই ভিডিও তৈরিই করা হেয়েছে আমাদের আঘাত করার জন্য। আমরা বিচার চাই।”

যেহেতু দিল্লির সিংঘু ও তিরকি সীমান্তে আন্দোলনরত চাষীদের নব্বই শতাংশই শিখ সম্প্রদায়ের তাই নীলছবিতে শিখেদের ইচ্ছাকৃতভাবে খাটো দেখাতেই নাকি খান্ডা’র ব্যবহার করা হয়েছে বলে মনে করেন গুরুদ্বোয়ারার প্রবন্ধক কমিটির বরিষ্ঠ সদস্যরা। তবে, নীলছবির ফুটেজটিকে এখন রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করতে চাননা তারা- একথাও তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন।

এদিকে, গোটা ঘটনায় বিজেপি এখনো তার অবস্থান পরিস্কার করেনি। পুলিশও গ্রেফতার করেনি অভিযুক্তকে। বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনের সাংসদ সুরিন্দার সিং আলুওয়ালিয়া বলেন, “বিষয়টা আমি জানি। ও ব্যাপারে যা কিছু বলার বার্নপুরের গুরুদ্বোয়ারা কমিটিই বলবে।” উল্লেখ্য, আলুওয়ালিয়া নিজেও একজন শিখ ধর্মাবলম্বী পরিবারের সদস্য। তিনি বলেন, “এটা পাঞ্জাবী-বাঙালী বিরোধের কোনো বিষয় নয়।” এদিকে, বিষয়টি নিয়ে ভারতে শিখদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কেন্দ্র শিরোমনি আকাল তখতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে শিল্পাঞ্চলের শিখ সংগঠনগুলি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here